স্বাধীনতার মাস মার্চে ছাত্রলীগের সম্মেলন

Words
488
Reading
3 min
Listen
Play
9y

tangailtimes-6-1-18-1_jpg.jpg

আগামী মার্চে সম্মেলনের প্রস্তুতি ধরে তারিখ ঠিক করতে ছাত্রলীগকে নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই এই নির্দেশ দিয়েছেন। আর এখন পদ না ছাড়লে আওয়ামী লীগে গিয়ে ছাত্রলীগ নেতারা জুনিয়র হয়ে পড়বেন বলেও জানানা কাদের।

শনিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত মিছিলপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কাদের এসব কথা জানান।

সর্বশেষ ২০১৫ সালের ২৬ ও ২৭ জুলাই সাইফুর রহমানকে সভাপতি ও এস এম জাকির হোসাইনকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। গণতন্ত্র অনুযায়ী ছাত্রলীগের কমিটির মেয়াদ দুই বছর। আর ২০১৭ সালের জুলাইয়ে এই কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার কথা ছিল।

এরই মধ্যে সম্মেলনের দাবি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে একটি পক্ষ।

শিক্ষা, শান্তি ও প্রগতি এই তিন মূলমন্ত্র নিয়ে ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল প্রাঙ্গণ থেকে যাত্রা শুরু করে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ। পরে সব ধর্মের মানুষদের জন্য এই সংগঠন উন্মুক্ত করা হয়, নাম হয় ‘পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ’। আর ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন এবং বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় এই সংগঠনের ভূমিকা অপরিসীম।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে সামনে রেখে ছাত্রলীগ এবার ছয় দিনের কর্মসূচি পালন করছে। এর অংশ হিসেবে আজ আনন্দ মিছিল করছে সংগঠনটি। আর এই আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আমি আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেছি। নেত্রীর ইচ্ছা আগামী মার্চে স্বাধীনতার মাসে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সম্মেলন করুক।’

সম্মেলনের প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, আমরা সম্মেলনের দিন নির্ধারণ করে দিতে পারি না। ছাত্রলীগই তাদের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করবে। ছাত্রলীগের নির্বাহী কমিটি সভা ডেকে মার্চের যে কোন একদিন সম্মেলনের জন্য ঘোষণা করবে।’

‘বেজার হওয়ার কিছু নাই। আওয়ামী লীগের তরুণ নেতৃত্ব দরকার। তাই তোমরা যদি এখন সম্মেলন না করো, পদ না ছাড়ো তাহলে আওয়ামী লীগে জুনিয়র হয়ে যাবে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ছাত্রলীগ আজ অনেক বড় সংগঠন হয়েছে। তবে পরিমাণগত দিক দিয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। কোয়ন্টিটির সঙ্গে সঙ্গে কোয়ালিটির দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে’।

‘নিজেরা নিজেদের শত্রু হওয়া বন্ধ করতে হবে। গুটি কয়েক লোকের জন্য সংগঠনের বদনাম হতে পারে না। এটা মেনে নেয়া যায় না। যারা এই অপকর্ম করবে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও সাংগঠনিকসহ আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’

দেশে সুনামির মত মাদক ছড়িয়ে পড়েছে মন্তব্য করে মাদকের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে তরুণদের মধ্যে আন্দোলন গড়ে তোলার নির্দেশও দেন কাদের।

দেশের ভেতরে সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ মোটরসাইকেল জানিয়ে ‘আজ থেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেলে চড়বে না এবং দুই জনের বেশি আরোহীও হওয়া যাবে না।’

‘আজ থেকে ছাত্রলীগের নবতর নির্বাচনী অভিযান শুরু হলো’ জানিয়ে কাদের বলেন, ‘বিএনপিকে পরাজিত করে তারুণ্যের এই নবতর অভিযান শেষ হবে। আরেকবার বিএনপি পরাজিত হবে।’

ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইনের সভাপতিত্বে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন, মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, আব্দুল মান্নান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, অসীম কুমার উকিল, এ কে এম এনামুল হক শামীম, ইসহাক আলী খান পান্না, লিয়াকত শিকদার, নজরুল ইসলাম বাবু, মাহমুদ হাসান রিপন, মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন, এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের পর সোহাগ ও জাকিরের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের আনন্দ মিছিলটি রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন সড়ক ঘুরে করে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কাযালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

স্বাধীনতার মাস মার্চে ছাত্রলীগের সম্মেলন | Ecency