একটি মৃত্যু

Words
406
Reading
2 min
6y
গ্রামের নাম জয়পুরা।শহরের অদূরেই গ্রামটির অবস্থান সাভার উপজেলয়ায়।মফস্বল বলা যেতে পারে।ছোটো ছোটো বাড়িতে বড়ো বড়ো উঠান।উঠানগুলি জোৎস্নারাতে মায়াবি হয়।অর্ধেক ঝাড়ুর ছায়া দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতরো হয়।বর্ষার দিনে যেমন খালি পায়ের চিহ্ন ধারন করে তেমনি শীতের দিনে ছাই এদিক ওদিক ছড়ানো ছেটানো থাকে।গ্রামটির আরেকটি বৈশিষ্ট প্রায় কারোরি চোখ এড়ায় নাহ,ছোটো ছোটো পুকুর ।প্রত্যেক বাড়ির অবস্থান উচুঁতে, কারন লাল এটেঁল মাটিতে কাঁদা হয় প্রচন্ড।পানি যাতে জমে না থাকে সেই কথা মাথায় রেখেই বাড়িগুলো বানানো।প্রত্যেক বাড়ির গা ঘেসে পাকা রাস্তা চলে গেছে ।রাস্তা এবং বাড়ির মাঝখানেই ছোটো ছোটো পুকুরগুলোর অবস্থান।ঘনো শেওলা পড়া সবুজ পানি আর ছোটো মাছের ঝাঁক, এই নিয়েই সকলের বসবাস।

আহাদ তার বাইক স্টার্ট করে বউয়ের কাছে বাজারের ব্যাগ চায়।বঊ তার ভাড়ি লক্ষি।দিনের কোনো সময় মাথায় ঘোমটা ছাড়া থাকে নাহ।আহাদের ভাড়ি রাগ হয় এতে! আবার ভালোও লাগে।রাগ হয় এই ভেবে যে, তার এতো অপোরূপা বউটার রূপ কেউ আজ পর্যন্ত দেখে নি ভালো করে !সুন্দর সম্পদ্কে কে না দেখাতে চায়!অপরদিকে ভালো লাগা কাজ করে এই ভেবে যে, তার বউ শুধু তাকেই তার রূপ দেখায়।এই ছোটো অনুভূতির মাঝেই হয়তো তার প্রতি তার বউয়ের ভালোবাসা লুকিয়ে আছে।এই ভাবনা মাথায় আসলেই তার ঠোটেঁর কোনে হাসির রেশ জ্বলে নেভে। হঠাৎ আচমকা তার ছেলে বাইকের হ্যান্ডেল ধরে ঝুলে পরে "বাবা" "বাবা" আমার জন্য কিন্তু খেজুরের গুড় নিয়ে আসবা!কিন্তু দমকের সুরে আহাদ বলে কতোবার বলেছি তোমাকে বাইকের হ্যান্ডেল ধরে ঝুলবা না ব্যাথা পাবা!চোখ টলটলে করে জিসান তার বাবার দিকে তাকিয়ে থাকে।প্রচন্ড অভিমানে তার কান্না চোখ দিয়ে বেড়িয়ে আসার উপক্রম হয়, সে বোঝে যদি সে মা বলে ঢাকে তাহলে কান্না বেড়িয়ে যাবে।দমকের সুর শুনেই ইশিতা বেরিয়ে আসে ঘর থেকে। মাকে দেখে আজ পর্যন্ত কোনো ছেলে হয়ত অভিমানরতো অবস্থায় না ডেকে পারে নি ।তাই মা বলে ডাকতেই কান্না শুরু করে দেয় জিসান।তুমি তোমার ছেলেকে সামলাও আমি বাজার নিয়ে আসি এই বুঝি বৃষ্টি নামলো।

মাত্র পাঁচ কিলোমিটার পথ সামনেই জয়পুড়া বাজার।তবে তার সমস্ত চিন্তা আকাশের মেঘের ঢাকের সাথে সম্পর্কিত।অনেকদিন পর তার আজ "ছুটির দিন" ছেলে বউ কে নিয়ে কিছু সময় কাটাবে বলে মন স্থির করে রেখেছে সে। বৃষ্টির পূর্বের বাতাসটা তার বুকে ভালোই লাগছে !শার্টের একটা বোতাম খোলাই ছিলো।মন্দ লাগছে নাহ আবাহাওয়া।জ়ীবনের এই মূহুর্তে তার সব কিছুই ঠিক চলছে।মনের অগচরেই আল্লাহ তা'লার নাম মনে পরে তারব্যাগ ভর্তি বাজার নিয়ে ফিরছে সে , এবারের বর্ষায় ভালোই বৃষ্টি হচ্ছে ভিজে চুপচুপে হয়ে গেছে সে।
বাইক উঠানের কিনারে রাখতেই সে লক্ষ করে তার উঠানে মানুষের ভিড় ।এক অজানা ভয়ে কেঁপে উঠে তার মন ।জোর গলায় বউকে ডাকে ইশিতা ইশিতা!!

লক্ষ করে তার বউ ভেজা গায়ে সকল লোকের ভিড়ে ঘোমটা ছাড়া পুকুড় পাঁড়ে তার মৃতো ছেলেকে নিয়ে বসে আছে!!!!।

previous post:
(@nirupom.azad/5ejt6p)

একটি মৃত্যু | Ecency