আমি দুই মাস পূর্বে ঢাকা থেকে কুড়িগ্রাম গিয়েছিলাম। কারন তখন আমার পরীক্ষা শেষ হয়ে গিয়েছিল। এখন আমি আবার আমার কলেজ খোলায় ঢাকায় আসলাম। বাসের টিকিট এ বর্তমানের মূল্য অনেক বেশি হয়ে গেছে, তাই আমি ট্রেনে যাতায়াত করি। এই ধরুন ঢাকা থেকে কুড়িগ্রাম এর দূরত্ব 345 কিলোমিটার। বাসে গেলে বাসে সাধারণ নন এসি চেয়ার কোচ বাসের ভাড়া 900 টাকা। আবার ধরুন এসি চেয়ার কোচ বাসের ভাড়া 1300 টাকা । কিন্তু অপর দিকে ট্রেনের ভাড়া মাত্র 515 টাকা। আপনারা নিজে একবার চিন্তা করে দেখুন, এরপর একজন সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে কিভাবে বাসে যাতায়াত করতে পারে। তাই আমি বর্তমানে ট্রেন কেই বেছে নিয়েছি। এবং ট্রেন আগের তুলনায় অনেক উন্নত হয়েছে। যাতায়াতে সমস্যা হয়, সিট গুলো পরিষ্কার, লোকজনের ব্যবহার ভালো, বাথরুমের ব্যবস্থা ভাল সবদিক মিলে ট্রেন ই বর্তমানে আমার কাছে একটি ভাল যাতায়াত মাধ্যম।
পাশাপাশি ট্রেনে যাতায়াতের সময় অপরূপ সৌন্দর্য লক্ষ্য করা যায়। ট্রেন কি সুন্দর ছুটছে। আমরা এগুলো ছোটবেলায় প্যারাগ্রাফ এ পড়েছিলাম। এমনকি আমাদের কল্পনাতেও হয়ে থাকে যে ট্রেন ভ্রূমণ এরকম হবে।
তো শুরু করা যাক আমার ভ্রমন।
কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকা ট্রেন অর্থাৎ আমাদের কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস, কুড়িগ্রাম থেকে সকাল 7:15 এ রওনা দেয়। শীতকালে সময় অনেক ঠান্ডা হয় কুয়াশা করে থাকে। তবে সৌভাগ্যবশত সেদিন এতটা কুয়াশা পড়েছিলো না। এদিন আমি সকালে আমার ব্যাগ নিয়ে ট্রেনের জন্য এসেছিলাম। যেহেতু আমার বাসা ট্রেন স্টেশনের খুবই কাছাকাছি, যেহেতু আমার সাথে আমার আব্বু-আম্মু এসে ছিল। কি আর বলব অনেক দূরত্ব থেকে এত সকালের মধ্যেই ট্রেনের জন্য এসেছিল মানুষ। চিলমারী কুড়িগ্রামের একটি উপজেলা,এটা কুড়িগ্রামে স্টেশন থেকে প্রায় 35 কিলোমিটার দূরে তবুও এত সকালেই মানুষ চলে আসে ট্রেনে চড়ার জন্য। সবদিক মিলিয়ে ট্রেনে 5 মিনিট বিলম্ব হয়েছিল। কারণ কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস বুধবার বন্ধ থাকে আমি বৃহস্পতিবার এসেছিলাম। যেহেতু এ দিন ছিল ট্রেনের প্রথমদিন সেহেতু ট্রেন কোন বিলম্ব হয়নি।
দেখুন মানুষ কি ঠান্ডার মধ্যে কনকনে শীতে ও ট্রেনে চড়ার জন্য এসেছিল। সবদিক মিলিয়ে খুবই ভালো লাগতেছিল আমার বিষয়গুলো। কারণ আমি সবকিছুই বিস্ময়ের সাথে অনুভব করতে চাই।
যেহেতু ট্রেনে কোনো বিরতি দেয়া হয় না মানুষ আগে থেকে রান্নাবান্না করে ট্রেনে উঠে। আবার অনেকেই ট্রেনের খাবার খেয়ে থাকে। আবার অনেকে ছোটখাটো বিস্কুট চিপস কিনে রাখে।
তো সব সমস্যার সমাধান করে ট্রেন রওনা দিল। দেখুন আমার সুন্দর কুড়িগ্রাম রেলস্টেশনকে আমরা বিদায় জানাচ্ছি। এরপর পরবর্তী স্টেশন রংপুর বদরগঞ্জ। এভাবে মোট আটটি স্টেশনে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস থামে। 7:15 রওনা দিলাম আশাকরি ঢাকা আমরা 6.00 মধ্যে পৌঁছে যাব।
ট্রেনের ভিতরে ঢুকেই দেখি খুবই সুন্দর ট্রেনের সিট গুলো। এটা শোভন চেয়ার এর সিট। আমি সাধারণত শোভন চেয়ার এই যাতায়াত করি।
তারপর আমি চারিপাশে দেখতে থাকলাম চারিদিকের অপরূপ সৌন্দর্য। গ্রাম বাংলার অপরুপ সৌন্দর্য। বাংলাদেশের অপরূপ সৌন্দর্য। আল্লাহর সৃষ্টি অপরূপ সৌন্দর্য।
এই ছবিগুলো দেখলে আপনারা কিছুটা বুঝতে পারবেন। আমি চাইলে আরো ছবি তুলতে পারতাম। কিন্তু ছবির তুলনায় আসলেই অনেক বেশি ভালো লাগে।
তো এভাবেই ট্রেনে একটু ঘুমাইলাম, আবার পাশাপাশি বিভিন্ন লোকের সাথে কথাবার্তা বললাম, কিছুটা খাওয়া-দাওয়া করলাম, এমনকি বিভিন্ন স্টেশনে নামলাম, প্লেনের ভিতরটা হাটা চলা করলাম। এভাবেই আমি পৌঁছে গেলাম ঢাকা কমলাপুর রেলস্টেশন।
যাত্রাপথে তিস্তা নদী,সান্তাহার বাংলাদেশের সবচেয়ে অন্যতম একটি বড় রেলওয়ে স্টেশন, দিনাজপুর হিলি বর্ডার (এটা অনেক কাছে ছিল, আমরা বিএসএফ এবং বিজিবি সদস্যদের দেখতে পারছিলাম ট্রেন থেকে), পাবনা জেলার বিখ্যাত বিল, যমুনা সেতু, বিমানবন্দর প্রভৃতি আরো বড় বড় ভালো স্থান ছিল দেখার মতো।
আমি ঢাকায় এসেছি মূলত ক্লাস করার জন্য। কিন্তু মনে হচ্ছে ওমিক্র্রনের জন্য বন্ধ দিয়ে দিবে।বন্ধ দিলে আমি জামালপুর যেতে পারি সে ক্ষেত্রে আমি আরেকটি নতুন ভ্রমণ নিয়ে আপনাদের সামনে চলে আসবো।
তো আজ ছিল এই পর্যন্তই। আশা করি আপনারা সকলে আমার ব্লগ টি পড়বেন এবং আপনাদের মন্তব্য তুলে ধরবেন। ধন্যবাদ সবাইকে
আসসালামু আলাইকুম