#একনারীরবেদনা#
ধনঞ্জয় ঘোষাল।
তারিখঃ --18/09/18
#বিভাগঃ #গদ্য_কবিতা
কোনো একজন নারী
যার অন্তর ছিল ফুলের মতো
ভালোবাসায় ভরা নিষ্পাপ
কলির মতো স্নিগ্ধ; স্বপ্ন দেখতো
প্রতিটি ঘুমের ভেতর
সে স্বাধীন উন্মুক্ত দ্বিধাহীন
জীবনের সপ্ন দেখতো , সে আকাশে
উড়তে চাইতো মুক্ত বিহঙ্গের মতো
দুরন্ত ঈগলের মতো
তার বুকে ভালোবাসা ছিল
মানুষের জন্যে-সমাজের জন্যে।
হয়তো একদিন চেয়েছিল
সব লিখে রেখে যাবে পৃথিবীর
দেয়ালে পর্বতের গায়ে,
অনেক আশা ছিল মনে তার
লিখনি তার মুছে দেবে অগণন
নারীদের অন্তরের অন্তহীন বেদন
যা জমে আছে তাদের বুকে।
তারপর একদিন হঠাৎ --
অধীর বাতাসের মতন
দুরন্ত গতিতে বেরিয়ে গেল
শাখার পাতা কাঁপিয়ে ;
অতিষ্ঠ অন্তর নাড়িয়ে
চলে গেল-অন্তরের বিরুদ্ধে
সে কি গেল ! না, যেতে হলো
পরিবার নীতি সমাজের চাহিদায়
তার অন্তরের কথা শোনার দায়
কেউ নেয়নি ; কারন এ যে
সমাজের কঠোর নিয়ম।
তার স্বপ্ন গুলো কেমন ম্রিয়মান
নিস্তেজ হয়ে শুরু করলো ভাঙ্গতে -- প্রতিদিন ভাঙ্গে তার মন
কোথায় যেন চলে গেছে
আজন্মের ঘুমের স্বপন।
হৃদয় তার ছিঁড়ে বেরিয়ে গেল
সেই সমাজের কঠিন কঠোর
নিয়মের নিগড়ে-হৃদয় বেদনায়
তার ডাগর আঁখি শুধু খুঁজে বেড়ায়
তার দৃঢ় গোপন মনের অভিলাষ
কোথায় নিয়ে গেল তারে
সংসারের বিষের বাতাস!
না কি এক নিঃসীম আঁধারে
বুকে তার বেদনার গান
তবু সেতো বেঁচে ছিল --
কোলাহল ভালোবেসে ;
অবশেষে - তার অন্তরের
গভীর নিনাদ -তার কেড়ে নিল ঘুম
এখন সে নীরব নিঝুম।
এখন মুক্তি চাই বলে
ঘুমের মতো মৃত্যু ফিরিয়ে সে
করে নিল মনস্থির
হৃদয় বিদ্রোহ করে বার বার
আর নয় : বেরুতে হবে
ছেড়ে তার খোলস
অথবা সামাজিক মুখোশ
চোখ জুড়ে বসার আকুল
আহ্বান ;
শোনে নি আর সে কোনোদিন
মধ্যরাতের গান ;
তারপর একদিন হঠাৎ --
অধীর বাতাসের মতন
বয়ে গেল
শাখার পাতা কাঁপিয়ে হৃদয় তার
ছিন্ন ভিন্ন করে বেরিয়ে গেল
অনন্ত আকাশে ।
উখরা : বর্ধমান :
পশ্চিম বাংলা :
ভারত।