একটি মহান প্রেমের কাহিনী। তবে লাইলী মজনু, শিরি ফরহাদ আর রোমিও জুলিয়েটের মত এটিরও সমাপ্তি বিয়োগে। করুন পরিনতির এই কাহিনীতে যদিও কোন খলনায়কের আবির্ভাব ঘটেনা, গল্পের চরিত্রের নিয়তিটাই খল চরিত্রের ভূমিকা নেয়।
গল্পের মজনুর নাম রাসেল আর লাইলীর নাম হ্যাপি।
তাদের ১০ বছরের প্রেমের কোনরূপ মুল্যায়ন না ঘটিয়েই হ্যাপির বাবা মেয়ের বিয়ে দেন পাশের গ্রামের সহজ সরল ছেলে সফিকের সাথে। এক্ষেত্রে হয়তবা হ্যাপির বাবাই হতে পারেন সেই খল চরিত্রের মানুষটি। বিচারের ভারটি পাঠকের উপর দিয়ে আপাতত: আমরা চলে যাই গল্পের পরের অংশটিতে। এর বছর খানেক আগেই ভাগ্যোনয়ের পাশাপাশি প্রেমের রাজকন্যা জয়ের মানসে রাসেল পাড়ি জমায় বিদেশে। বুক বাধে আশায়, পয়সাকড়ি জোগাড় করে দেশে ফিরলে এবার আর বেকার আর লাফাংগা আখ্যায় তাকে আর প্রেয়সির দুয়ার থেকে ফিরিয়ে দেয়া হবে না। এরিমধ্যে অঘটন ঘটিয়ে ফেলেন হ্যাপির বাবা। সফিককে তার খুব পছন্দ হয়। পড়াশুনা শেষে অক্লান্ত চেষ্টায় ছোটাখাট চাকুরী জুটিয়ে নিয়ে বৃদ্ধ বাবা মা সহ তিনজনের সংসারের হাল ধরেছে ছেলেটি। খুব ছোট একটা বৃত্তে সফিকের জীবনটা ঘুরে ফিরে বিধায় ছিমছাম একটা সংসার।
কিন্তু হ্যাপি তার পুরোনো প্রেম কিংবা প্রেমিক কোনটাকেই ভুলতে পারেনা। এখনো স্বপ্ন দেখে মিলনের। পরষ্পর যোগাযোগ রাখে, লুকিয়ে চুরিয়ে। নতুন সংসারের কোন কিছুতেই তার মন ভোলেনা। আর ভুলবেই বা কেমনে, কেননা ত্যাগে আর বিপর্যয়ে রচিত হতে যাচ্ছে আর একটি মহান প্রেমের কাহিনী।