জীবনে সবাই সফল হতে চায়। কিন্তু কিছু ভুলের কারণে তারা সফল হতে পারে না। আবার কিছুটা ভাগ্যের উপরও নির্ভর করে। আমাদের সেই ভুলগুলো খুঁজে বের করা উচিত। আমরা যদি সেই ভুলগুলো খুঁজে বের করতে পারি এবং নিজেদেরকে সংশোধন করতে পারি তবে আমরা সফল হতে পারব। সফলতার চাবিকাঠি বলতে কিভাবে সফল হওয়া যায় এটাকে বোঝানো হয়ে থাকে। আজ আমি এ বিষয়ে লিখব। মূলত আমি সাধারণত এ বিষয়ে ব্লগ লিখি না, আমি ভ্রমণ বিষয়ক ব্লগ লিখে থাকি। তবে ভাবলাম আপনাদের মাঝেও কিছুটা শেয়ার করি। মূল আলোচনার পূর্বে আমি একটি ছোট গল্প দিয়ে শুরু করতে চাই। আমার ধারণা আপনারা অনেকে এই গল্পটা জানেন।
জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারি মাসে সমুদ্রের ভিতরে একটি সুন্দর ঘটনা ঘটে। জানুয়ারি মাসের দিকে সমুদ্রের কচ্ছপগুলো ধীরে ধীরে ডাঙ্গায় চলে আসে। তারা বীচে বাসা বাঁধে। তারা বীচে এসে বাসা বাঁধে, মূলত ডিম দেয়ার জন্য।
ডিম দেয়া শেষ হলে কচ্ছপগুলো তারা আবার তাদের আগের সমুদ্রে ফিরে যায়। মাসখানেক পরে সেসব ডিম থেকে বাচ্চা জন্ম নেয়। সদ্য জন্ম গ্রহণ করা বাচ্চাগুলো জানেনা, তারা কোথায় যাবে। তাদের গন্তব্য স্থান কোনটা? তাদের লক্ষ্য কোনটা ?তারা কিছুই জানে না। কিন্তু তারা চলতে থাকে। রাতের আধারে তারা চাঁদের আলোকে লক্ষ্য রেখে তারা সামনের দিকে আগাতে থাকে। আমরা জানি বাংলাদেশে শ্রাবণ মাসে, বর্ষাকালে সবচেয়ে সুন্দর জোৎস্না দেখা যায়। এভাবে তারা হাঁটতে হাঁটতে একসময় সমুদ্র পেয়ে যায়। এটাই তাদের গন্তব্য স্থান। এবং তারা সফল।
কিন্তু বর্তমানে সমুদ্রের চারপাশে হোটেল, রেস্টুরেন্ট তৈরি হয়েছে। সেসবে বিভিন্ন লাইটিং এর কারণে সে কচ্ছপের বাচ্চা গুলো তাদের গন্তব্য বুঝতে পারেনা। কোনটা চাঁদের আলো বা কোনটা লাইটিংয়ের আলো, তারা বুঝতে পারে না। ফলে তারা ভুলবশত লাইটিং এর পিছনে যেতে যেতেই দাঙ্গায় চলে যায়। এবং এটাই তাদের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ঠিক একইভাবে আজ আমরা আমাদের লক্ষ্য থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। আমাদের হাতে আজ একটি ডিভাইস রয়েছে, যার নাম হল স্মার্ট ফোন। স্মার্টফোন আমরা সকলেই ব্যবহার করি। কিন্তু এটা ব্যবহারের আগে বা পরে আমরা কখনো চিন্তা করি না আসলে আমরা কতটা স্মার্ট হয়েছি ।স্মার্টফোন ব্যবহারের ফলে আমরা কতটা স্মার্ট হতে পেরেছি। আসলে আমরা স্মার্ট নই। স্মার্ট হলে আমরা স্মার্ট ফোনকে এতটা ব্যবহার করতাম না।এই স্মার্টফোন ব্যবহারের ফলে আমরা বিভিন্ন ফানি ভিডিও দেখি। ইউটিউব, টিকটক, ফেসবুক প্রভৃতি তে সময় দিয়ে আমাদের মূল্যবান সময়টা নষ্ট করে ফেলছি। আমরা আমাদের সময়টাকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারতেছিনা। ছাত্রদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে ,ব্যবসায়ীদের ব্যবসার ক্ষেত্রে, চাকরিজীবীদের চাকুরীর ক্ষেত্রে,যে সঠিক সময় টা দিতে হবে আমরা সেটা সঠিকভাবে দিচ্ছি না। বরং আমরা এর ক্ষতিকর দিকে ধাবিত হচ্ছে। স্মার্টফোন আমাদের আসল লক্ষ্য থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।
আমরা সকলেই স্টিভ জবসের নাম শুনেছি। তিনি মাইক্রোসফট এর প্রতিষ্ঠাতা। তিনি প্রযুক্তি ক্ষেত্রে অনেক উন্নতি করেছেন। তবে তিনি তার সন্তানদেরকে প্রযুক্তি থেকে দূরে সরিয়ে রাখতেন।তিনি তার সন্তানদেরকে স্মার্টফোন ,ট্যাবলেট, ইন্টার্নেট এসব ব্যাবহার থেকে দূরে রাখতেন। তিনি বাচ্চাদেরকে দূরে সরে রাখতেন, কারণ যাতে এর ক্ষতিকর প্রভাব তাদের উপর পড়তে না পারে।
আবার ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গ এর কথাই ধরা যাক। আপনার কি মনে করেন উনি সারাদিন ফেসবুক চালাই। মূলত না কথাটি ভুল। উনি নিজের জামাকাপড় পছন্দ করতেও এতটা সময় দেন না , যার ফলে উনি প্রতিদিন একই কালারের টি-শার্ট পড়েন।জামা কাপড় পছন্দ করতে সময় চলে যাবে, যার ফলে উনি প্রতিদিন একই কালারের জামা পড়েন।
কিন্তু আমরা সময় নষ্ট করে ফেলছি আমরা ওদের বানানো প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজেদের সময় আর ও নষ্ট। কিন্তু ওরা এর পুরোটাই ভিন্ন। আমাদের মূল লক্ষ্য পর্যন্ত পৌঁছাতে হলে আমাদেরকে স্মার্টফোনকে এরিয়ে চলতে হবে।বর্তমান যুগে এমন হয়ে গেছে ,আমরা স্মার্ট ফোন ছাড়া থাকতে পারি না । তবে আমাদের উচিত একটু হলেও কম ব্যবহার করা। যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই ব্যবহার করা। অযথা সময় নষ্ট না করা। বরং আমাদের উচিত একটি লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলা। আমাদের লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বাধা আসবেই। আমাদের এই বাধা অতিক্রম করে আমাদের লক্ষ্যে অটুট রাখতে হবে। তবেই আমরা সফল হতে পারবো।
তো আজ এই পর্যন্তই ছিল ধন্যবাদ সবাইকে।