জীবন খুব সুন্দর । বাক্যটি একটু রসিকতার মতো । জীবন কীভাবে আবার সুন্দর হতে পারে ? প্রশ্ন জাগতেই পারে । না জাগার মতো কোনো কারণ নেই । কেননা একটি মানুষের সারাক্ষণ চিন্তু - ভাবনা করেই দিন থেকে রাত হয়ে যায় । আবার রাত থেকে দিন হয়ে যায় । এই চিন্তা ভাবনাগুলো কখনো শান্ত প্রকৃতির আকার ধারণ করে । কখনো বা ভয়ংকর । মাঝে মাঝে চিন্তা - ভাবনার প্রখরতা এতোটাই বেশি হয় যে , পৃথিবীতে কারো সঙ্গী কেউ আছে বলে মনে হয় না । না মনে হওয়ার কোনো কারণ পরিলক্ষিত নয় । কেননা মানুষ এখন স্বার্থ হাসিল করতে প্রতিজ্ঞ । বর্তমান অবস্থা এমন হয়ে দাড়িয়েছে যে , মানুষ প্রতিনিয়ত যে শ্বাস গ্রহণ করে এবং নিঃশ্বাস ত্যাগ করে এখানেও স্বার্থ পরিলক্ষিত থাকে । মানুষ জানে , শ্বাস গ্রহণ না করলে পৃথিবীত কয়েক সেকেন্ডের বেশি থাকা সম্ভব নয় । আর নিঃশ্বাস ত্যাগ না করলে দূষিত বায়ু অর্থাৎ পরিবেশ থেকে উদ্ভিদ যা গ্রহণ করে তা মানুষের ভিতরের সব মেশিন নষ্ট করে ফেলবে ।
কোথা থেকে কোথায় যাচ্ছি , খেয়াল নেই । তবে এটা বলা বাহুল্য যে , জীবন খুব সুন্দর যদি মানুষ তার অতিরিক্ত চিন্তা - ভাবনা থেকে মুক্তি পায় । চিন্তা - ভাবনা , মানুষসহ সকল প্রাণীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ যা মানুষ পিঁপড়াকে দেখে বুঝতে পারে । পিঁপড়া গ্রীষ্মকালে খাবার সংগ্রহ করে রাখে কারণ বর্ষাকালে পিঁপড়ারা বাসা থেকে বের হতে পারে না বৃষ্টির কারণে । ঠিক একই রকম দৃশ্য লক্ষ্য করা যায় শীতকালে । তবে শীতকালে প্রখরতা একটু কম থাকে । পিঁপড়ার খাবার সংগ্রহ করার ব্যাপারটি কিন্তু চিন্তা - ভাবনার বিষয় । চিন্তা - ভাবনা করেই এই ধরনের কাজ করে । থাকে পিঁপড়ারা । পিঁপড়ার এই চিন্তা - ভাবনাকে বলা যেতে পারে পরিমিত চিন্তা - ভাবনা । অন্য সকল প্রাণী থেকে পিঁপড়ার চিন্তা - ভাবনা একটু বেশি হলেও জ্ঞানসম্পন্ন ও বন্ধুসুলভ অবস্থায় থাকে । স্বার্থ সেখানে কাজ করতে ব্যর্থ হয় । বিপদে সাহায্য করতে তৈরি হয় না আত্মস্বার্থ , যা মানুষের পরম শত্রু । তাই পিঁপড়ার জন্য জীবনটা খুব সুন্দর । মাত্রাতিরিক্ত চিন্তা - ভাবনা এবং স্বার্থরক্ষা নামে দুটি শব্দ সবসময় মানুষকে ব্যর্থতায় নিয়ে যায় আপন প্রাণে । আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার এটাই যে , অনুকূল প্রতিকূল পরিস্থিতিকে বুদ্ধিমত্তার ও ধৈর্য্যের সাথে মেনে নিতে পারে না , যার ফলে মানুষের মাঝে অস্থিরতার জাগরণ ঘটে ।
মানুষ জীবনে তৈরি হওয়া অনুকূল পরিস্থিতিকে উপেক্ষা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিকে মানতে নারাজ থাকে যার ফলে তৈরি হয় অস্থিরতা । এভাবে তৈরি হতে থাকে মাত্রাতিরিক্ত চিন্তা ভাবনা । তৈরি হতে থাকে স্বার্থরক্ষার চিন্তা - ভাবনা । সম্পর্কগুলো নেমে আসে রাস্তায় ।
মানুষের উচিত পরিবর্তিত কিংবা স্থিতিশীল পরিস্থিতিকে মেনে নেওয়া যা কোনো অস্থিরতা কৌতূহলীতা মনের মধ্যে তৈরি করে না । তৈরি হয় না মাত্রাতিরিক্ত চিন্তা - ভাবনা । ফলে সুলভ সম্পর্কে আবদ্ধ হয় মানুষ । যেখানে স্বার্থরক্ষা সালাম দিয়ে ফিরে যায় । আর বলে যায় " সত্যিই,জীবন খুব সুন্দর "।