গত কিছুদিন আগে জন্মদিন উপলক্ষে ছোট বোন এমিকে একটা বই গিফট করছিলাম। বইয়ের নাম "শার্লক হোমস সমগ্র।"
পিচ্চিটা বই পড়তে বিরাট পছন্দ করে। তাই এই বইটা দিসিলাম। পিচ্চিটা নাওয়া খাওয়া ভুলে গত কয়েকদিন এই বইটা পড়ছে! এরপর থেকেই ওর মাথায় গোয়েন্দা হওয়ার শখ চাপসে! আব্বার একটা ম্যাগনিফাইং গ্লাস আছে। ওইটা নিয়েই ওর গোয়েন্দাগিরি চালাচ্ছে! কিন্তু সমস্যা হইতাসে, ওর সব রকম গোয়েন্দাগিরিই ভাইয়াকেন্দ্রিক! কালকে সারাদিনে এমির কয়েকটা তদন্ত রিপোর্টঃ ১। ভাইয়া সকালে সব ভাত খায় নাই! অর্ধেক ভাত ফালায় দিসে! ভাতগুলা ওয়ালের পিছন থেকে 'উদ্ধার' করা হইসে!! ২। রাতে ভাইয়া একটা মেয়ের সাথে কথা বলে! রাতে আমি ভাইয়াকে লেপের নিচে ফিসফিস করে কথা বলতে শুনছি!! ৩। ভাইয়া গতকাল রাতে ৩ ঘন্টা ৩৩ মিনিট বাইরে ছিল!!! আড্ডা দিসে! ৪। ভাইয়ার মোবাইলে অনেকগুলা মেয়ের নাম্বার আছে!! ৫। ভাইয়া বিড়ালকে মারছে! বিড়াল ভাইয়ার কাছ থেকে আসার পর জোরে জোরে ম্যাও ম্যাও করছিল! ইত্যাদি...
..আজকে সকালে ঘুম থেকে উঠেই দেখি পিচ্চিটা আমার দিকে আগ্রহ নিয়ে তাকায় আছে! আমি চোখ খোলা মাত্র ওর বেনটেন ঘড়িতে সময় দেখে বলল, আজকে তুমি ১৩ ঘন্টা ঘুমাইসো! ..বলে হাতে একটা পোটলা নিয়ে চলে গেল। আম্মার কাছে গিয়ে আমাকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলতে লাগল, "মা, ভাইয়া বিড়ি খায়!! ভাইয়ার পকেট থেকে একটা ম্যাচ পাওয়া গেসে! এই দেখো! রাতে ভাইয়া আসার পর ভাইয়ার চাদর (শাল) থেকে বিড়ির গন্ধ পাইসি! ভাইয়ার শার্টের পকেটে বিড়ির ছুবা (তামাক পাতা) পাওয়া গেসে! আর ভাইয়ার ঠোট আগের চেয়ে কালো হয়ে গেসে! এখন এইডা প্রমাণিত হয় যে, ভাইয়া বিড়ি খায়!!!" ..রহম করো আমাকে মাবুদ! বিঃদ্রঃ সবাইকে সব কিছু দিতে নেই তাতে নিজের গর্তে নিজকেই পড়তে হয়।