মুরগি একটি গৃহপালিত প্রাণী। মুরগি খায় না এমন কোনো মানুষ পুরো পৃথিবীতে খুঁজে পাওয়া খুবই কষ্টকর। মুরগি অনেক ধরনের রয়েছে। বিদেশী মানুষ ,গ্রামের মানুষ ,শহরের মানুষ সবাই মুরগি খায়। অনেকে ধর্মগত কারণে গরুর মাংস খায় না। আবার অনেকে অন্যান্য প্রাণী খায় না। কিন্তু এই মুরগী সবাই খায়। মুরগির ডিম সবাই খায়। আজ আমি নতুন একটি বিষয়ে দেখেছি মুরগি এবং মুরগির বাচ্চার। হয়তোবা অনেক এ বিষয়টা জেনে দেখেছেন জীবনে। কিন্তু এটা আমার দেখা প্রথম। আমি অনেক আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিলাম ঘটনাটি দেখে। এরকম কি আসলে হতে পারে। তবে ঘটনাটি সত্য এবং অনেক সময় এরকমই হয়ে থাকে। আজ আমি এই ঘটনাটি আপনাদের সাথে তুলে ধরব আশা করি আপনারা বুঝতে পারবেন। কিছুটা ব্যস্ততার কারণে আমি ব্লগ লিখতে পারিনি। আশা করি কেউ কিছু মনে করবেন না। আমি আবারও লিখতেছি। এই ঘটনাটি নাম দেয়া যেতে পারে মুরগি এবং মুরগির বাচ্চা।
গ্রামের প্রতিটি পরিবারেই মুরগি পোষা হয়। আমরা মুরগি পুষি। কিন্তু এই ঘটনাটি আমার খালার বাসায় ঘটেছে। খালার মুরগীদের সাথে। বিভিন্ন ধরনের মুরগি রয়েছে। যেমন দেশি, পাকিস্তানি, বয়লার প্রভৃতি। এই দেশের মধ্যে রয়েছে আবার অনেক জাত, এগুলোর নাম জানা নেই, তবে রয়েছে। কোনোটি তাড়াতাড়ি ডিম পাড়ে, কোনোটির বাচ্চা তাড়াতাড়ি বড় হয়, কোনোটি অনেক বাচ্চা একসাথে ফোটাতে পারে, আবার কোনোটি অল্প বাচ্চা ফুটাতে পারে নানান বিষয়। তো ঘটনাটি হলো।
উপরের ছবিটি দেখতে পারছেন দুইটি মা মুরগি পাঁচটি বাচ্চা মুরগি কে পাহারা দিচ্ছে ,খাওয়াচ্ছে,উষুভ দিচ্ছে। বিষয়টি কি আপনাদের মনে প্রশ্ন করেনা?কারণ আমরা দেখে থাকি যে , মুরগির যখন বাচ্চা হয়, তখন মা মুরগি তার বাচ্চার কাছে কিছুকে আসতে দেয় না ,এমনকি মানুষ গেলেও মানুষকে আক্রমণ করে। মানুষ,অন্যান্য মুরগি ,পাখি, পোকামাকড় ,জন্তু, কুকুর, বিড়াল কিছু আসলেই মুরগি তাদের আঘাত করে। যার ফলে যখন নতুন বাচ্চা জন্ম নেয় তখন সে মুরগির কাছে যাওয়া যায় না। কিন্তু এখানে কীভাবে দুইটি মুরগি একসাথে আছে? এটাই হলো ঘটনা। কারণ এটা সচরাচর দেখা যায় না এমনকি,অনেকে ভাবতেও পারে না হয়। এটার কারণটি আমি মূলত বলবো।
দেখুন এই ছবিটিতে আমি ছবি তুলতে গিয়েছিলাম মুরগীগুলোর, তখন তারা আমাকে দেখে ভয় পেয়েছিল এবং তাদের বাচ্চাগুলোকে পাহারা দিচ্ছে।
তো ঘটনা টি হল-
আমাদের গ্রামে প্রায় ২১ দিন পর মুরগির ডিম থেকে বাচ্চা হয়ে থাকে। এই কালো এবং লাল মুরগি দুটোর মধ্যে,কালো মুরগি টি, লাল মুরগির ৪-৫ দিন আগেই উষুম বসেছিল। তো প্রথমে কাল মুরগিটি তার ৬টি ডিমের মধ্যে ৩টি ডিম থেকে বাচ্চা ফুটিয়ে ছিল। কারণ সব ডিম থেকে বাচ্চা হয় না ,অনেক ডিম নষ্ট হয়ে যায়। তারপর আমার খালা সেই ৩টি ডিম নিয়ে লাল মুরগিটিকে দিয়েছিল। লাল মুরগিটির আগেই ছিল ৫টি ডিম তার উষুমে। যেহেতু শীতকাল, সেহেতু কম মুরগি ফোটানো হয়, কারণ শীতকালে মুরগি মারা যায় এখানে একটি ভুল কাজ করে ফেলেছিল আমার খালা। উনি এই বাকি ৩টি ওখানের দিয়েই ভুল কাজ করে ফেলেন।যার ফলে যেহেতু এই কালো মুরগির ডিম গুলো আগে থেকেই উষমিত ছিল, তাই লাল মুরগি আর একদিন পরেই আর ২টি বাচ্চা ফুটে ফেলে। এবার লাল মুরগিটি বেরিয়ে যায়। আর কালো মুরগিটি তার ডিমগুলো চিনতে পারে এবং ভাবে যে এগুলো তারই বাচ্চা। যেহেতু দুটি মুরগি এক রুমে ছিলো তাই রাতের মধ্যেই মুরগিগুলো এই কাজটি করে ফেলেছিল। ফলে পাঁচটি মুরগির বাচ্চা দুইটি মা দ্বারা লালন পালন হচ্ছে।আমার খালা অনেক চেষ্টা করতেছে লাল মুরগিগুলোকে উশমে বসাতে কারণ তার পাঁচটা ডিম প্রায় ৩ দিন সময় বসলেই হয়ে যেত। কিন্তু সে বসবে না কারণ ওই ডিন দুইটা আগেই ফুটে গেছে। এভাবেই পাঁচটি মুরগির দুইটি মা হয়ে গেল। তারা একসাথে এগুলো কে পাহারা দেয়। কোন জন্তু,মানুষ আসলে তাকে আক্রমণ করে একসাথে।
দেখুন এটা লাল মুরগির বাসা। এখনো একটি ডিম রয়েছে এবং বাকি চারটি ডিম নষ্ট হয়ে গিয়েছে নানান উঠা নামার কারণে। এই ঘটনাটি আমি দেখেছিলাম বাচ্চা হওয়ার প্রায় 6-7 দিন পর।
বিষয়টি একটু অন্যরকম হলেও বোঝার চেষ্টা করলেই বোঝা সম্ভব। আমিও তিনবার এই ঘটনাটি বোঝার পরে বুঝতে পেরেছি। কারন আমার তখনই ইচ্ছা হয়েছিল আমি এই বিষয়টা নিয়ে ব্লগ লিখব। যদিও আমার ব্লগ মানুষ পড়ে না তবুও।
তো আজ এই পর্যন্তই ছিল। ধন্যবাদ সবাইকে।