অমিত লাবন্যের সংসার

nilab(31)
Published in
#writing
Words
1876
Reading
9 min
Listen
Play
8y

DQmar3XrHHrjZ3Kte4ErwZwsZcQJaiDv5NvKQXJJDmBgDbA.jpeg
অমিত লাবণ্যের সংসার

  • এই যে মশাই? রাত কত হলো শুনি?
  • আমাকে বলছো?
  • জ্বী আপনাকেই বলছি। আপনাকে ছাড়া আর কাকে বলবো। আমার পাশে আর কে আছে শুনি?
  • তা অবশ্য ঠিক। তোমার পাশে এই মুহুর্তে আমি ছাড়া আর কেইবা আছে। কিংবা আমার পাশে তুমি ছাড়া অন্য কেউ তো নেই। তা কি যেন বলছিলো?
  • বলছিলাম, রাত কত হলো শুনি?
  • কেন, তোমার ঘড়ি নেই।
  • আছে। তবু তোমার কাছেই জানতে চাইছি, রাত কয়টা বাজে খেয়াল আছে?
  • না খেয়াল নেই। আসলে কয়টা বাজে বলো তো লাবণ্য?
  • আমি কেন বলতে যাবো? আমি কি তোমার ঘড়ি?
  • ও তুমি ঘড়ি নও। তাহলে আমাকে কেন জিজ্ঞেস করলে? আমি কি ঘড়ি?
  • উফফফ। অমিত, কেন এতো কথা পেঁচাও বলো তো। প্যাঁচ ছাড়া তুমি কি কোনো কথা বলতে পারো না। ছোটবেলায় কি খুব জিলাপি খেতে?
  • ছোটবেলায় আমি দুধ এবং সিগারেট ছাড়া কিছুই খেতাম না। যাই হোক, রাত এখন একটা।
  • কাল তোমার অফিস আছে না?
  • চাকরি যেহেতু আছে, অফিস তো থাকবেই। কিন্তু তার আগে বলো, এই মাঝ রাত্তিতে ঘড়ি, চাকরি, জিলাপি এইসব জটিল বিষয় নিয়ে কেন কথা বলছো ? বলো তো?
  • মশাই, আপনি ঘুমাবেন না? এত রাত যদি জাগেন, তাহলে কাল অফিস করবে কে শুনি?
  • লাবণ্য, জীবনে তো অনেক ঘুমালাম। এখন একটু জেগে থাকলে ক্ষতি কি? মরার পর তো টানা ঘুমাতে হবে। এক ঘুমে কেয়ামত। মাঝখানে অফিস, ঘড়ি, জিলাপি এইসবের ঝামেলা নেই।
  • এই খবরদার। রাত বিরাতে এইসব অলক্ষুণে কথা বলবে না। বার বার মরার কথা শুনতে ভালো লাগে না। তুমি মরলে আমার কি হবে?
  • কী হবে সঠিক বলতে পারছি না। তবে তুমি আরেকটা বিয়ে করবে এটা আমি নিশ্চিত।
  • ঠিক আছে। আর কথা বলতে হবে না। আমি রেস্ট নিই। তুমি শুয়ে শুয়ে আমার বিয়ে কল্পনা করো। বিয়ের দাওয়াত খাও। পেট ভরে খেও কেমন? বোরহানি কেমন হলো জানিও ...
  • লাবণ্য? এই লাবণ্য ? লাবণ্য?
  • উফফফ। আবার কি হলো?
  • লাবণ্য একটা কথা বলি?
  • না কোনো আজেবাজে কথা আমি শুনতে রাজি না। যদি পারো ভালো কিছু বলো। যেটা শুনে একটু শান্তি পাই। মরা, বিয়ে, এইসব আমি শুনতে পারবো না।
  • লাবণ্য, প্লীজ, শোনো। এতো রেগে যাও কেন? একটা প্রশ্ন ছিলো।
  • বলো।
  • সত্যি করে উত্তর দেবে তো?
  • যদি ভদ্র, গঠনমূলক এবং শান্তিপ্রিয় কোনো প্রশ্ন হয়, তাহলে বলো। উত্তর দেবো।
  • আমার প্রশ্নটা ভদ্র এবং শান্তিপ্রিয়, তবে গঠনমূলক কিনা জানি না। তবু প্লীজ উত্তরটা দাও। জানতে খুব ইচ্ছে করছে।
  • উফফফফফ। খোদা। না জানি কি প্রশ্ন।
  • প্রশ্ন না শুনেই এতো হতাশ হচ্ছো কেন?
  • আচ্ছা বলো।
  • আমি যদি মরে যাই, তাহলে তুমি কি সাদা শাড়ি পড়বে?
  • উফফফফফ। আবার মৃত্যু। এই ছেলেটার আসলেই মৃত্যুবিলাস রয়েছে।
  • প্লীজ বাপ। প্রশ্নের উত্তরটা দাও।
  • হ্যা পড়বো। একদিনের জন্য হলে পড়বো। সাদা শাড়ি।
  • আর ব্লাউজ কি রংয়ের পড়বে? ব্লাউস, পেটিকোট এইগুলি কি রংয়ের হবে? ধরো তুমি সাদা শাড়ি পড়লে, ব্লাউজ পড়লে লাল রংয়ের, তাহলে তো গোটা ব্যাপারটাই কেঁচে যাবে। শোকের আবহ ছাপিয়ে উৎসবের আমেজ চলে আসবে।
  • ওরে অমিত। রাত অনেক হয়েছে না? একটু থামবা? রাত জাগলেই কেন এত পিরিতের কথা তোমার মনে আসে?
  • সারাদিন এত কাজের চাপে থাকি মনা, রাত ছাড়া আসলেই দু দন্ড কথা বলার অবসর হয় না।
  • তোমার অফিসের কী অবস্থা? প্রমোশন কি পাবে?
  • মনে হচ্ছে না। আমি কেমন যেন একটু বোকা টাইপের আছি। সব কাজ আমি নিজে করি, কিন্তু নিজের ঢোলটা ঠিক মতো বাজাতে পারি না। কাজ শেষ করে দেখি, ক্রেডিট অন্য লোকে নিয়ে গেছে। প্রমোশন ওই লোকটারই হবে। আমার না। চাকরি বাকরি সব ছেড়ে দিতে মন চায়। আর ভালো লাগে না।
  • হুমম। চাকরি মানেই এমন।
  • আমি সত্যিই ভাবছি চাকরিটা ছেড়ে দেবো।
  • চাকরি ছেড়ে কী করবে শুনি?
  • সারাদিন শুয়ে শুয়ে তোমার সাথে গল্প করবো।
  • উ রে .. কী প্রেম রে আমার।
  • সত্যি তাই করবো। দেখে নিও। একদিন আমার কোনো চাকরি থাকবে না। কোনো কাজ থাকবে না। কোনো দায়িত্ব থাকবে না। শুধু শুয়ে থাকা। আর তোমার সাথে গল্প করা।
    -ইশশশ কি শখ। শুনতে অবশ্য মন্দ লাগছে না।
  • নিজের কথা তো অনেকক্ষণ বক বক করলাম। তোমার খবর বলো? কী করলে সারাদিন?
  • আর বলো না। সারাদিন আমারও বেশ ধকল গেছে। ডাক্তারের কাছে যেতে হয়েছিলো।
  • সেকি? কেন? এতক্ষণে বলছো এই কথা?
  • আরে ধ্যাত। তেমন কিছু না। হঠাৎ মাথা ঘুরে উঠলো, শরীর কাঁপছিল আর কয়েকদিন থেকে তলপেটে চিনচিন ব্যাথা। তাই ডাক্তারের ওখান থেকে ঢুঁ মেরে আসলাম।
  • এই খবর তুমি আমাকে এখন দিচ্ছো লাবণ্য? কখনকার ঘটনা এটা?
  • সকালের।
  • সকালে ফোন দাও নাই কেন আমাকে? আমাকে কি মানুষ মনে করো না? একটা কিছু যদি হয়ে যেতো।
  • না ইচ্ছে করে তোমাকে বলিনি। অফিসে তুমি দারুন ব্যস্ত থাকো। মিটিংয়ে ছিলে তখন। এজন্য জ্বালাতে আর ইচ্ছে করেনি। অবশ্য তেমন কোনো সমস্যা হলে তোমাকে অবশ্যই জানাতাম।
  • এরপর থেকে ''তেমন কোনও সমস্যা'' হওয়ার আগে জানাবে। মনে থাকবে?
  • মনে থাকবে। জানাবো। কিন্তু জানালে কি হতো অমিত? তুমি কি করতে?
  • তা অবশ্য ঠিক। কীইবা করতে পারতাম আছি। আমার ক্ষমতা অতি সীমিত।
    জানো আমারও মাঝে মাঝে চিন চিন ব্যাথা হয়। পেটে নয়, বুকে।
  • বলো কি? অমিত ডাক্তার দেখাচ্ছো না কেন? ডাক্তার দেখাও। গত মাসে না কোলস্টেরল চেক করালে? ওষুধ খাচ্ছো?
  • সর্বনাশ।
  • কী হলো আবার?
  • ওষুধের কথা বলায় মনে পড়লো। আজকের ওষুধটাই খেতে খেয়াল নেই। যাক গে... খাবো নে পরে।
  • খাবো পরে মানে? ওঠো? এখনই ওঠো।
  • আরে বাবা বললাম তো, পরে খাবো। এখনই কেন উঠতে হবে?
  • ওঠো বলছি।
  • ওরে লাবণ্য, তুমি এত জেদি কেন?
  • আমি জেদি, এটা আমার ইচ্ছা। আমি এমনই। কী করবে আমায়? মেরে ফেলবে? ওঠো বলছি ...
  • উঠছি বাবা।
  • উঠে ওষুধ খাও। তারপর এসে শোও।
  • তোমার সাথে আর পারা যায় না লাবণ্য । পড়েছি লাবণ্যের হাতে, ওষুধ খেতে হবে সাথে।
  • খেয়েছো ওষুধ?
  • হ্যা।
  • থ্যাংক ইউ।
  • শুধু থ্যাংক ইউ?
  • হ্যা, শুধু থ্যাংক ইউ।
  • কোনো উমমা হবে না
  • না স্যার। নো উমমা উমমি।
  • তুমি এতো নিষ্ঠুর কেন ঔাবণ্য? তুমি ক্রমান্বয়ে এমন রুক্ষ, শুষ্ক, প্রাণহীন রমণী হয়ে যাচ্ছো কেন বলো তো?
  • বয়স যে বাড়ছে আমাদের, খেয়াল আছে স্যার আপনার। এখন রুক্ষ, শুষ্ক, প্রাণহীন, রসহীন, এমনকি উমমাহীন হয়ে থাকাই ভালো।
  • তাই বুঝি?
  • হ্যা তাই।
  • আচ্ছা ভাল কথা। ডাক্তারের কাছে যে গেলে, কি বললো ডাক্তার?
  • বললো তেমন কিছু না। গ্যাসের সমস্যা বোধহয় না। গাইনোকোলজিস্ট কনসাল্ট করতে বললো।
  • বলো কি?
  • হুম। খুব চিন্তায় আছি। প্রায়ই মাথা ঘুরাচ্ছে। আর পেটের এই চিনচিনে ব্যাথা ...
  • লাবণ্য...
  • বলো
  • লাবণ্য
  • ওরে বাবা, বলো না ...
  • লাবণ্য ... প্রেগনেন্সি নয় তো।
  • ধ্যাত। খালি উল্টাপাল্টা কথা। প্রেগনেন্সি হলে তোমার কি?
  • আমার কি মানে? আমি তো কিছু করি নাই।
  • উফফফ অমিত। থামবা তুমি?
  • সত্যি প্রেগনেন্সি নয়তো?
  • জানি না।
  • জানি না মানে কি? আমি কিছু করলাম না, জানলাম না, আর তুমি প্রেগনেন্ট হয়ে বসে রইলে, এটা কোনও কথা হলো!!! দেশে কি আইনকানুন কিছু নেই। সমাজ সংসার কি সব উচ্ছন্নে গেলো।
  • হ্যা। সমাজ সংস্কার সব উচ্ছন্নে গেছে। কোনো সমস্যা?
  • বাহ। সাবাস। এই তো আধুনিক নারীর মতো কথা।
  • বাপু ছাড়ো তো এসব। আমার খুব ভয় করছে। চারিদিকে যেরকম ক্যান্সারের কথা শুনি। ভয় হচ্ছে।
  • না লাবণ্য ভয়ের কিছু নেই। এসব কিচ্ছু না। দেখবে তেমন সিরিয়াস কিছুই নয়। ডাক্তাররা ওরকম ভড়কি মাঝে মাঝে দেয়।
  • অমিত, একটা কথা বলি।
  • বলো।
  • কাল আমি গাইনোকোলজিস্টের সাথে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়েছি। আমার কি ইচ্ছে হচ্ছে জানো?
  • কী ইচ্ছে হচ্ছে?
  • যখন ডাক্তার আমাকে দেখবে, তখন তুমি আমার পাশে থাকবে। আমার হাত ধরে থাকবে। পারবে না অমিত?
  • হুমমমমম।
  • হুমমমম মানে কি? দীর্ঘশ্বাস ছাড়লে মনে হয়।
  • এটা দীর্ঘশ্বাস শ্বাস নয় রে লাবণ্য । এটা কষ্টশ্বাস। যদি কোনোভাবে এটা পারতাম, অবশ্যই থাকতাম।
  • থাক আর লেকচার দিতে হবে না। তোমার দীর্ঘশ্বাস, কষ্টশ্বাস, সব শ্বাসের খেতা পুড়ি
  • লাবণ্য, প্লীজ। এমন কেন করো? বোঝো না তুমি? আমার পক্ষে থাকা সম্ভব হলে আমি কি থাকতাম না বলো? আমার কি কষ্ট হয় না? চিন্তা হয় না? আমার কি তোমার হাত ধরে বসে থাকতে ইচ্ছে হয় না?
  • আমি জানি সেটা অমিত। আমি জানি। স্যরি, আমি তোমার মনটা খারাপ করে দিলাম। জানি এটা সম্ভব না তোমার পক্ষে। তবে কেন যে এমন ইচ্ছে হয়। মন মানে না। বুঝেছো?
  • আচ্ছা লাবণ্য গাইনির ডাক্তারের কাছে একটা কথা জিজ্ঞেস করো তো?
  • কি কথা?
  • এই যে বললে মন। এই মনটাই হচ্ছে যত নষ্টের গোড়া। শরীর থেকে এই মনটা যদি অপারেশন করে বের করে ফেলা যেতো, সব ঝামেল্যাটা চুকে যেত। ওই যে অ্যাপেনডিক্সের অপারেশন যেমন হয়, তেমন আর কি। মন রিমুভাল। এটার কোনো দরকারই নেই। মানব সম্প্রদায়ের সকল দুঃখের মূলে আছে এই মন।
  • হা হা হা। ভালই বলেছো। আচ্ছা বলবো ডাক্তারকে। মন অপারেশন করে ফেলে দেবার কোনও কায়দা আছে নাকি?
  • তার আগে জিজ্ঞেস করবে মানুষের মন শরীরের কোন জায়গায় থাকে? জানতে পারলে আমি নিজেই কেটে বের করে নিয়ে আসবো।
  • হুমম, এটাও খুবই ভাল প্রশ্ন অমিত। আমার ধারণা মানুষের মন থাকে বুকে। নইলে বুকের ভেতর এত হাহাকারের কথা কবিরা কেন লিখবেন বলো?
  • আরে ধুর। মেয়েদের মন থাকে বুকে। নইলে ওই জায়গা এত উঁচু হবে ক্যান?
  • ধ্যাত, খালি ফাজলামো।
  • সত্যি লাবণ্য । মেয়েদের মন থাকে বুকে। আর ছেলেদের মন থাকে পেটে। যাকে তোমরা ভুড়ি বলে ভুল করো।
  • চুপ করবা অমিত? আমি আর হাসতে পারছি না। ওফ বাবা। পারো তুমি।
  • লাবণ্য?
  • বলো?
  • আমাকে একটু বুকে নেবে।
  • আসো মনা। আসো। বুকে থাকো।
  • লাবণ্য পাখি, তোমাকে একটা কথা বলি?
  • বলো, তবে আমাকে পাখি ডাকবে না। ওটা নিশুকে ডেকো। তোমার মুখে এই ডাক শুনলে ও খুশি হয়। তোমার পাখি নিশু। আর কেউ না।
  • ওরে লাবণ্য । কেন এমন করো? তোমার আমার কথার মধ্যে কেন নিশুকে টেনে আনো যখন তখন। আমি কী কখনো আমাদের মধ্যে তোমার মাসুদকে টানি। বলো টানি?
  • না। টানো না। সেজন্য ধন্যবাদ অমিত। তবে বলছিলাম কি, তুমি তো নিশুকে ময়না নামে ডাকতে । পাখিকুলের ডাকটা না হয় ওর জন্যই বরাদ্দ থাক। অন্যের ভাগের জিনিস আমি নিতে চাই না বাবা। পাখপাখালি বাদে আমাকে অন্য কিছু ডেকো। এই যেমন গাছ কিংবা পশু নামেও ডাকতে পারো।
  • ধুর। তোমার সাথে কথা বলাই একটা পেইন। তুমি একটা টর্চার। আচ্ছা, মাসুদ তোমাকে কি নামে ডাকে?
  • তোমার মতো মাসুদের এত প্রেম নেই। ও বেশ কাঠখোট্টা। আমার নাম ধরেই ডাকে। বুঝেছো?
  • আচ্ছা ঠিক আছে তাহলে। তোমাকে পাখি নামে ডাকবো না।
  • পশু নামে ডেকো কেমন? গাছও ডাকতে পারো?
  • গাছ খারাপ হয় না। তোমাকে আমি তালগাছ নামে ডাকবো। তুমি তো বেশ লম্বা। তালগাছটা বেশ মানান সই হবে। আমি জোর গলায় বলতেও পারবো। বিচার মানি, কিন্তু তালগাছ আমার।
  • হা হা হা। তাই সই। তালগাছ ডেকো। বেল গাছও ডাকতে পারো।
  • না বেলগাছ ডাকবো না। বেলগাছ রিস্কি জিনিস। ওদিকে আমার মাথার চুলও কমে আসছে। ন্যাড়াদের বেলগাছ তলায় যাওয়া বারণ।
  • তোমার সাথে কথায় পারা বেশ মুশকিল অমিত।
  • না, না। গাছ না। গাছ ঠিক পোষাচ্ছে না। কি নামে ডাকা যায় সেটাই ভাবছি। এক কাজ করছে কেমন হয়, তোমাকে আমি মাছ নামে ডাকি। এটা একটা রেকর্ড হবে। সবাই তো তাদের প্রেমিকাদের পাখি, চাঁদ, তারা এসব নামে ডাকে। গাছ নামে আজ অবদি কেউ কাউকে ডাকে নাই। আমি মাছ নামেই ডাকি। তোমার প্রিয় মাছ কি?
  • চিংড়ি।
  • তাহলে তোমাকে চিংড়ি নামেই ডাকবো।
  • এম্মা। ছি ছি ছি। ধ্যাত। চিংড়ি কোনও ডাক হলো। তোমাকে কিছুই ডাকতে হবে না। তুমি লাবণ্য নামেই ডেকো।
  • আরে রাখো রাখো। তোমার সেকেন্ড ফেবারিট মাছ কোনটা?
  • বলবো না। বলে বিপদে পড়ি আর কি। ধরো বল¬াম, আমার ফেবারিট মাছ বাইম। ওমনি উনি বাইম মাছ ডাকা শুরু করলো। দরকার নেই বাবা।
  • আহা বলো না।
  • কৈ।
  • বাহ। কৈ নামটা কিন্তু বেশ মিষ্টি আছে। বেশ মেজাজী মাছ। পানিতে তোলার পরও জ্যাতা থাকে। অবশ্য কৈ মাছের কাঁটা বেশ ভয়ংকর। ঠিক আছে, তোমাকে আমি কৈ নামেই ডাকবো। কৈ। ও আমার কৈ।
  • উফফ রাখো তো।
  • আচ্ছা কৈ, মাসুদ তোমাকে আদর করে কোনো নামে ডাকে না কেন?
  • জানি না।
  • হুমমম।
  • আচ্ছা অমিত, তুমি নিশুকে ময়না নামে আর ডাকো না কেন?
  • জানি না।
  • কয়টা বাজে অমিত?
  • ভোর পাঁচটা।
  • ঘুমাবে না।
  • হ্যা ঘুমাবো। তোমার কোলে মাথা রেখে ঘুমাই। আমার মাথায় একটু হাত বুলিয়ে দ্ওা কৈ।
  • আসো। আমার কোলে আসো। এবার চোখ বন্ধ করো। আর কোনও কথা না। কোলে মাথা রাখো আরাম করে ঘুমাও।

লাবণ্য তার কোলের উপর ল্যাপটপটা রেখে কিছুক্ষণ বসে থাকে। ফেসবুকের ওই প্রান্ত থেকে অমিতের আর কোনও সাড়া শব্দ পাওয়া যায় না। বোধহয় লগআউট করে ঘুমাতে চলে গেছে।
লাবণ্যের ভার্জিনিয়ার বাসায় এখন সবে সন্ধ্যা নেমেছে। একটু পরেই অন্ধকার হয়ে আসবে চারপাশ। খানিক বাদে মাসুদ ঘরে ফিরবে। লাবণ্যের স্বামী। লাবণ্য ল্যাপটপ আস্তে ধীরে বন্ধ করে। ঢাকায় হয়তো এখন ভোরের আলো ধীরে ধীরে ফুটে উঠছে। অমিত নিশ্চয়ই পা টিপে টিপে বেডরুমে ঢুকে নিশুর পাশে আলতো করে শুয়ে পড়েছে।
লাবণ্য ল্যাপটপ কোলে নিয়ে বসে থাকে। বসে থাকতে তার ভালই লাগে।

অমিত লাবন্যের সংসার | Ecency