কামিজে কাজ করার একটা সুবিধা হলো এক দিনের মধ্যেই কাজ শেষ করে ফেলা যায় আর সেটা সাদা হলে তো আরও লাভ! সাদা সারফেসে যেকোনো ধরণের রঙ খুব সহজেই ফুটিয়ে তোলা যায়, সেটা হালকা গোলাপি হোক কিংবা গাঢ় লাল। যার ফলে যেকোনো রঙ নিয়ে কাজ করার স্বাধীনতা পাওয়া যায়। ইচ্ছা মতন সব রঙ বানিয়ে কাজ করার মজাই আলাদা। কাপড়টায় গোল গোল জলছাপ থাকায় ফুলগুলো খুব সুন্দর লাগছিলো! হালকা শেডিং দেয়ায় পর নিজের কাজকে নিজেই বাহবা দিচ্ছিলাম (যদিও আমার সহজে আত্মতৃপ্তি আসে না :3)
যেটা এই জামা করার সময় ছিলো না। অনেক বেগ পোহাতে হয়েছে ওড়নার সাথে মিল রেখে সেইম ডিজাইন আর রঙ আনতে। সাদাটার থেকে এটায় কালার করতে অনেক সমস্যা হচ্ছিল কারণ গাঢ় রঙের কাপড়ে প্রথমে রং বসাতে পারছিলাম না। বুঝে উঠতে সময় লাগার কারণে কিছু ভুল ত্রুটি হয়েছে। বেশ কয়েক জায়গাতেই রঙ কম বেশি হয়ে গিয়ে একদম ছেড়াবেড়া অবস্থা হয়ে গিয়েছিলো। হাতে নতুন নতুন গ্লিটার পাওয়ায় ওই জিনিসও টুকটাক জায়গায় মেরে দিয়েছি। যদিও কমিশনের কাজ, ক্লায়েন্ট খুব কাছের আপু বিধায় আর বকাঝকা করে নাই! কিছুটা অনুতপ্ত হওয়ায় পরে খুব সুন্দর একটা শালে কাজ করে দিয়েছিলাম, ওইটা নিয়ে আরেকদিন পোস্ট হবে!
প্রোফেশনালি এক্রেমিন দিয়ে কাপড়ে করা এইটা ছিলো আমার প্রথম কাজ। একদম নুব হওয়ার পরেও আপু তার দু দুটো জামা কোন সাহসে আমার কাছে বর্গা দিয়েছিলো এখনও ভেবে পাই না। তার অতি উৎসাহের জন্যই কিছু একটা করার সাহস পেয়েছিলাম। আর্টিসের উপর এমন অগাধ ভরসা থাকলে কাজ করে কেমন যেন একটা শান্তির অনুভুতি আসে! এমন দুই একটা আপু থাকলে জীবনে আর কি লাগে!