আমরা বাঙালি জাতি অনেক আবেগপ্রবণ জাতি আমরা স্বপ্ন দেখতে ভালবাসি। স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে ভালবাসি।
যদি কোন কারণে আমরা বাস্তবায়ন না করতে পারি তাহলে অপেক্ষা করি কিন্তু হাল ছাড়ি না। তেমনই একটি স্বপ্ন হচ্ছে আমাদের পদ্মা সেতু। 'পদ্মা সেতু' শুধু একটি সেতুর নাম নয় এখানে জড়িয়ে আছে ১৯ টি জেলা মানুষের ভাগ্য।
আমরা জানি পদ্মাসেতু আমাদের জন্য কি। দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষ ছাড়া অন্য অঞ্চলের মানুষ পদ্মাসেতু কি জিনিস সেটা বুঝবে না। কারণ যারা এসব অঞ্চলের মানুষ যারা আছে তারা জানে শুধু কি জিনিস পদ্মা সেতু তৈরি কতটা প্রয়োজন।
আর এই সেতু দিয়ে আমরা সারা বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারবো। আর সে কাজটি খুব দক্ষতার সাথে আমাদের সরকার করে দেখিয়েছেন। অবশ্যই তারা ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। আমি বারবার কেন আপনাকে বলছি পদ্মা সেতু কি জিনিস সেটা শুধু আমরাই জানি?
কারণ আমরা যারা পদ্মার এ পাড়ের মানুষ তাদের জীবন যে এত দিনে কতটা দুর্বিষহ ছিল তারা যাতায়াতের ক্ষেত্রে যে কতটা কষ্ট সহ্য করেছে এটা আপনি কখনও বুঝবেন না কারণ এটা আমরা জানি আমরা অনুভব করি।
আমি আপনাকে এক টা উদাহরণ দিচ্ছি- আমি যদি খুলনা থেকে সকাল আটটার সময় রওনা দিতাম ঢাকা পৌঁছাতে বিকেল চার টা বাজতো। আর যদি সকালে রওনা দেই তাহলে আমার এখান থেকে দুপুর হবে।
আপনি এই সময় সেটা চিন্তা করতে পারেন যা আমাদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে আমরা যখন ঢাকা শহরে যাওয়ার জন্য চিন্তা করি তখন আমাদের মাথায় রাখতে হয় দুর্যোগের কথা আবহাওয়া কথা ঝড়-বৃষ্টির কথা যদি হয় আমরা ঢাকা যেতে পারবো না।
লঞ্চ চলবে না স্পীড বোটচলবে না আপনি কোন ভাবেই পার হতে পারবেন না। এমনকি যাত্রী নিয়ে কিংবা রোগী নিয়ে পদ্মা ঘাটে এসে ফেরি পার হওয়ার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হতো একটা সময়। এখানে ঘাটে এসো অপেক্ষা করতে করতে এমন দেখা গিয়েছে যে অনেক রোগীর প্রাণ চলে গিয়েছে।
সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি যার কারণে হাজারো বুক খালি হয়েছে সন্তান তার পিতাকে হারিয়েছে মা তাকে হারিয়েছে এরকম অনেক দূর স্বপ্ন গেথে আছে মানুষের হৃদয়।
কিন্তু আজ পদ্মা সেতু হওয়ায় এবং চলাচলের যোগ্য হওয়ায় আজকে থেকে অবাধে যেকোন মানুষ চলাফেরা করতে পারবে পদ্মা সেতুর উপর দিয়ে।
কিন্তু এই পদ্মা সেতু এতো সহজেই গড়ে ওঠেনি। এই সেতু বাস্তবায়ন করতে গিয়ে অনেক ধরনের বাধা বিপত্তি আপত্তি পার করেই অবশেষে আজকের দিনটা দেই দৃশ্যমান হলো।
দেখল সারাদেশ দেখল সারাবিশ্ব কিভাবে বাঙালি জাতি তাদের স্বপ্ন পূরণ করেবিশেষ করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তাঁর দৃঢ় মনোবলের কারণে এটি সম্ভব হয়েছে তারেক সৎ সাহস কে আমি তাকে ধন্যবাদ জানাই ।
এই সেতু দৃশ্যমান হওয়ার পেছনে তারই অবদান সবচেয়ে বেশি কারণ তার অনেক অবদান রয়েছে সেতুটি তৈরি করার পিছনে ।যখন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন দেখেছিল পদ্মা সেতুর এবং সেটা বাস্তবায়ন করার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন
প্রথমে তারা সাড়া দিলেও পরবর্তীকালে তারা সরে দাঁড়ায় তারা পদ্মা সেতু বাস্তবায়নে কোন ধরনের সাহায্য করবে ন।
।বিশেষ করে বিশ্বব্যাংক ও তাদের অবস্থান জানিয়ে দেয় বাংলাদেশকে তারা পদ্মা সেতু তৈরি করাতে কোন ধরনের আর্থিক সহায়তা করবেন না ।
কিন্তু তিনি থেমে থাকেননি ।কিংবা কেউ তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি তার সদিচ্ছায় আজকে পদ্মা সেতু দৃশ্যমান সে নিজের দেশের অর্থায়ন দিয়েই উনি তার স্বপ্ন এবং বিশেষ করে দক্ষিণ অঞ্চলের আমাদের স্বপ্ন পদ্মা সেতু বাস্তবায়নে রূপ দিয়েছেন বিশেষ করে দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাই ।