ফিনল্যান্ডের মানুষের কাছে শিক্ষা বিষয়টা অনেকটা এ রকম—হয় আমরা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার জন্য তৈরি করব, নয়তো জীবনের জন্য। দ্বিতীয় পথটাই তারা অনুসরণ করেন। তাই তাদের স্কুলে কোনো পরীক্ষা নেই। তবে তাদের শিক্ষার্থীরা জানে কীভাবে ট্যাক্সের কাজ করতে হয়, ওয়েবসাইট বানাতে হয়, শতকরা নির্ণয় করতে হয়। এর কোনো কিছুই শিখিয়ে দেওয়া হয় না। বাস্তব জীবনে করতে দেওয়া হয়। ব্যাপারটা অনেকটা বাধ্য হয়ে ঠেকে শিখছি তা নয়; বরং দেখে শিখছি, বুঝে শিখছি।
এখানেই কিন্তু শেষ নয়। এখন তারা অভূতপূর্ব একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফিনল্যান্ড হতে যাচ্ছে বিশ্বের প্রথম দেশ যেখানে স্কুলে ধরাবাধা কোন সাবজেক্ট থাকবে না। আলাদা আলাদা সাবজেক্টের বদলে শিক্ষার্থীরা কোন ঘটনা বা বিষয়কে বিভিন্ন সাবজেক্ট দিয়ে বিশ্লেষণ করে শিখতে পারবে। যেমন, আগে যেমন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্থান শুধু ছিলো ইতিহাসের পাতায়, কেবলমাত্র ইতিহাস বিষয়টিতেই এ নিয়ে আলোচনা হতো। কিন্তু ফিনিশদের নতুন এ নিয়মে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুধুই ইতিহাস নয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ম্যাথমেটিক্সের কি ভূমিকা ছিলো, পুরো যুদ্ধটা বিশ্বের অর্থনীতিতে কেমন প্রভাব ফেলেছে, বিশ্বযুদ্ধের ফলে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন এসবই বিশ্লেষন করা হবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পড়ার সময়। এর মধ্যে দিয়ে কিন্তু গণিত, অর্থনীতি এমনকি পৌরনীতিও শেখা হয়ে গেলো!
জটিল লাগছে? আরেকটা উদাহরণ দেই তবে। ধরলাম, একটা কোর্সের নাম ‘Working in a Cafe’। একটা ক্যাফেতে কাজ করতে গেলে কিসে পারদর্শী হতে হয়? ইংরেজি ভাষাজ্ঞান দরকার হয়, আর কমিউনিকেশন স্কিল থাকতে হয়। আর টাকাপয়সার হিসেবটাও একটু জানা লাগে, মানে হিসাববিজ্ঞানটাও বেশ একটু পারতে হয়। তার মানে যা হলো, এই এক কোর্স করলেই ইংরেজি ভাষা, হিসাববিজ্ঞান এমনকি কমিউনিকেশন স্কিল শেখা হয়ে গেলো!
এভাবেই পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে ফিনল্যান্ড। সেকেলে শিক্ষক-ছাত্র সম্পর্কেও আসবে পরিবর্তন। সেসব দিন আর থাকবে না, যখন শিক্ষক মহাশয় আরামে বসে থাকতেন চেয়ারে, আর বেঞ্চে শিক্ষার্থীদের পা ঠকঠকানি-কখন বুঝি পড়া বলতে তার ডাক পড়ে। ফিনল্যান্ডে সেসব দিন শেষ। শিক্ষার্থীরা নতুন এই পদ্ধতিতে ছোট্ট ছোট্ট গ্রুপে ভাগ হয়ে একসাথে সমস্যাগুলো আলোচনা করবে। ২০২০ সালের মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়াটা শেষ হয়ে যাবার কথা।
জিপিএ ফাইভ পাওয়াটা কিন্তু সবকিছু নয়। কিছুই না শিখে শুধু জিপিএ ফাইভ পেলে কি চলবে? শেখার মতো করে শিখতে পারলে, সেই আগ্রহটা থাকলে দুনিয়া জয় করাও সম্ভব!