পৃথিবীটা অনেক বড় । এখানে বাংলাদেশ অনেক ছোট । আর এর সাথে তুলনা করে আমার গ্রামটি হল দক্ষিণ এশিয়া, বাংলাদেশ, কুমিল্লা জেলার এক খুদ্র অংশ । আর আমি বা আমার অস্তিত্ব এই মহাবিশ্বে ধূলিকনার চেয়ে বেশি কিছু না । আমার মতো ছোট মানুষের বর্ণনা খুব কম কথায় শেষ হয়ে যাবে । খুব সম্প্রতি আমি আমার এক নিকটাত্মীয়ের মাধ্যমে #hive (হাইভ) সম্পর্কে জানতে পারি এবং এখানে ব্লগিং শুরু করতে চাই। তাই আমি আজ আমার নিজের সম্পর্কে কিছু কথা শেয়ার করব।
আমি হাবিবা আক্তার মুক্তা । আমার বয়স ২৫ বছর। আমি এখানে বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলার একটি ছোট্ট গ্রাম থেকে লিখছি। ব্যক্তিগত জীবনে আমি গৃহিণী এবং এক কন্যার মা। বিয়ের পরে আমি একটি সুন্দর পরিবার পেয়েছি। আমার বিশ্ব আমার কন্যা এবং স্বামী। আমি সর্বদা তাদের সেবা করতে ভালবাসি। আমি বাইরে যাওয়া কিংবা ঘুরাঘুরির চেয়ে পারিবারিক কাজে সময় কাটাতে পছন্দ করি। আমি সাধারণত বাড়ির বাইরে যাই না এবং বাড়ির বাইরে যাওয়া পছন্দ করি না। অতএব, আমি আশা করি পরিবারের অন্যান্য কাজ এবং আমার পড়াশোনা শেষ করে এই ব্লগে (হাইভে) কিছুটা সময় ব্যয় করতে সক্ষম হব।
আমার কন্যার ছবি
আমি গ্রামে পড়াশোনা করেছি । এসএসসি পরীক্ষায় এবং তারপরে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করে বর্তমানে আমি বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বাংলা বিষয়ে অনার্সে অধ্যয়নরত রয়েছি। যদিও আমি বাংলা সাহিত্য এবং ব্যাকরণ নিয়ে পড়াশোনা করেছি, সাহিত্যের প্রতি আমার কখনই আগ্রহ ছিল না। সাহিত্য আর আমি কেমন জানি বেমানান । আমার অনেক বান্ধবী এই বিষয়টি পড়তে উপভোগ করে তবে আমি একাডেমিক হিসেবে সাহিত্য পড়া মোটেও পছন্দ করি না। যারা সাহিত্য পছন্দ করে তাদের জন্য বাংলা বিষয়ে স্নাতক করা অনেক আনন্দের কারন তারা এমন কিছুকে একাডেমিক হিসেবে পাচ্ছে যা অনেকে এমনি ভাললাগা থেকে পড়ে থাকে । অনেকে বলে, সাহিত্য খুব কঠিন বিষয়। আমি আগে বুঝতে পারিনি, এখন আমি পড়াশোনা করতে এসে বুঝতে পেরেছি।
আমি কুমিল্লা শহরের একটি ছোট প্রত্যন্ত গ্রামে বড় হয়েছি। যেহেতু আমি একটি গ্রামে বড় হয়েছি, আমি গ্রামের মেয়ে হিসেবে শহরের কোলাহল বা আধুনিকতা কখনই আমাকে আকৃষ্ট করে না এবং আমারও দেখার ইচ্ছা নেই। টিভি বা মোবাইলে যা দেখেছি তাতে সন্তুষ্ট। আমি গ্রামের পরিবেশে খুব স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি।
আমার প্রিয় ক্রিয়াকলাপগুলির একটি হ'ল টিভি দেখা এবং বাড়িতে সময় কাটানো। আমি খুব ঘরোয়া মেয়ে আসলে মহিলা। আমি কখনই কোনও কাজ করতে বাইরে যেতে পছন্দ করি না । তবে হে, কখনও কখনও, আমি অনুভব করি যে, আমার বাড়ির বাইরে কাজ করার স্বপ্ন থাকা উচিত । কিন্তু পরক্ষনেই আমি ফিরে আসি আমার ইন্ট্রুভার্ট মানসিকতার জন্য। পরিবারের সদস্যদের সেবা করা এবং সহায়তা করা এখন আমার একমাত্র স্বপ্ন। যখন তারা আমার কাজে, সেবায় বা আচরনে খুশি হয় তখন আমি ভাল বোধ করি। আমি নিতান্ত সংসারী এবং হয়তবা অন্য অনেক মেয়ে থেকে আলাদা বা ব্যতিক্রম হতে পারি তবে আমি এরকম পছন্দ নিয়ে থাকতেই ভালবাসি । আমি আমার মায়ের কাছ থেকে এই শিক্ষার সাথে বড় হয়েছি এবং আমি এরকম ঘরকুনো মনোভাব নিয়ে খুব খুশি। আমি মনে করি যে, মেয়েরা জরুরি বা প্রয়োজনীয়তা ছাড়াই ঘরের বাইরে কাজ করাই দরকার নেই। প্রয়োজন হলে অবশ্যই করবে। আমার মনে হয়, যারা বাইরে কাজ করে তারা বেশিরভাগ সময় পরিবারের সদস্যদের সাথে ভাল সময় কাটাতে পারে না যেমনটি আমরা যারা ঘরে থেকে সময় কাটাই। টিভি দেখে বা আমার মোবাইল ফোনে কিছু নাটক দেখে আমি পুলকিত বোধ করি। কেবল আমার মহিলা কলেজের বান্ধবীদের সাথে আড্ডা দিতেই আমি ভালবাসি। আমি আমার পরিবার এবং কলেজ বান্ধবীদের সাথে সময় কাটানো খুব উপভোগ করি। আমি মহিলাদের কলেজে পড়েছি, তাই আমার সমস্ত সহপাঠি মহিলা। তারা খুব হাসিখুশি। আমি তাদের সাথে কলেজে খুব উপভোগ করি। আমার ছোট ভাইবোনদের সাথে সময় কাটানো আমার জন্য সবচেয়ে সুখের মুহূর্ত এবং আমি আমার বাবা-মাকে দেখাশোনা করতে এবং তাদের সাথে প্রচুর সময় কাটাতে চাই। আমার স্বামী, মেয়ে ও সংসারই আমার জীবন, শুধু জীবন নয় বরং এক জীবন।