জিম্বাবুয়েতে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রবার্ট মুগাবের ক্ষমতাচ্যুতি কিংবা সামরিক বাহিনীর দাবী অনুযায়ী রবার্ট মুগাবের আশেপাশে ঘিরে থাকা দুর্নীতিবাজদের দমন করার উদ্দেশ্যে সামরিক অভিযান নিয়ে অনেকেই কিছু লিখতে বলছেন।
রবার্ট মুগাবে জিম্বাবুয়ের খুবই জনপ্রিয় শাসক ছিলেন। বলা যেতে পারে, নেলসন ম্যান্ডেলার পর আফ্রিকায় তার জনপ্রিয়তা ছিল প্রশ্নাতিত। কিন্তু নেলসন ম্যান্ডেলা জানতেন কোথায় থামতে হবে, যেটা মুগাবে জানতেন না।
ম্যান্ডেলা যেখানে সেটলার সাদাদের জমাদারী বহাল রেখেই দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন, সেখানে মুগাবে জিম্বাবুয়ে থেকে সাদাদের জমিদারী সমূলে উৎপাটন করেছেন। ম্যাণ্ডেলা যেখানে এক মেয়াদ ক্ষমতায় থেকে পরবর্তী নেতৃত্ব তৈরী করে তার হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে রাজনীতি থেকে অবসরে গেছেন, মুগাবে সেখানে ৯৩ বছর বয়সেরও ক্ষমতা আঁকড়ে থেকেছেন।
১৯৯৬ সালে ৭২ বছর বয়সে মুগাবে তার চেয়ে ৪১ বছরের ছোট ৩০ বছর বয়সী গ্রেস'কে বিয়ে করেই সম্ভবত সবচেয়ে বড় ভুলটা করেছিলেন। গ্রেস তার আগের বিবাহিত স্বামীকে তালাক দিয়ে মাত্র কয়েক মাসের মাথায় মুগাবের স্ত্রী হয়ে যান। এবং তারপর ধীরে ধীরে বৃদ্ধ মুগাবেকে সামনে রেখে রাষ্ট্র ক্ষমতার চাবিটি নিজের হাতের মুঠোয় নিতে শুরু করেন।
ইদানিং তিনি প্রকাশ্যেই মুগাবেকে অবজ্ঞা করতে শুরু করেছিলেন এবং দলের নেতৃত্বে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করছিলেন। তার নিজের এবং তাকে ঘিরে থাকা চক্রের দুর্নীতির বিষয়টি সর্বত্র আলোচিত হচ্ছিলো। সর্বশেষ গত ৬ নভেম্বর গ্রেস তার স্বামী মুগাবের ক্ষমতা ব্যবহার করে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট নানগাওয়াকে 'বিশ্বাসঘাতক'তার অভিযোগে বরখাস্ত করেন। এভাবেই তিনি মুগাবে পরবর্তী জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের পথ পরিষ্কার করছিলেন।
কিন্তু মাঝপথে এসে দাঁড়ায় সেনাবাহিনী। দেশটির সেনাপ্রধান অবশ্য কয়েকদিন আগেই মুগাবেকে সতর্ক করেছিলেন, কিন্তু তাতে কাজ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তিনি মুগাবেকে গৃহবন্দি করেছেন। কার্যত মুগাবে রাষ্ট্রক্ষমতা হারিয়েছেন। মুগাবের কোন বিচার না হলেও তার উচ্চাকাঙ্খী স্ত্রী এবং তার দুর্নীতি চক্রের সবার বিচার হবে বলে আমার ধারণা।
বি.দ্র: কেউ যদি আমার এই লেখায় 'নারী বিদ্বেষ' খুঁজে পান, তাহলে তিনি পাকিস্তানের বেনজির ভুট্টোর স্বামী আসিফ আলী জারদারীর বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন।