সব সাধকের বড় সাধক আমার দেশের চাষা
দেশ মাতারই মুক্তিকামী দেশের সে যে আশা।”
হ্যাঁ, সব সাধকের চেয়ে বড় সাধক হলেন আমার দেশের কৃষক। রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে যে কৃষক শরীরের ঘাম ঝরিয়ে উৎপাদন করেন সোনার ফসল। পুরো জাতি তাকিয়ে থাকে ওই কৃষকের দিকে, যে কৃষকের কারণে অর্থনৈতিক মুক্তি আসে নিজের পরিবারের এবং সমাজের। ফলে বদলে যায় একটি জনপদ, উৎসাহিত হয় আশেপাশের অগণিত মানুষ। এমনই একজন কৃষকের নাম মোঃ নজরুল ইসলাম। যিনি শাক-সবজি চাষাবাদ করে স্বচ্ছলতার সাথে জীবন যাপন করছেন। নিজে বদলে যাওয়ার পাশাপাশি পরিবারে এনেছেন সুখের হাসি।
টাঙ্গাইলে বাসাইল উপজেলার কাউলজানী ইউনিয়নের সুন্না গ্রামের আদর্শ কৃষক মো: নজরুল ইসলাম সামান্য লেখা-পড়া করে সংসারের হাল ধরতে চলেযান বিদেশে। সেখানে কঠোর শ্রমের বিনিময়ে সামান্য আয়ের টাকায় সংসারতো দুরের কথা নিজের খরচ জোগাতেই হিমসিম খেতে হতো তাকে। পরে প্রবাস জীবনের ইতি টেনে চলে আসেন নিজ দেশে। সংসার পরিচালনার তাগিদে বিভিন্ন পথও খুজতে থাকেন । অবশেষে ফলের বাগান করার কথা চিন্তা করেন। সেই সাথে কাজ শুরু করে দেন মো: নজরুল ইসলাম। নদী তীরবর্তী ৩০ শতাংশ জায়গা নিয়েই নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যেতে থাকেন । প্রথমেই চায়না জাতের লিচুর চারা লাগান সে। এর পাশাপাশি মিশ্র সবজির আবাদও করেন নজরুল। এরপর দেশীয় বিভিন্ন প্রকারের আমের চারাও লাগান এই সফল কৃষক ।
ছোটবেলা থেকেই কৃষি কাজের প্রতি প্রচুর দুর্বলতা। কঠোর পরিশ্রম আর দতার কারণেই লিচু চাষে দেখেন সফলতার মুখ। সাথী ফসল হিসেবে নানা জাতের শাক-সবজি চাষ করেন। লাভ হয় প্রত্যাশার চেয়ে বেশি।
তারই ধারাবাহিকতায় সে বর্তমানে বিজলী টমেটোর চাষ করেছেন। এই জাতের টমেটোর বীজের মূল্য অনেক বেশী হলেও ফলন ভালো পাবে বলে মাত্র ৪ গ্রাম বীজ রোপন করে ২২ শতাংশ জায়গায় ৪’শ টমেটোর চারা লাগিয়েছেন।
সরেজমিনে সুন্নায় তার সবজি বাগানে দেখাযায় প্রত্যেকটা টমেটো গাছে প্রচুর পরিমাণে টমেটো এসছে। নজরুল জানায় প্রতিটি গাছে প্রায় ১মন টমেটো আসবে। এতে তার প্রায় লাখ টাকা লাভ হবে বলেও জানায়।
এ বিষয়ে মো: নজরুল ইসলাম টাঙ্গাইলটাইমসকে জানান, বর্তমানে আমি বিজলী জাতের টমেটোর চাষ করেছি এই জাতের টমেটোর বীজের মূল্য প্রতি কেজি ৬ লক্ষ টাকা। আমি মাত্র ৪ গ্রাম বীজ কিনে চারা উঠিয়ে ৪’শ চারা লাগিয়েছি। ফলন ভালো হয়েছে আশা করছি প্রতি গাছে ১মন করে টমেটো আসবে।
এতে আমার প্রায় লাখ টাকার মতো লাভ হবে। আমার বাগান দেখে এলাকার অনেকেই উৎসাহ পাচ্ছে। এলাকার বেকার যুবক ও আমার সমবয়সীরা সবজি চাষের দিকে আগ্রহী হচ্ছে। আমি আদর্শ একজন কৃষক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে চাই। দেশের বেকার যুবকদের যদি সরকার সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে কৃষি কাজে উৎসাহিত করেন তাহলে অসংখ্য বেকার যুবক নিজের ভাগ্য বদলাতে পারবে বলে মনে করেন সফল সবজি চাষি মো: নজরুল ইসলাম।
এ বিষয়ে বাসাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল ফারুক টাঙ্গাইলটাইমসকে জানান, টমেটো একটি লাভ জনক উচ্চ ফলনশীল পুষ্টিকর ও জনপ্রিয় সবজি। এতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ ও সি রয়েছে এবং ক্যান্সার প্রতিরুধক এন্টি অক্সিজেন (নাইকোপিন) রয়েছে। এটি সস্ বানিয়ে বোতলজাত করে সারা বছরের পুষ্টি চাহিদা পূরণ করা যায়, এছাড়াও ফ্রিজে সংরক্ষণ করা যায়। টমটো আবাদ বৃদ্ধিতে আধুনিক কলা কৌশল প্রয়োগ করে ক্ষতিকর ফল ছিদ্র কারী পোকা ধ্বংস করার জন্য সেক্স ফেরোমন ফাঁদের ব্যবস্থা গ্রহণে কৃষক ভাইদের পরামর্শ প্রদান ও উদ্ভুদ্ধ করা হচ্ছে। এতে করে কৃষকের আবাদ ও আয় বাড়বে যা দেশের পুষ্টি চাহিদা দুর করে অর্থনীতিতে ভালো ভুমিকা রাখবে।
টাঙ্গাইলটাইমস