নদী আমাদের ও অন্যদের

Words
774
Reading
4 min
5y

আসসালামু আলাইকুম




হ্যালো..!!
প্রিয় বন্ধুরা,
আমি mubdi@mubdi 🇧🇩বাংলাদেশ থেকে।


  • আজ বৃস্পতিবার
  • ১৬ই ডিসেম্বর ২০২১


নদী আমাদের ও অন্যদের


img_0.055760674922285654.jpg

ছবির উৎস

  • যারা লেখাপড়ার সুযোগ পায় তারা সবাই ছোটোবেলায় বইয়ে পড়ে, " বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। এর ভিতর দিয়ে জালের মতো প্রবাহিত হয়েছে ছোটোবড় অনেক নদী। " ওই পড়ার মধ্যেই আমরা সাঁতার কাটি। বড় হলে দেখি নদী অনেক ঝামেলার। আষাঢ়- শ্রাবণ মাস না আসতেই নদী-বিধৌত এলাকাসমূহ ডুবে যায় পানিতে। ধনীলোকের ছেলেরা বড় নৌকা ভাড়া করে পানিময় এলাকায় পিকনিক করে আর গরীব লোকরা অভাবের সাথে পাল্লা দিয়ে দিন গোণে কবে পানি শুকিয়ে যাবে। বন্যার থৈ থৈ পানি শুকালে খালেবিলে কিছু মাছ পাওয়া যায় কিন্তু যে পরিমাণ আবাদ নষ্ট হয় তাতে ওই মাছ দিয়ে পোষায় না।

  • বেশিরভাগ নদীর উৎসমুখ ভারতে হওয়ায় নদী নিয়ে আমাদের যে কোনো পরিকল্পনার আগে হিসাব অন্যদেশ ভারত। কোন সময় কোন দিকে পানি কমবেশি প্রবাহিত হবে তার সুইচ আমাদের হাতে নাই। তাই অনেকে এসব কঠিনচিন্তা বাদ দিয়ে এরই মধ্যে নদী অভিধান, বাংলাদেশের নদ-নদী এসব নামে বই-পুস্তক রচনা করেছেন। সেগুলো দেখে অন্তরে একটা শান্তনা পেয়েছি, 'যাক, এখন ঘরে বসে নদীগুলোর নাম এবং এটাওটা সম্পর্কে বই পড়ে জানা যাবে। কোন নদী কোথায়, কখন সেটাতে পানি থাকে, না থাকে এসব খোঁজাখুঁজি না করে সবকিছু বইয়ে পাওয়া যাবে।'

  • বাস্তবতাও এখন অনেকটা সেরকম। অনেক নদীই হারিয়ে গেছে। এইসব বইয়ে একদিন নদীগুলোকে পাওয়া যাবে।

  • ব্রহ্মপুত্রকে দেখতে দেখতে বড় হলাম। সে নদীর কোন শাখা কোন দিকে, কি সমাচার তার কোনো কূলকিনারা নেই। নদীর যখন যেদিক ইচ্ছে যায় আবার ভালো না লাগলে আরেকদিকে চলে। গোটা নদীর মাঝে অজস্র চর। এইসব দেখেই আসছি। সেই আদিকাল থেকে তার যা ইচ্ছে করেই যাচ্ছে। নদী এলাকা সংশ্লিষ্ট সকল জনপ্রতিনিধিরা প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা কন্ট্রাক্ট পায় পাড় বাঁধানোর জন্য। বিশাল নদীর এপারে ওপারে এক মাইলে ৫/৬ টা ২০/৩০ কেজির বোল্ডারও প্রত্যেক বছর ফেলতেও দেখে আসছি। নদী নিয়ে নানা রকম সংগঠন, গবেষণা, বই লেখা ইত্যাদি কারণে বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠায় এখন নাকি নদী শাসনের টেন্ডার শত শত কোটি টাকায় চলে গেছে। ফি বছর এই শাসনের শোষণে কত বাজেট এবং কত টেন্ডার হয়েছে সেসব নিয়ে কেউ বই-পুস্তক লিখেছেন কিনা তা জানিনে। লিখলে সে বইও নিশ্চয় এ ব্যাপারকে আরো গুরুত্বপূর্ণ করে তুলবে।

  • হোয়াংহো নদীকে একসময় বলা হতো চীনের দুঃখ। চীন সেই নদীকে শাসনের দ্বারা এমনভাবে কাজে লাগিয়েছে যে, আজ সেনদী হয়ে গেছে চীন দেশের সুখ।

  • ব্রহ্মপুত্র উত্তরবঙ্গের সুখ না দুখ সেকথা বলা মুষ্কিল। একইভাবে পদ্মা, যমুনা সবই।

  • গোটা আমেরিকায় প্রায় আড়াই শত নদী রয়েছে। এর মধ্যে ৭/৮ টি দীর্ঘতর,যেগুলো আমেরিকা ছাড়াও অন্যদেশের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত, এসব নদীর টুটি কোথাও কেউ চিপে ধরে নাই। প্রতিটি নদী অববাহিকা যেমন নান্দনিক তেমনি সেগুলোর পানিও স্বচ্ছ। নদীময় সুখ পাওয়া যায় নদীর কিনারায়! ইউরোপের ভেতর দিয়েও প্রবাহিত হওয়া শতাধিক নদী বাড়িয়েছে ইউরোপের সৌন্দর্য। পুরো ইউরোপজুড়ে অনেক নদী মিতালি করে টিকে আছে। অনেকেই ইউরোপ-আমেরিকার এসব নদীর সৌন্দর্য স্বচক্ষে দেখেছে অনেকে পড়েছে ফলে দু' চারটিরও সৌন্দর্য বা গুরুত্ব বর্ণনা করা থেকে বিরত থাকলাম।

  • মধ্যপ্রাচ্যের অনেক নদীর নামই আমরা জানি। নজরুলের সেই বিখ্যাত কবিতা ' শাত-ইল আরব ' এর কারণে অনেকে সেনদীর নাম জানে। দজলা, ফোরাত এসব তো আছেই। সেখানকার নদীতে রয়েছে আরো নানা বৈচিত্র্য। যেমন ডেড সী নামে সাগর হলেও সেটা আদতে একটা নদী। এতে পানির উপর শুয়ে মানুষ বইও পড়ে।

  • নীলনদ ছাড়া মিশরের কথা চিন্তাও করা যায় না। মিশরের প্রাচীন সভ্যতা গড়ে উঠেছিল নীলনদকে ঘিরেই। বলা চলে নীদনদ মিশরের জীবন। প্রকৃতি এবং মানুষ বেঁচে আছে এই নদীর দানে। নীলনদের পানি পান করে মানুষ এবং সেই পানি দিয়ে করা হয় চাষাবাদ। প্রতি বছর বর্ষার মৌসুমে নীল নদ দু'পাশের জমিতে 'Black land ' বা কালো পলিমাটির আস্তরণ দেয় যা জমির উর্বরতা বাড়ায়। এ ছাড়াও নীলনদ সেই প্রাচীনকাল থেকে আজ অবধি মধ্যপ্রাচ্যসহ গোটা বিশ্বের সাথে মিশরের বানিজ্য যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। দুনিয়ার যত সভ্যতা সবই গড়ে উঠেছিল নদীকে কেন্দ্র করে।

  • ঢাকাও এক সময় সৌন্দর্যময় ছিল বুড়িগঙ্গার কারণে। আজকের বুড়িগঙ্গার সেই অবস্থা এবং এর পানি তথৈচব। নদী হয়ে উঠতে পারতো আমাদের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। নদীতে চলা কত অত্যাধুনিক যান-বাহন এখন দুনিয়ায় আবিষ্কৃত হয়ে গেছে। অথচ দূর্নীতি ও অপ-ব্যবস্থাপনার কারণে দক্ষিণ বাংলায় নদীতে চলা যান-বাহন ডুবে মারা যায় প্রতিবছর অনেক মানুষ। ওই অঞ্চলে নদীতে মাছ ধরে জীবিকা-নির্বাহ হয় বিরাট-অঙ্কের মানুষের। সেটাও দুঃখের। অন্য কোন কাজ না থাকায় উপায়হীন জেলেদের জীবন অভাব-অনটনে দূর্বিষহ, জেলেদের অবস্থা আজ অবধি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মানদীর মাঝি'উপন্যাসের নায়ক কুবেরের মতো কিংবা অদ্বৈত মল্লবর্মনের 'তিতাস একটি নদীর নাম ' উপন্যাসের মালোপাড়া জেলেদের মতো। অর্থাৎ দরিদ্রতর এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য শিকলে বন্দী। যদিও তিতাস এবং সাগরদাঁড়ি নদী এখন অনেকটা বই-কবিতায়ই উল্লেখ্য। নদীতে মাছ ধরার যন্ত্রপাতি অন্যদেশের জেলেদের চেয়ে নিন্মমানের হওয়ায় এসব মানুষের জীবন-জীবিকা দরিদ্রতর অথচ পেশাটা হতে পারতো আনন্দের এবং স্বাচ্ছন্দ্যের। ক''দিন আগে হয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড়ে ছোটোবড় নদীর কিনারায় পরিকল্পিত বাঁধের অভাবে মানুষ সীমাহীন ক্ষয়-ক্ষতির শিকার হয়। সেসব অঞ্চলের মানুষ আহাজারি করে বলেছে, ' সাহায্য চাইনা বাঁধ চাই। '

  • আমাদের কাছে নদী সেই গানের মধ্যেই রয়ে গেল
    ' সর্বনাশা পদ্মা নদী তোর কাছে শুধাই' কিংবা ' ওরে কর্ণফুলিরে সাক্ষী রাখিলাম তোরে। '


আজ তাহলে এপর্যন্তই। সকলেই ভালো থাকবেন। সকলকে ধন্যবাদ।