কাজী নজরুল ইসলামের যত নাম

Words
475
Reading
3 min
5y

কাজী নজরুল ইসলামের যত নাম

images (1).jpeg

Source


কাজী নজরুল ইসলাম নামেই আমরা বিদ্রোহী কবিকে চিনি। যদিও তিনি নিজে 'বিদ্রোহী কবি' বলে পরিচিত হতে চাননি । 'বিদ্রোহী' বললে লোকের মনে নাকি অযাথা ভয় সৃষ্টি হয় । তাই এ বারণ। বাল্যকালের দুখু মিয়া নামের সাথে আমরা পরিচিত।
মুজফফর আহমদের কথা দিয়ে শুরু করা যাক, তিনি লিখেছেন,
অধ্যাপক ফকিরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা আগে আমি কোথাও উল্লেখ করি নি। তিনি নজরুলের নিকটে আসতেন, আমাদের সেই ৮/এ, টার্নার স্ট্রীটের বাড়ীতেও যেতেন। তবে হইচই ভালোবাসতেন না এবং কবিতার আবৃত্তি ইত্যাদিতেও থাকতেন না। নজরুলের জন্যে তাঁর কি রকম একটা আত্মীয়-সুলভ ভাব ছিল। কারণ,তাঁর বাড়ি বীরভূম জিলায় হলেও নজরুলদের বাড়ীর ওই অঞ্চলে কোথাও ছিল। তিনি নজরুলকে একদিন বলেছিলেন, তাঁর মা-বাবার বিশ্বাস ছিল যে তিনি একজন ফকিরের আর্শীবাদে জন্মেছেন। এই জন্যে তাঁর নাম রাখা হয়েছে ফকির দাস। নজরুলও তখন তাঁকে বলেছিল, তারও একটা নাম তারাখেপা। তার মায়ের অনেক বছর সন্তান হয়নি ব'লে তিনি তারাপীঠ হতে আর্শীবাদ লাভ করেছিলেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল যে সেই আর্শীবাদেই নজরুল তাঁর কোলে এসেছিল সেই জন্যে নজরুলকে তারাখেপাও ডাকা হতো। অবশ্য নানান রকম আলোচনার ভিতর দিয়ে ফকির বাবু আর নজরুল এই কথাগুলিও বলে ফেলেছিলেন। আমাদের দেশে কত রকম কুসংস্কার যে লোকে বিশ্বাস করেন তার কোনো শেষ নেই। '

সত্যিই শেষ নেই। ক্ষুদিরাম বসুর নাম কেন ক্ষুদিরাম সে গল্প আমরা জানি। সেখানেও একই রকম ব্যাপার। জীবনের শুরুর দিকে ২০/২২ বছর বয়সে জন্ম নিয়ে রহস্য করতে ভালোও লাগে।

নজরুলের পারিবারিক ডাক- নাম হতে পারে নুরু অথবা দুখু মিয়াই। গিরিবালা দেবী তাঁকে নুরু বলে ডাকতেন। অনেককে চিঠিপত্র লিখতেন নজরুল নুরু নামে। যেমন শামসুন্নাহার বেগম ও তাঁর ভাই হবীবুল্লাহ বাহারকে যে চিঠি দেন তার শেষে লিখেছেন ' নুরুদা। ' বিরজাসুন্দরী দেবী তাঁকে ডাকতেন ' নুরু' বলে। বিরজাসুন্দরী দেবীর ছেলে বীরেন্দ্রকুমার সেনগুপ্তকে নজরুল ' যুগবাণী ' বইটি উৎসর্গ করেন। সেখানেও উৎসর্গের নীচে নাম লিখেছেন ' নুরু'। অর্থাৎ নজরুলের নিকনেম ' নুরু' আপনজনদের কাছে সারাজীবনই ছিল এবং নজরুল নিজেও এই ছোটো নামটি বহন করতেন।

গবেষকদের কেউ কেউ বলেছেন, ছোটোবেলায় বাড়ির বাইরের লোকজন তাঁকে 'নজর আলি' বলেও ডাকত।

তবে তাঁর লেখক জীবনের শুরুর দিকে ' নজরুল এসলাম ' নামটি অনেক লেখায় আছে। ' নাজিরুল ইসলাম'ও কোথাও কোথাও আছে। সেনাবাহিনী থেকে কলকাতায় ফেরার পর তিনি পত্র-পত্রিকায় পাঠানো, কবিতা, গান এসবে হাবিলদার উপাধি যোগ করে নিজের নাম লিখতেন। সাহিত্যিক জীবনের শুরুতে যাদের পত্র-পত্রিকা বা প্রকাশনায় লেখা কিংবা বই প্রকাশিত হয় তাদের কাছে নিজের নামের ওজন বাড়াতে এরকম উপাধি ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দেয়। এখন যেমন নানান পেশার নাম নিজের নামের আগে লিখে নামের ওজনের উপর চাপ দিয়ে ভারী বানানোর চেষ্টা দেখা যায় তখনো এটা কিছুটা ছিল বলেই নাসিরুদ্দিনের মতো 'সওগাত'সম্পাদককে বোঝাতে 'হাবিলদার ' লিখতে হয়েছে।

১৯১৯ সালে সেনাবাহিনীতে থাকাবস্থায় তিনি করাচি থেকে যখন কলকাতার পত্র-পত্রিকায় লেখা পাঠাতেন তখনই নিজের নাম লেখেন ' হাবিলদার কাজী নজরুল ইসলাম। '
এরপর কলকাতায় ফিরে নিজেকে কবি-সাহিত্যিক হিসেবে তুলে ধরার প্রাথমিক পর্যায়েও ' হাবিলদার ' যোগ করে নিজের নাম লিখতেন। ধীরে ধীরে হারিদার ছেঁটে কাজী নজরুল স্বরূপে পরিচিত হয়ে ওঠেন। সাহিত্যিক জীবনে তাঁর সেই অমর স্বাক্ষর ' কাজী নজরুল ইসলাম' বাংলা সাহিত্যে' চিরন্তন হয়ে আছে।