নাস্তিক কবি আল-মাহমুদের আস্তিক হওয়ার গল্প
১৯৯৯ সালের শেষ দিনে শাইখ আবুল হাসান আলী নাদভী রহিমাহুল্লাহ মারা যাওয়ার কিছুদিনের মধ্যে বাংলাদেশের প্রসিদ্ধ এক মাদ্রাসায় এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সে সভায় অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মাঝে কবি আল-মাহমুদও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তিনি আলোচনাও রাখেন। তিনি বলেন, ''আমি এমন নাস্তিক ছিলাম যে, বৃষ্টি হলে বলতাম আল্লাহ ... করেছেন।'' [এখানে পুরো বাক্য বলা ঠিক মনে করছি না]
এরপর ১৯৮৪/৯৪ আলী মিয়া রহিমাহুল্লাহ যখন বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন। তিনি সে সময়ের স্মৃতিচারণ করেন, তিনি আস্তিক হওয়ার প্রথম ধাক্কাটা খেয়েছিলেন আবুল হাসান আলী নাদভীর থেকে। শাইখ একদিন পত্রিকার খবর জানতে চাচ্ছিলেন। তো একটি ছেলে তাঁর সামনে ইনকিলাব পত্রিকা ইংরেজিতে পড়ে শুনাচ্ছিল। সে দেখে যাচ্ছিল বাংলা কিন্তু বলে যাচ্ছিল ইংরেজি। তিনি তখন শুধু মাথা নেড়ে যাচ্ছিলেন। তখন কবি সাহেব ভাবলেন এ আবার কেমন হুজুর ইংরেজি পারে! তখন তাঁর সাথে তিনি কথা বলে আরো আশ্চর্য হলেন যে, তিনি ইংরেজি অবলীলায় বলতেও পারেন। বলা
হয়, তিনি এমন ইংরেজি পারতেন যা বাংলাদেশের অনেক ইংরেজি প্রফেসররাও পারবে না। এরপর কবি সাহেব তাঁর কাছে একের পর এক প্রশ্ন করতে লাগলেন। নাস্তিকতা নিয়ে কথা বললেন, তিনি খুব সরলভাবে উত্তর দিয়ে গেলেন। এরপরই কবি আল-মাহমুদ আস্তে আস্তে আস্তিক হওয়া শুরু করলেন। বললেন, ''সে সময়ে মূলত আমার পড়াশোনা অনেক কম ছিল, বুঝে ঘাটতি ছিল।''
এ ঘটনা গতকাল এক আলিম আমাকে শুনাচ্ছিলেন, যিনি স্বশরীরে সে সভায় এ কথা শুনেছিলেন। খুব ভালো লেগেছিল।