বলছি ২০০৭/২০০৮ এর কথা।
না, ভয়ঙ্কর যুদ্ধবিমান মিগ্-৩৩ না। এটা এক সময় বহুল প্রচলিত সোশ্যাল মিডিয়া এপ্লিকেশন যার নাম এখন মিগমি।
নোকিয়া তখন তুঙ্গে, নিত্যনতুন ফিচারস সমৃদ্ধ ফোন বাজারে আনছে আর মাথা খারাপ করছে তরুণ-বৃদ্ধ-যুবদের।
সনিও তখন কম যাই না। সাথে আছে এলজি, মটোরোলা, আর রাইসিং ষ্টার স্যামসাঙ।
যাই হোক, আমার ছিল একটি নোকিয়া সিম্বিয়ান অপারেটেড মোবাইল ফোন; ৩২৫০ মডেলের। ইন্টারনেট দুনিয়ায় মূলত পদচারণ তখনই।
বন্ধুদের মাধ্যমে জানতে পারলাম মিগ্-৩৩ এর কথা, সে সময়ের একটি জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া, বিশেষত টেক্সট-চ্যাট এর জন্য খুব ফ্রেন্ডলি।
বিভিন্ন গ্রুপে গ্রুপে ঢুকে পছন্দের মানুষদের সাথে কথা বলা, ইমোজি চালাচালি করা, অন্য রকম মজা ছিল—আর তখন আমাদের মাঝে ফেইসবুক এতটা জনপ্রিয়তা পায়নি।
তারপর মরার উপর খাড়ার ঘাঁ, ফেইসবুক এ তখন মোবাইলে চ্যাট করা যেত না, লাগতো কম্পিউটার যেটা আমার ছিল না তখন।
মিগ্-৩৩ তখন থার্ড-পার্টির কাজ করতো, একাউন্ট সিনক্রোনাইজ করে চ্যাট করা যেত ফেইসবুক বন্ধুদের সাথেও। ব্যাস, আর কে পায়, সারাদিন মিগ্-৩৩।
এ সময় অবশ্য নিমবাজ নামের আরো একটি চ্যাটিং সফটওয়্যার ছিল, যেটাও ভালোই জনপ্রিয় ছিল।
তো, কালের বিবর্তনে মিগ্-৩৩ হারিয়ে ফেললো জনপ্রিয়তা, আমিও ভুলে গেলাম তার কথা।
প্রায় ১১ বছর পর, ২০২০ সালে, ফায়ার পেলাম তাকে। না, মিগ্-৩৩ না, ডিসকোর্ড।
নাম আলাদা, চেহারা আলাদা, তবে মনে করিয়ে দিলো শৈশবকে, পুরাতন স্মৃতি নাড়া দিলো মনকে।
এখানে এসেও দেখলাম সবাই কিভাবে একে অন্যের সাথে মজা করছে, ইমোজি চালাচালি ককরছে, ঠিক যেন সেই মিগ্-৩৩।
আর, খারাপ লাগার মুহূর্তকে ভালো করার জন্য আছে আমাদের @BDCommunity।
বেশিরভাগই বাঙালি, কিছু বিদেশিও আছে দেখা যায়, তবে আন্তরিকতার অভাব নাই।
কিন্তু, আমি ঠিক পেরে উঠি না।পারি না আগের মতো উদ্যোম নিয়ে চ্যাট করতে, সময় যে খুব কম।
অফিস, জার্নি, ক্লান্তি, করোনাকালীন মানসিক চাপ, সব মিলিয়ে হয়ে উঠেনা।
তবে, আমি দেখি, লাইক আ ঘোস্ট।
এই দেখার মাঝেই খুঁজে ফিরি আপনার অতিত সত্তাকে। মনে পড়ে যায় সেই মিগ্-৩৩ দিনগুলোর কথা।
হয়ে যায় নস্টালজিক। এটাও বা কম কিসে?