মাইর সমাচার

Words
269
Reading
2 min
Listen
Play
4y

আমার জেনারেশন এবং তার আগে বাঙ্গুদেশে বাবা-মায়েরা মাইর ছাড়া লালন-পালন করতে জানতেন না। ওইটাই নর্ম ছিলো এবং অল্প কিছু ক্ষেত্রে যেইখানে ব্যাপারটা টর্চারের মত (এবং এইসব ক্ষেত্র এখনও আছে) সেইসব ছাড়া এই প্রাকটিস খুব যে অসহনীয় বা অভাবিত ছিলো তাও না। আকাম করলে মাইর খাওয়াটা স্বাভাবিক এইটাই আমরা ধরে নিতাম। স্কুলের স্যারদের বলে আসতেন আকাম করলে যেন মাইর দেয়। আমাদের সময় হিন্দু শিক্ষক বেশী ছিলেন, চাপে বেঁচে থাকা সংখ্যালঘু হিন্দুরা পড়াশোনাটা ভালো করতেন, ভালো শিক্ষক হতেন। এখনকার মত তাঁরা ছাত্র পড়ানোর জন্যে জেইলখানায় যাওয়া তো দূরে থাক, উল্টো আকাম করলেই বেতাইতেন। আমার প্রিয় শিক্ষকের কাছে বেতের বাড়ি খেয়েছি অনেক, তাঁর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ কমেনি। খুব ভালো পড়াতেন, বোঝাতেন।

বাসায়ও মার কম খেতাম না। কাঁচের বাটি বা অন্য আসবাবপত্র ভেঙ্গে গেলে যদিও মা তেমন কিছু বলতো না, তবে যে অপরাধবোধ হতো, তাতেই মিইয়ে যেতাম। পরীক্ষায় ফেল তো অনেক দূরের পথ, স্কুলে দশের ভেতর না থাকতে পেরেও মার খেয়েছি। ক্লাস ফোরে ৫ম হলুম, সেবারও মার খেয়েছিলাম। কেবল ক্লাস ফাইভে ফার্স্ট হয়ে মাইরের হাত থেকে বেঁচেছিলাম! তবে ডাউনহিল হয় হাই স্কুল থেকে, ক্লাস সেভেন অংকে ফেল করলাম। আরে কী মাইর! এইবার বাপ-মা দুইজন মিলে।

আমি অবশ্য পড়াশোনার প্রতি মনোযোগী ছিলাম না, বই পড়ার বাতিক হাই স্কুল থেকেই জাগে। আমি খেলতে যাওয়ার জন্যে মাইর খাই নাই, খাইছি অতিরিক্ত 'আউটবই' পড়ার জন্যে। ছোটভাইয়ের সাথেও মারপিট লেগেই থাকতো, ঐ সুবাদেও মোটামুটি বেদম মার খেয়েছি। শাক-সবজি খেতে না চাইলেও ওই বাবদ মার খাইনি তেমন, এখনও শাক-শবজি খাই না। নিউট্রিয়েন্টস যা লাগবে, সেগুলো নির্দিষ্ট কিছু সবজি থেকে নিয়ে নিই।

আর যুক্তিমূলক কথা বাবদ মাইর এখনও খাই অবরে-সবরে। এখন আর খারাপ লাগে না। বরং মুখ চেপে কান্না আসে যখন ভাবি একসময় এই মার দেয়ার শক্তি থাকবে না মায়ের।

image.png
Source

divider 1.png

hive format 2.jpg

Hive footer notacinephile.gif

মাইর সমাচার | Ecency