"Desh Sewak" পত্রিকা !
09-05-2002
বাংলা অনুবাদঃ
সৌজন্যে :কম্ সূর্য্যকান্ত মিশ্র whats app message !
চিঠি টি গুরমিত কাউর নামে এক 'ডেরা স্বাধ্বী' লিখেছিলো তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী কে !.
আমি এক নির্যাতিতা পঞ্জাব কন্যা ,আমি 'ডেরা সাচা সৌদা' শিরসা হরিয়ানা তে গত পাঁচ বছর ধরে শতাধিক অন্য মহিলার সাথে রোজ 18ঘন্টা সেবাধর্ম পালন করে আসছি ! কিন্তু আমরা ডেরা মহারাজ দ্বারা সব মহিলাই ধর্ষিতা হয়েছি ডেরায় ! আমি এক গ্রাজুয়েট ও আমার পরিবার মহারাজ গুরমিত সিং এর অন্ধ ভক্ত সে কারণে পরিবারের ইচ্ছায় আমি স্বাধ্বী হই ! দু বছর বিশেষ শিক্ষায় আমি মহারাজের বিশেষ সেবিকা হই ! একদিন মহারাজের তলবে তাঁর ঘরে রাত দশটায় প্রথম যাই ! সিঁড়ি দিয়ে উঠে ওঁর ঘরে ঢুকে দেখি উনি রিমোট হাতে টিভি তে 'ব্লু ফিল্ম' দেখছেন ! ওঁর বালিশের পাশে রিভলবার ! আমি ভীত অবাক ও নার্ভাস হয়ে পড়ি , কল্পনা ও করিনি মহারাজ এমন প্রকৃতির ! মহারাজ টিভি অফ করে আমাকে পাশে বসিয়ে এক গেলাস জল দিয়ে বললেন উনি আমাকে আজ তাঁর 'ঘনিষ্ঠ' হবার সুযোগ দিয়েছেন ! এ আমার প্রথম অভিজ্ঞতা, তিনি আমাকে কাছে টেনে নিয়ে বলেন তিনি আমাকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসেন ও আমাকে তাঁকে ভালোবাসার সুযোগ দিতে চান কারণ শিষ্যত্ব বরণের সময় আমি আমি আমার দেহ সম্পত্তি মন প্রাণ তাঁকে সমর্পণ করেছি এবং তিনি তা গ্রহণ ও করেছেন ! আমি প্রতিবাদ করলে তিনি নিজেকে ভগবান বলে দাবী করেন ! আমি ভগবানের এই আচরণ প্রত্যাশা করিনা বলায় উনি বলেন :
- শ্রীকৃষ্ণের 360 গোপীনী ছিলেন যাদের সাথে উনি প্রেমলীলা করতেন , তবুও মানুষ তাঁকে ভগবান মানতেন ! সুতরাং বিস্ময়ের কিছু নেই !
- আমি তোমাকে খুন করে পুঁতে দেবো তোমার পরিবার ও আমার ভক্তরা কোন প্রতিবাদই করবেনা , সব্বাই আমার অন্ধ ভক্ত !
3.পাঞ্জাব হরিয়ানা র মুখ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা আমার ভক্ত ! শ্রদ্ধা করে ও আমার সাহায্য চায় ফলে কোন ব্যবস্থা নিতে তো পারবেই না বরং আমরা তোমার পরিবারের যে কারো চাকরী খেয়ে নেবো ও আমার ভক্তরা তাদের হত্যা করে প্রমাণ লোপাট করে দেবো ! তুমি জানো , ডেরা ম্যানেজার ফকির চাঁদ গুন্ডার হাতে নিহত ও তার রহস্য আজো খোলেনি ! এই ডেরার ডেলি আয় এক কোটি, যা দিয়ে যে কোন নেতা, পুলিশ জজ কেনা যায় !
এরপর মহারাজ তিন বছর ধরে রেপ করছেন , আমার পালা আসে প্রতি 25-30 দিন অন্তর ! এখন বুঝে গেছি , যে মহিলার তলব পড়ে , সে ই ধর্ষিত হয় ! অধিকাংশ মহিলাই এখন 35-40 বছরে পা দিয়ে বিয়ের বয়স পার করে ফেলেছে ! তাদের এই ডেরায় পড়ে থাকা ছাড়া কোন উপায় নেই ! প্রতিটি মহিলাই উচ্চ শিক্ষিতা কিন্তু নরক জীবন যাপন করছে স্রেফ তাদের পরিবারের মহারাজের প্রতি অন্ধবিশ্বাসের জন্যে ! আমরা সাদাবস্ত্র ও মাথায় ফেট্টি পরি , কোন পুরুষের দিকে তাকানোর অধিকার নেই , কথা বলতে হয় 5-10ফুট দূর থেকে ! তাদের দৃষ্টিতে আমরা 'দেবী' , কিন্তু আমরা নরকের জীবনযাপন করি ! পরিবারকে বলি ভালো নেই , পরিবার বলে ভগবানের ডেরা র চে সুখ দুনিয়ায় কোত্থাও নেই ! তারা আরো বলে ডেরার বদ ছোঁয়া আমার উপর পড়ছে তারা 'সত্ গুরু' র স্মরণ নিতে বলে !
আমি এখানে অসহায়, গুরুর আদেশ মানা , একজন আরেকজনের সাথে কথা বলা মানা , সবই মহারাজের আদেশ , অসহ্য !
কোন মহিলা ডেরা সম্পর্কে কোন মন্তব্য করলে ওদের কানে গেলে শাস্তি অনিবার্য ! ভাটিণ্ডার এক মেয়ে প্রতিবাদ করে অন্য শিষ্যাদের নির্যাতনে শিরদাঁড়া ভেঙে শয্যাশায়ী ও তার বাবাকে ডেকে সেবা করিয়ে শাস্তি দেয় !
কুরুক্ষেত্রের একটি মেয়ে আশ্রম থেকে পালিয়ে সব কথা বলায় তার ভাই চাকরি হারায় , আরও মহিলা মনসা ও সাংরুর থেকে , বাড়ি গিয়ে ডেরা সম্পর্কে বলায় গুন্ডারা খুনের হুমকি দিয়ে আসে !
একইভাবে সিরসা হিসার ফতেহবাদ হনুমানগড় মিরাট সব মেয়েদের খারাপ পরিণতি হয়েছে !
নাম প্রকাশ পেলে আমার ও পরিবারের কেউ বাঁচবেনা !
প্রয়োজনে সাংবাদিক টিম পাঠানো , ডেরার স্বাধ্বী দের মেডিকেল টেস্ট করে দেখুক সত্য টা !
প্রমাণ হবে মহারাজ গুরমিত রামরহিম সিং ও তাঁর 'সাচা ডেরা' আমাদের জীবন ধ্বংস করে দিয়েছে !
সেই চিঠির বাংলা অনুবাদ দেবার প্রয়াস করলাম !
প্রচুর শেয়ার করে ফেসবুকে whats app এ এই রামরহিমের মুখোশ ছিঁড়ে কুসংস্কার ও ধর্মের নামে এই ধাপ্পাবাজি র শেকড় উপড়ে ফেলুন !