আসসালামু আলাইকুম,
গত কয়েকদিন অনেক ব্যস্ত আছিলাম যার কারনে পোষ্ট লিখতে পারিনি। ব্যস্ত বলতে অনেক ব্যস্ত। কারণ হলো খড়ি,হাওয়াই দামে খড়ি।
তো শুরু করছি।
মূলত আমরা গ্রামে খড়ি দিয়ে রান্না করি । শুধুমাত্র সকাল এবং দুপুরের খাবারটা। এজন্য আমাদের খড়ির দরকার পড়ে। কিন্তু আমাদের খড়ি শেষ হয়ে গিয়েছে, যার কারণে কয়েক দিন ধরে আমরা খড়ি খুজতেছিলাম। এমতাবস্তায় একদিন হঠাৎ দুপুরে খবর পেলাম পিছনের জমিগুলোতে কাছে ঝোড়া হচ্ছে। গাছ ঝোড়া বলতে বুঝায় পাতা এবং ডালগুলো একটু ছোট করা,যাতে গাছটি লম্বা হতে পারে। আমাদের এলাকায় এবং জেলায় ইউকিলিপটাস গাছের পরিমাণ অনেক বেশি।
তো সেখানে আমি এবং আম্মু গেলাম গিয়ে দেখি যে, ১০০ টাকা করে প্রতি মণ কাচা খড়ি পাওয়া যাচ্ছে।
এইসময় হাওয়াই দামে গাছের মালিক সেসব পাতা এবং ডাল বিক্রি করতে চাইলো। হাওয়াই দাম বলতে আনুমানিক একটি হিসাব করে তারা সেই দাম নিবে এবং চলে যাবে। এটা মূলত তাড়াতাড়ি করার জন্য তারা এটি করে থাকে। যাতে করে কষ্ট কম হয়। সেক্ষেত্রে এগুলো মন হিসাব করা হয় না, আনুমানিক একটি হিসাব করা হয়।
আমরা ভেবেছিলাম অনেক ঘড়ি পাওয়া যাবে সেক্ষেত্রে তারা এর জন্য ২৩০০ টাকা ধরেছিল। যদিও এটি একটু দরকষাকষির মাধ্যমে করা হয়েছিল এবং তারা আমাদের একটু দূর আত্মীয় হওয়ায় তার একটু কম মূল্যে এসব ছেড়ে দিয়েছিল।
এরপর তারা টাকা নিয়ে চলে গেল এবং কষ্টে পড়লাম আমরা। আমরা বলতে আমি এবং আম্মু কারণ এসব এলাকায় খড়ি চুরি হয়।
তার পূর্বে একটি ছবি দেখুন।
এটা মূলত ওসব গাছ একজন লোক গাছের ডাল এবং পাতা ঝুরতেছে। সেখানে প্রায় ১১ টি গাছ তারা ঝুরেছিল। যেহেতু তখন প্রায় পাঁচটা বেজে গিয়েছিলো তাই তারা ৬ টি গাছ বা কি রেখেছিল, যাতে আমাদের বেশি কষ্ট না হয়। কিন্তু এই ১১ টি গাছ ই ছিল অনেক, সেটা আমাদের জন্য খুব কষ্ট এবং ঝামেলার হয়েছি। কিছু এলাকাবাসী দাঁড়িয়ে দেখতে ছিল। আম্মুকে বেশি কাজ করতে দিতে চাচ্ছিলাম না। তাই আমি একাই প্রায় ৮০% করেছিলাম। হঠাৎ এতদিন পর এত কাজ আমার জন্য খুবই খুবই খুবই কষ্টকর হয়ে গিয়েছিল। আমার একটুও ভালো লাগতেছিল না। আবার উঁচু নিচু জমি। শুধু উঁচু-নিচু নয়, ওই জায়গা গুলো থেকে আমার বাড়ির দূরত্ব হেঁটে আসলে প্রায় ৫ মিনিটের। কিন্তু কি করার এছাড়া উপায় ছিল না, না হলে মানুষ চুরি করত, পাতা ডাল সবদিক দেখতে হয়েছে। তো সেদিন দুপুর ৪টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা আমি কাজ করলাম। আমার মনে হচ্ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বেশি কাজ আমি সেদিনই করেছিলাম। এটা ছিলো প্রথম দিন।
এই ছবিতে দেখতে পারতেছেন ডালগুলো ঝুরতেছে আর একজন লোক।
এবার আসি দ্বিতীয় দিনে, সেই বাকি ছয়টি গাছ এগুলোর ডাল আনতে প্রায় তিন চার ঘন্টা লেগে ছিল। যদিও এই দিন আমি কিছুটা বিরতি বিরতি নিয়ে ছিলাম। পাশাপাশি আমাদের একজন কাজের মহিলা ছিল, এগুলোর জন্য।
এখন দেখুন বাসায় আনার পর সেগুলো আপাতত কিভাবে রাখা হয়েছিল। এখানে বারবার উঠানামা করাতে হয়। একবার এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় তারপর আরেক জায়গা থেকে আরেক জায়গায়, তারপর ফলাফল এরকম।
এভাবেই ২য় দিনের সমাপ্তি।
তারপর আবার তৃতীয় দিন এই দিন এই মোটা মোটা খড়িগুলো কুড়াল দিয়ে কেটে অর্ধেক করা হয় যাতে চুলায় ঢুকানো সম্ভব হয়।
এতেই শেষ নয় এগুলো আবার রোদে শুকাতে হয়। রোদে শুকানো জায়গা না থাকায় এগুলো আমরা ঘর করে রাখি।
এই ছবিটিতে দেখুন খড়িগুলো চারকানি করে ঘর ঘর ঘর করে রাখা হয়েছে।এতে করে রোদ পড়লে কিছুদিন সময় লাগে প্রায় ২৫-৩০ দিন রোদ পেলে, এভাবে থাকলেও খড়ি গুলো শুকিয়ে যায়।
শুধু খড়ি ই নয়, পাতাগুলো আমরা পেয়েছিলাম হাওয়াই দামে।
তো এটাই ছিল হাওয়াই দামে খড়ি কেনার কাহিনী। এটার পিছনে আমার তিনটি দিন চলে গিয়েছে। দিনটি বড় কথা নয় কথা হল আমার শরীর একেবারে অনেক ব্যাথা হয়ে গিয়েছিল। আমি তিনদিন নাপা এক্সট্রা খেয়েছিলাম কারণ আমি অনেকদিন পরে এসব কাজ করে ছিলাম। আমাদের দেশের অধিকাংশ লোক এভাবে কষ্ট করে অর্থ উপার্জন করে থাকে। কিন্তু তারা মূল্য পায় না। আমাদের উচিত তাদেরকে সম্মান করা।
আশা করি সকলে আমার ব্লগটি বুঝতে পেরেছেন।
সবাইকে ধন্যবাদ আমার ব্লগটি পড়ার জন্য।