তাওহীদ মারা গেছে। ম্রাদাসার ছাত্র তাওহীদ হত্যার বিচার হয়তো হবে না। টুপি পাঞ্জাবি দেখেই হয়তো আমাদের ভেতরের অনেকেই এই শিশুটির ভবিষ্যৎকে বিশেষ একটি গোষ্ঠীর ট্যাগে ফেলে দিয়ে পড়েও দেখতে চাইব না কী হয়েছিল তাওহীদের জীবনে, কী হচ্ছে তাওহীদের মতো ছেলে মেয়েদের জীবনে!
তাওহীদ, বাবা মা'র স্বপ্ন ছিল ছেলেকে হাফেজ বানাবেন। ছোট্ট তাওহিদের ১৮ পাড়া পর্যন্ত কোরআন মুখস্ত।
গত ২৭ ফ্রেব্রুয়ারি তাওহিদকে দেড় পাড়া কোরআন শরিফ পড়তে দেন ওমর ফারুক (রা.) হাফিজিয়া কিন্ডারগার্টেন মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আমিনুল ইসলাম।
তাওহীদ ৭ পৃষ্ঠা মুখস্ত শুনানোর পর বাকিটুকু আর বলতে না পারায় তাঁকে বেত দিয়ে পেটানো শুরু হয় না বাঁহাত, পা, বুকে, পিঠে। এতে তাওহিদের বাম পা,হাত ও বুকের বাম পাশের পাঁজরের হাড় ভেঙে যায়।
ছোট বুকের ভাঙ্গা পাঁজর দিয়ে আরও তিন চারদিন তাওহিদকে ফেলে রাখা হয় মাদ্রাসায়, শেষে অবস্থা বেগতিক দেখে তাওহিদের বাবা মাকে খবর দিয়ে বলা হয় খেলতে গিয়ে ব্যথা পেয়েছে সে। ঢাকা মহাখালী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর রোববার রাতে মারা যায় তাওহীদ।
শিক্ষক নির্যাতনে মারা গেল তাওহীদ।
তাওহীদের জন্য আমাদের কণ্ঠে প্রতিবাদের ঝড় উঠবে না, উঠবে না বিচারের দাবী, শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারের প্রস্তাব।
নির্মম হলেও সত্য তাওহীদদের নিয়ে কথা বলা এ সময়ে ' নট এ কুল আইডিয়া'
তাওহীদেরজন্যআমাদেরকাছেনেই_
কোন_হ্যাশট্যাগ
দশ বছরের শিশু তাওহীদকে আল্লাহ্ বেহেস্ত নসীব করুণ।