আসসালামু আলাইকুম
করোনায় গোটা দুনিয়ার অনেক কিছুই বদলে গেছে। জ্ঞানবিজ্ঞান এবং উন্নতির দিক থেকে যতই পিছিয়ে থাকিনা কেন আমাদেরও অনেক কিছুই বদলানোর বিকল্প নেই। মাক্স পরলে গরম লাগে, মাক্স নিতে ভুলে গেছি এসব সচেতনভাবে এড়িয়ে চলা প্রয়োজন। পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রেখে নিজের ও অন্যের জীবন রক্ষা করা সবার দায়িত্ব এই উপলদ্ধিটা আসা জরুরী।
গত বছর থেকে নানা রূপে করোনার প্রকোপ সারা বিশ্বে চলমান। বাংলাদেশও বিশ্ব ব্যবস্থার সাথে যুক্ত। ফলে বৈশ্বিক পরিস্থিতির ঘাত-প্রতিঘাত বাংলাদেশেও প্রভাব ফেলে। শুরুতে এই ভাইরাসের সাথে কেহই পরিচিত ছিল না। পরিস্থিতি অনুযায়ী সব দেশই নিজেদের সামর্থ অনুযায়ী এর মোকাবেলা করে চলেছে। মানুষের সচেতনতাই এর মোকাবেলার সবচেয়ে বড় অস্ত্র। প্রতিটি দেশ তার নিজস্ব প্রশাসনিক দক্ষতা এবং মানুষের প্রতি সর্বোচ্চ আন্তরিক হয়ে করোনাকে ঠেকানোর চেষ্টা করছে।
মানুষের সাথে মানুষকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে এই ভাইরাস । অথচ মানুষ সামাজিক জীব এটাই এতকাল সবাই জেনে এসেছে। সেই বাক্য আজ পাল্টে গেছে । খুব ঘনিষ্ঠজনও কথা বলে দূরত্ব বজায় রেখে। মুখে মাক্স দিয়ে অস্পষ্টভাবে মনের ভাব প্রকাশ করে। এটাকেই স্বাভাবিক করে নিয়েছে। মাক্স এখন পোশাকেরই অংশ । শরীরের অন্যান্য অঙ্গ ঢাকার ন্যায় নাক-মুখ ঢাকাও এখন একই রকম অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এই রীতি এখন বৈশ্বিক পরিস্থিতির সাথে আমাদেরও মেনে চলার বিকল্প নেই। যুগ যুগ ধরে চলে আসা হ্যান্ডশেক করার অভ্যাসও এখন তিরোহিত। কনুই ছুঁয়ে একে অপরকে আন্তরিকতা দেখায়। এমন আরো অনেক প্রচলিত রীতিই বদলে গেছে। বদলাতে হবে আমাদেরকেও।
ইউরোপ-আমেরিকায় যুগলরা রাস্তাঘাটে চলাফেরা করতেও পরস্পর পরস্পরের প্রতি আন্তরিকতা প্রকাশ করতো। করোনা পরবর্তীতে সেই দৃশ্য এখন নেই। বদলে গেছে । এমনই এক ভয়াবহ মত্যুভয় গোটা বিশ্বকে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে। বাংলাদেশের হাট-বাজার, শহর-বন্দর, বাস-ট্রেনে সব সময় মানুষের গাদাগাদি ভীড়। এমনকি পাড়া-প্রতিবেশিরাও একে-অপরের সাথে কথা বলতে দশজন জড়ো হয়। বাঙালির রাজনৈতিক ঐক্যবদ্ধতা প্রশ্নবিদ্ধ হলেও জটলা পাকানোতে কোনো শক্রতা নেই। এসব এখন আমাদের বদলানোই ভালো।
গত এক বছরে বিভিন্ন বেসরকারী প্রতিষ্টান থেকে অগণিত মানুষ চাকরি হারিয়েছে । ছোটো বড়ো শহরে অল্পপুঁজির নানা ঠিকাদারি, সহায়তাকারী ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ব্যবসা নিঃশেষ হয়ে গেছে । এই সকল প্রতিষ্টানে কাজ করা মানুষ এবং মালিকপক্ষেরও জীবন-জীবিকার টানাপোড়ন চলছে। তাই ভাইরাসের ব্যাপারে সচেতন হয়েও তারা উপায়হীনভাবে বেঁচে থাকার তাগিদে ছোটে। করোনার বিস্তার কিছুদিন কমে যাওয়ায় অনেকে চেষ্টা করেছিল দাঁড়াতে। কিন্তু আবার এই ভয়াবহ প্রকোপে তাদের আশায় গুড়েবালি। বাংলাদেশে ইউরোপ-আমেরিকার মতো বিস্তার না থাকলেও করোনা বিদায় নিয়েছে অনেকেই এরকম ভেবেছিল। কিন্তু সারা বিশ্বের যত রকমের ভেরিয়েন্ট দেখা দিয়েছিল এর সবগুলোর উপস্থিতিই এখন বাংলাদেশে বিদ্যমান। মানুষকে সচেতনভাবে এটির মোকাবেলা করার বিকল্প নেই। প্রত্যেকে নিজে থেকে নিজেকে রক্ষা না করলে কেউ কাউকে রক্ষা করতে পারবে না নির্মম সত্য হচ্ছে এটাই। এখন যে পরিস্থিতি তাতে আরো আন্তরিক এবং দক্ষতার সাথে চিকিৎসাকেন্দ্রে সেবা দিলে আক্রান্তের মধ্য থেকেও অনেক মানুষকে বাঁচানো সম্ভব হবে।