Life is a test! পৃথিবীতে এমন কোন মানুষ নাই, যার কোন পরীক্ষা নাই। মায়ের পেটের নিরাপদ ও আরামদায়ক জায়গা থেকে যেদিন টেনেহিঁচড়ে বাচ্চাটাকে বের করা হয়, সেই মুহূর্ত থেকে পরীক্ষা শুরু হয়। তারপর যতটুকু সময় সে দুনিয়াতে থাকবে, সে পরীক্ষা দিয়ে যাবে। যে বাচ্চাটি মাত্র মায়ের দুধ ছেড়ে নরম খাবার খাওয়া শুরু করেছে, এই খাবারে এডজাস্ট হতে পারাটাও তার জন্য একটা পরীক্ষা।
হতদরিদ্র ব্যক্তির জন্য যেমন অর্থকষ্ট পরীক্ষা, stinking rich ব্যক্তির জন্য তেমনি তার অর্থ-সম্পদ পরীক্ষা (যদিও তারা বেশিরভাগই এটাকে পরীক্ষা মনে করে না, মনে করে এটা তাদের প্রাপ্য!)। আমরা প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষার সম্মুখীন হই। ছোট, মাঝারি, বড়, এক্সট্রা লারজ, টু এক্স লারজ, থ্রি এক্স লারজ, ফ্রি সাইজ পরীক্ষা। যখন আমরা বড় বড় পরীক্ষার সম্মুখীন হই [প্রিয়জনের মৃত্যু, দুরারোগ্য ব্যাধি (নিজের বা প্রিয়জনের), এক্সিডেন্টে অঙ্গহানি (নিজের বা প্রিয়জনের), প্রাকৃতিক বা ম্যানমেইড দুর্যোগে সহায়-সম্পদহানী, খ্যাতি-যশ-ক্ষমতা হারানো, রিলেশনশিপে টানাপোড়ন (বাবামা/ভাইবোন/সন্তান/ স্পাউস এর সাথে সম্পর্কের অবনতি), এডিকশন (যে কোন ধরনের এডিকশন যা সুস্থ জীবনযাপনকে বিঘ্নিত করে), ফেইলিউর, ডিপ্রেশন, একাকীত্ব ইত্যাদি], তখন সবার প্রথমে আমরা কি চাই? The first thing we all need is comfort, solace, consolation। যে কোন বিপদে/পরীক্ষার সম্মুখীন হলেই আমরা কারো সাথে কথা বলতে চাই। এমন কেউ যার সাথে কথা বললে মনটা শান্ত হয়, যার সাথে কথা বললে মনে আশার সঞ্চার হয়। পরীক্ষার প্রথম ঝটকাটা লাগার পর পরই আমরা যেটা চাই, সেটা হচ্ছে আশা! এমন কাউকে খুঁজি যে বোঝাতে পারবে, "No matter what you're going through, there's a light at the end of the tunnel; whatever you are going through there has to be some good in it"। এমন কাউকে খুঁজি যে আদর/স্নেহ/মমতা দিয়ে বলবে, "হতাশ হয়ো না, এই দুর্যোগ কেটে যাবে", বা " সবর করো, সব ঠিক যাবে", অথবা "time is a great healer, give time", কিম্বা "you can do it, you are stronger than the trial you are facing, you can get through this, just hold on bit longer"। এখানে ইন্টারেস্টিং বিষয় হচ্ছে, যখন এই comfort, solace, consolation আমাদের ছোট ভাইবোনের কাছ থেকে আসে, তখন আমরা এটাকে বেশী পাত্তা দেই না। কিন্তু একই ধরনের কথা যদি বাবা/মা/বড় ভাই/ বড় বোন/মুরুব্বী স্থানীয় কেউ/ বড় স্কলার বলেন, আমরা অনেক বেশী আশ্বস্তবোধ করি। এটা হিউম্যান সাইকোলজি। সে জন্যই দেখবেন, আমাদের স্পাউসদের কথায় (যত জ্ঞানের কথাই বলুক না কেন) আমরা খুব একটা বেশী আমলে নেই না।
কিন্তু নিজের বাবামা বললে অনেক বেশী কনভিন্স হই। কারণ? Somebody in a position of authority comfort you. Comforting itself is authoritative. এখন মূল কথায় আসি। What is going to comfort you most? একজন বিশ্বাসীর জীবনে কুরআনের অগুনিত ভুমিকার একটি হচ্ছে, কুরআনের বানী তাকে আশ্বস্ত করে, আশার সঞ্চার করে, অন্তরকে প্রশান্ত করে। আল্লাহ্ সুবহান আল্লাহু তায়ালা বলেন , "যারা ঈমান আনে এবং আল্লাহর স্মরণে যাদের চিত্ত প্রশান্ত হয়; জেনে রেখ, আল্লাহর স্মরণেই চিত্ত প্রশান্ত হয়।" [সূরা আর-রাদ ১৩ঃ২৮]। The word of Allah (swt) is going to comfort you! Open up the Quran and you are going to read something; And it is going to bring you comfort exactly regards to your trial!! অনেক বছর আগে, আমার বড়বোনের কাছ থেকে আমি অত্যন্ত চমৎকার একটি প্র্যাকটিস শিখেছিলাম। আজকে সেটা আপনাদের সাথে শেয়ার করি। জীবনে যখনই আপনি কোন পরীক্ষার সম্মুখীন হবেন। দুঃখ/কষ্ট/হতাশা/বেদনা/রাগ/হিংসা/ক্ষোভ/হীনমন্যতা/ প্রতিহিংসা/নিরাশা/বিষণ্ণতা ইত্যাদি ইত্যাদি --- আপনাকে গ্রাস করে ফেলতে চাইবে। সব কিছু, আই রিপিট, সব কিছু ফেলে দিয়ে আপনি কুরআন নিয়ে বসেন। তারপর চোখবন্ধ অবস্থায় র্যান্ডমলি কুরআন খুলুন। এখন চোখ খুলে পড়ে দেখুন। সেই লাইন কিম্বা এর এক দুই লাইনের ভেতরই আপনি আপনার সমস্যার সমাধান খুঁজে পাবেন, ইনশা'আল্লাহ! সমাধান আপনি অবশ্যই খুঁজে পাবেন, সেই সমাধান আপনার হয়ত পছন্দ না হতে পারে, কিন্তু পাবেন, এই বিষয়ে কোন সন্দেহ নাই। তবে, একটা শর্ত আছে: Read with the intention that you looking for Allah (swt) to give you comfort; to give you guidance in your heart. Allah (swt) will only guide you when you come to Quran as a seeker, not as a critic! It will only work for those who seek guidance!! রামাদান হচ্ছে কুরআন নাযিলের মাস। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, "রমযান মাস, যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে মানুষের জন্য হিদায়াতস্বরূপ এবং হিদায়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে মাসটিতে উপস্থিত হবে, সে যেন তাতে সিয়াম পালন করে। .... " [২ঃ১৮৫] এ মাসে মানুষের হেদায়াত ও আলোকবর্তিকা যেমন নাযিল হয়েছে, তেমনি আল্লাহর রহমত হিসেবে এসেছে সিয়াম। তাই এ দুই নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করতে বেশি বেশি করে কোরআন পড়ুন। উপরে উল্লেখিত প্র্যাকটিসটা শুরু করার জন্য রামাদানের চেয়ে ভালো কোন মাস আর হতেই পারে না। তাহলে আর দেরী কেন? একবার চেষ্টা করে দেখুন। শুধু কুরআন হাতে নিয়ে চোখবন্ধ করে বলবেন, "আল্লাহ্ আমাকে দিক নির্দেশনা দেন, আমাকে সান্ত্বনা দেন, আমাকে আশার আলো দেখান, আমাকে সঠিক পথ দেখান"। তারপর চোখ খুলে পড়া শুরু করুন। Then Quran will give you the best comfort. It will become your most trusted companion. And last but not least, the Salah will be your therapy (if you understand what you are saying in Salah)!!
শুভ মাহে রামাদান।
সবাইকে এই পবিত্র দিনগুলির শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আজকের দিন থেকে সবার প্রতিটি দিন হোক আনন্দময়। আসু্ন আমরা সকলে মিলে বেশি বেশি আম্ল করি। আল্লাহ্ আমাদের তাউফিক দান করেন।আমীন।