ঈদ এবং করোনা, সোনায় সোহাগা।

Words
392
Reading
2 min
Listen
Play
5y

এইডস এর ব্যাপারে সচেতনতামূলক স্লোগান ছিল ' বাঁচতে হলে জানতে হবে, ' আর করোনার ক্ষেত্রে হওয়া উচিত ' বাঁচতে হলে শুধু জানলেই হবে না, লুকিয়েও থাকতে হবে।'

কিন্তু হচ্ছেটা কোথায়?

লুকিয়ে থাকা তো দূরের কথা, সম্প্রতি ফেরীতে উঠা নিয়ে যে ছবি মোটামুটি সবার কাছেই পৌঁছে গিয়েছে, সেখানে তো দেখছি উল্টো চিত্র। একেবারে উল্টো। নিচের ছবিটা দেখলেই বোঝা যায় আসলে আমরা ঠিক কতটা উল্টো পথে হাঁটছি।

received_283960996698450.jpeg

শুধু কি এখানে? আরো কত জায়গায় কি হচ্ছে না হচ্ছে তার কতটুকু খবর আমরা রাখি বা রাখতে পারি?

এই যেমন ধরেন, আমি নিজেই একটা জ্যান্ত উদাহরণ। করনার বিধিনিষেধ যখন তুঙ্গে, তখন আমি দিব্যি বাস এ করে বাড়ি চলে আসলাম। নিজে তো নিয়ম ভাঙছি আবার কত মানুষকে দেখলাম নিয়ম ভাঙার জন্য মরিয়া।

সারাদেশে যখন সম্পূর্ণভাবে বাস চলাচল বন্ধ, এমনকি ঢাকার মধ্যেও লোকাল বাস চলছে না, তখনও দিব্যি বাসের টিকিট কেটে চলে আসলাম। দুই সিটে একজন বসা তো দূরে থাক, বনেটে ও বসার জায়গা পাওয়া যাচ্ছিল না।

তবে দেশে যে আইনের প্রয়োগ নেই সেটা বলছি না। কারণ, পথিমধ্যে কত জায়গায় দেখলাম পুলিশ ভাইয়েরা পাহারা দিচ্ছে, বেশ কয়েক জায়গায় আমাদের বাস ও থামালো, সুপারভাইজার চিন্তিত মুখে নেমে কিছুক্ষণ কথা বলার পর পকেট থেকে হাতটা বের করে দায়িত্ত্বরত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে করমর্দন শেষে হাসি মুখে ফিরে এলো, বাস আবার চলা শুরু করলো।

এভাবেই চললো সারা পথ। যতবারই সুপারভাইজার নেমেছেন, করমর্দন শেষে ফিরে এসেছেন হাসি মুখে। বাসে আরো একজন ছিলেন যিনি মূলত ' ম্যানেজ ' ব্যাপারটার সাথে জড়িত ছিলেন। তার নাকি অনেক লম্বা হাত, সন্দেহ নেই, যেভাবে এই কড়াকড়ির মধ্যেই বাস চালু রেখেছেন, তাতে তাকে সমীহ করতেই হয়।

মাঝে মাঝে ভবি, দেশে এত রিসোর্সফুল লোক থাকতে আমরা পিছিয়ে আছি কেনো? হয়তোবা আমার মত মানুষদের কারণে।

তো যাই হোক, মানুষের যে এত ডেসপারেটনেস, এর পিছনে কারণ থাকতেই পারে। যেমন আমি লকডাউন উঠে যাবে ভেবে বাসা ছেড়ে দিয়েছিলাম যেহেতু এখন ওয়ার্ক ফ্রম হোম চলছে। তো, আমাকে একটা উপায় বের করতেই হতো।

এদেরও হয়তোবা কোনো কা কোনো কারণ আছে, না হয় নিছক নাড়ির টানে ঘরে ফেরা। নাড়ির টান বড় টান। আর যদি হয় নারীর টান, তাহলে তো কথাই নেই।

কাকে যেন বলতে শুনলাম, বাড়ি না গেলে বউ চলে যাবে, তখন বউ পাবে কোথায়। বউ কি সরকার দেবে?

তবে হ্যা, সতর্ক যে থাকতেই হয়। না হলে আমাদের প্রিয়জনরাই তো ভুক্তভুগী হবে।

এইযে এত মানুষের ঘরে ফেরা, করোনা কি পারবে নিজেকে সামলে রাখতে? এত এত প্রসপেক্ট এর ভিড়ে করোনা কি পারবে ইনফেকশন ছড়ানোর লোভ থেকে নিজেকে ফিরিয়ে রাখতে?

শুনেছিলাম, আমরা নাকি করোনার চেয়েও শক্তিশালী। তবে তাই হোক।

ঈদ এবং করোনা, সোনায় সোহাগা। | Ecency