আজ থেকে প্রায় ৮ বছর আগের কথা। তখন ক্লাস ফাইভ-এ পড়ি। এটা আগেই বলেছি যে, ছোটবেলা থেকেই আমি গম্ভীর স্বভাবের ছিলাম। সবার সাথে তেমন একটা কথা বলতাম না। স্কুলেও কারো সাথে মিশতাম না। নিজের মত থাকতাম। স্কুল যেতাম, স্কুল থেকে বাসায় এসে সারাদিন চুপচাপ ঘরে বসে থাকতাম। খেলাধুলাও করতাম না। আব্বু-আম্মু এজন্য আমার উপর অনেক রাগ করতেন। আম্মুর ধারনা, এভাবে আর কিছুদিন থাকলে আমি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পরবো। আমারও তাই মনে হচ্ছিলো। মোট কথা, বন্ধুহীন, সঙ্গীহীন খুব খারাপ একটা সময় কাটছিল আমার।
এমন সময় একদিন ‘শাহজাহান’ নামে আমার এক দূর সম্পর্কের চাচার সাথে ‘ও’ এলো। চাচার নামটা আমি দ্রুত উচ্ছারন করতে যেয়ে ‘সাজাহান’ বানিয়ে ফেলতাম। আমার কাছে তিনি এখনো ‘সাজাহান’-ই রয়ে গেছেন। যাই হোক, ‘ও’ ছিল অনাথ। বাবা-মা নেই। আমার চেয়ে বয়সে অনেক ছোট। আব্বু ওর জন্য ছাদে খুব সুন্দর একটা ঘর ঠিক করে রেখেছিলেন। সারাদিন ওখানেই থাকতো। শুধু খাবার সময় হলে নিচে নেমে আসতো। বাসার সবাই ‘ও’কে খুব পছন্দ করতো। আর ও আসার পর থেকেই শুরু হলো আমার পরিবর্তন।
বিকেল হলেই ছাদে যেয়ে ‘ও’র সাথে সময় কাটাতাম। খেলাধুলা করতাম। যেদিন স্কুল বন্ধ থাকতো সেদিন সারাটা দিনই ‘ও’