একটা মেয়ে বয়স খুব একটা বেশিনা।এই যে ধরেন ক্লাশ ফাইভে সবে মাত্র পা দিলো।আর বয়সটা ও সবেমাত্রই দশ বছর।তার পরিবার বলতে শুধু বাবা,মা,ছোট এক ভাই। এখন আরো এক ভাই, বোন হয়েছে তবে তখন ছিলোনা। মেয়েটার নামটা হলো নওরীন।নওরীন এর পরিবার ছোট হলেও জ্ঞান দেওয়ার মতো লোকের সংখ্যা ঢের! এদিকে গেলেও জ্ঞান, ওদিকে গেলেও জ্ঞান অর্থাৎ জ্ঞান দেওয়ার মানুষের কোনো শেষ নেই,অভাব ও নেই।তো এখন মূল গল্পে আসি,
নওরীন সবে মাত্র ক্লাশ ফাইভের নতুন বই নিয়ে বাসায় ঢুকলো।মনে খুব আনন্দ,এক্সাইটমেন্ট আর নতুন বইয়ের ঘ্রাণে মেয়েটার মন খুশিতে হেলেদুলে উঠছে।ঠিক একটু পরেই এক আংকেল বাসায় ঢুকলো আর ঢুকেই বললো, " কিরে নওরীন!!ক্লাশ ফাইভের বই আনছো নাকি?আমার ছেলে তো এইবার সিক্সে উঠলো।জানই তো তোমার ভাইয়া ফাইভে এ প্লাস পাইছে।তুমি কি পাবা? কি মনে হয়?পাবা নাকি?ভাইয়াকে ফোন করিও,কেমনে পরছে জিজ্ঞেস করিও।এরপরের ডাকটা দিলো আম্মুকে," ভাবি নওরীনকে ভালো করে পরান। এতো সোজা না ফাইভে এপ্লাস পাওয়া। " ঠিক সেই মূহুর্তেই নওরীনের মনটা এই এতোটুকু ছোট হয়ে গেলো। বইটা হাতে নিয়েই মনে হলো " এতো কঠিন? " যে যাই হোক।ওই কাহিনী শেষ। এরপর আস্তে আস্তে ক্লাশ ফাইভের পিএসসি পরীক্ষা সামনে এগিয়ে আসছে আর নওরীনের ছোট মনের সঙ্কাটাও বাড়তে লাগলো।
পরীক্ষার আগে পর্যন্ত যে ই বাসায় ঢুকতো তার প্রথম কথাই ছিলো, " নওরীন না এবার পিএসসি দিবে?কি করবে আল্লাহ জানে, আমার অমুক তো এপ্লাস পাইছে।আমার তমুক তো এপ্লাস পাইছে।"আর ছোট নওরীনের পড়ার টেবিলে বসে মনে হতো "হয়তো আমি পারবো!!"এরপর আসলো পিএসসি পরীক্ষার আগের টেস্ট পরীক্ষা। আর তার ফলাফলটাও হলো খুব বেশি বাজে মানে অতিরিক্ত বাজে একদম। টেস্টে নওরীনের মার্কস ছিলো বাংলা তে এ প্লাস,ইংরেজিতে বি,অংকে এ, ধর্মে এ প্লাস,সমাজে এ+, বিজ্ঞানে সি!
বিজ্ঞানে সি গ্রেড!!অংকে এ গ্রেড!! এ কথাটা বা আকর্ষণিয় খবরটি নওরীনের পরিবারের চৌদ্দ গুষ্টি হতে চৌদ্দ মিনিটের বেশি হয়তো লাগেনি।
এরপর নওরীনের আম্মুর ফোনে আসতে থাকলো একের পর এক ফোন!কিছু কিছু উপদেশ আমি একটু লিখছি,
এরপর সবাই ফোন দিয়ে রেজাল্ট শুনে বলতে লাগলো,
আসলে মানুষের আত্মবিশ্বাসটা খুব বড় ব্যাপার।সেই ছোট মনের ছোট আত্মবিশ্বাসটার কথা এখনো মনে পরলে নওরীন মনে মনে হেসে উঠে আর ভাবে পৃথিবীর মানুষেরা খুব অদ্ভুত আর নওরীনের আত্মবিশ্বাসটাও তার কাছে অদ্ভুত।
এখানেই শেষ করছি গল্পটা।আর এটা গল্প হলেও সত্যি আর গল্পের ছোট নওরীনটাই এখনের বড় নওরীন মানে এই আমিই!
যদিও গল্পটা সামান্য তবে এর ভেতরকার উপলব্ধি বা ব্যাপারটা একদম ই স্পেশাল,আমার কাছে স্পেশাল।
দুঃখিত আমার চলমান গল্পের পর্ব আজ লিখিনি।একটু ব্রেক নিলাম আর ভাবলাম আমার জীবনের ছোট একটা গল্প আপনাদের সাথে শেয়ার করি।
ধন্যবাদ সকলে আমার লেখাটি পড়ার জন্য।
লিখাঃ নূসুরা নূর।