মির্জা মাজহারুল ইসলাম বাংলাদেশের একজন খ্যাতিমান শল্যচিকিৎসক। তিনি ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ সালে টাঙ্গাইলের কালিহাতি উপজেলার আগচারান গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৫২-এর রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করেছিলেন। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের সূচনা পর্ব থেকে তার সংগ্রাম ও সাংগঠনিক তৎপরতা ছিল সর্বব্যাপী।
গত বৃহস্পতিবার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ২১ জনকে একুশে পদকের জন্য মনোনীত করে তালিকা প্রকাশ করেছে। আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদক তুলে দেবেন।
মির্জা মাজহারুল ইসলাম ১ জানুয়ারি ১৯২৭ বাংলাদেশের একজন খ্যতিমান শল্যচিকিৎসক। এছাড়া তিনি বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজে অধ্যাপনা করেছেন। তিনি ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে সালে টাঙ্গাইলের কালিহাতি উপজেলার আগচারান গ্রামে জন্মগ্রহণকরেন। তিনি ১৯৫২-এর রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করেছিলেন। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের সূচনা পর্ব থেকে সংগ্রাম ও সংগঠনিক তৎপরতা ছিল সর্বব্যাপী।
শিক্ষাজীবন
মির্জা মাজহারুল ইসলাম বল্লা করোনেশন উচ্চ বিদ্যালয় এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রথম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন। তিনি ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক, ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা রিপন কলেজ থেকে আইএসসি, ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেন। এছাড়া উচ্চতর অধ্যয়নের লাভের উদ্দেশে ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দে যুক্তরাজ্য যান ।
কর্মজীবন
মির্জা মাজহারুল ইসলাম প্রায় ছয় দশক ধরে শৈল্য চিকিৎসক হিসেবে কাজ করছেন। ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে তিনি অনারারি হাউজ সার্জন হিসেবে ঢাকা মেডিকেল কলেজে কর্মজীবন শুরু করেন , এবং তৎকালীন ই পি এম এস ক্যাডারে ঢাকা মেডিকেল কলেজে যোগদান করেন। ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দে হাউস সার্জন ও ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ,১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দে সহকারী সার্জন: বরিশাল সদর সরকারি হাসপাতাল , ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে সহাকারী সার্জন: ফরিদপুর সদর হামপাতাল ,১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে সহযোগী অধ্যাপক: ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ , ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে প্রফেসর অব সার্জারি ও প্রিন্সিপাল:চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ , প্রফেসর অব সার্জারি:ঢাকা মেডিকেল কলেজ ১৯৮০, এবং ১৯৮৫ সালে প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
এর পর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের উপদেষ্টা হিসেবে কলেজ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন তিনি। মুখ্য উপদেষ্টা: বারডেম সার্জারি বিভাগ( ১৯৯৩বর্তমান), এবং তিনি দু’বার বারডেমের অবৈতনিক মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ কলেজ অব জেনারেল প্র্যাকটিশনারসের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন দীর্ঘ ২০ বছর।
শল্যচিকিৎসা
মির্জা মাজহারুল ইসলাম তার কর্মজীবনে পেপটিক আলসার রোগের ভেগোটমি অ্যান্ড গ্যাস্ট্রো জেজুনস্টমি অপারেশন করেছেন প্রায় ২০ হাজার। পৃথিবীতে আর কোনো শল্যচিকিৎসক এ রোগের এত অপারেশন করতে পারেননি।
ভাষা আন্দোলনে অবদান
মির্জা মাজহারুল ইসলাম এ আন্দোলনে জড়িত হন ১৯৪৭ সালে ভাষা আন্দোলনের সূচনাপর্ব থেকেই। ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভাষা আন্দোলন সংগঠিত করেন। ভাষা আন্দোলনের প্রায় প্রতিটিঘটনায় মেডিকেল কলেজের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। নিজেকে ভাষা আন্দোলনের 'আঁতুড় ঘরের' সাক্ষী বলে দাবি করেন এ ভাষাসৈনিক। ১৯৫২-এর একুশে ফেব্রুয়ারি ছাত্রদের ওপর পুলিশের পামলার পর তিনি হাসপাতালে কর্মরত অবস্থায় অসংখ্য আহত ভাষাকর্মীর অপারেশন করেন।২১ফেব্রুয়ারি যোগ দেন আমতলার জনসভায়। গায়েবি জানাজায় অংশগ্রহণ করেন ২২ফেব্রুয়ারি ।
টাঙ্গাইলটাইমস