বন্ধুরা,
তখন ইংরেজি ২০০১ সাল, আমি সবেমাত্র চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ি।
এর আগে ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় যমুনা সেতুর উদ্বোধন করা হয়। তখন যমুনা সেতু দক্ষিণ এশিয়ার ৫ম এবং বিশ্বের ৯২তম দীর্ঘ সেতু ছিল।তো ছোটবেলা থেকেই শুনতে থাকি যমুনা সেতুর কথা।দিন যায় আর কৌতুহলী হয়ে উঠি যমুনা সেতু নিয়ে।যমুনা সেতু দেখার জন্য মন পাগল হয়ে যায় অস্থির হয়ে উঠতে থাকি।এরপর যখন আমি চতুর্থ শ্রেণীতে উঠলাম।তখন আমার এক চাচা যমুনা সেতুতে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দেয়।এরপর একদিন যাওয়ার জন্য দিন তারিখ ঠিক হয়ে যায়।
তখন যে আমি কি খুশি হয়েছিলাম, আমার খুশি কে দেখে।তো যেদিন যাব সেই দিন এল।আমার পরিবারের সবাই যাওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল।যাওয়ার আগ মুহূর্তে আমাদের বাড়িতে অনেক আত্মীয়-স্বজন এসে পড়ল।হায় হায় আর যাওয়া হবে না, চিন্তায় পড়ে গেলাম আমি।আত্মীয়-স্বজন দরকারে আমাদের বাড়িতে এসেছে।তারা সাথে আমার বাবা ও মায়ের কাজ পড়ে গেল।এবং সত্যি সত্যি যাওয়া বন্ধ হয়ে গেল।তখন আমার কান্না দেখে কে।আমি ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলাম।
আমার কান্না আর বন্ধ হয় না।আমার কান্না দেখে আব্বা ধমক দেয়।তখন মায়ের আঁচলের নিচে গিয়ে কান্না করি।আমার কান্না দেখে চাচা আমার হাতে ১০০ টাকা গুজে দিল।২০০১ সালের ১০০ টাকা খুবই মূল্যবান ছিল।কিন্তু ওই টাকা আমি ছুড়ে ফেলে দিলাম।কারন আমার ইচ্ছা আমি যমুনা সেতুতে বেড়াতে যাব।পরে আমার চাচা অন্য একদিন নিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিল।এরপর ৫ বছর কেটে গেল যমুনা সেতুতে আর যাওয়া হলো না।এরপর ২০০৭ সালে আমি যখন দশম শ্রেণীতে পড়ি, তখন বন্ধুরা মিলে প্রথম যমুনা সেতুতে বেড়াতে যাই।২০০৭ সাল থেকে আজ পর্যন্ত কতবার যে যমুনা সেতুতে যাওয়া হয়েছে তার হিসাব নাই।যমুনা নদীতে অনেকবার নৌকায় ঘুরেছি।গিয়েছি স্বপ্নপুরী, গিয়েছি মহাস্থানগড়, মধুপুর জঙ্গল, সিলেট চা বাগান ইত্যাদি অনেক জায়গায়।এইতো কিছুদিন আগেও স্ত্রীকে সাথে নিয়ে মধুপুর জঙ্গল ও যমুনা সেতুতে গিয়েছিলাম।
আর এখন তো ঘরে থাকতে ভালোই লাগে না।সুযোগ পেলেই বাইরে বেরিয়ে পড়ি, বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে যাই।বন্ধুর মোটরসাইকেল নিয়ে বেড়াতে যাই।প্রকৃতির মাঝে সব সময় ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করি।ছোটবেলা থেকে ভ্রমণ করা আমার জীবনের একটি শখ ছিল।আর এখন এটি ও নেশায় পরিণত হয়েছে।বন্ধুরা ভ্রমণ নিয়ে আমি এখানে অনেক লেখালেখি করেছি।এর আগে আমি অনেক পোস্টে ভ্রমণ নিয়ে উল্লেখ করেছি।লেখাগুলো হয়তো আপনারা অনেকেই পড়েছেন।আমি বলেছি ভ্রমণ আমার জীবনের একটি শখ। আমি সবসময় ভ্রমণ করতে ভালোবাসি।আমি প্রকৃতির মাঝে ভ্রমণ করতে ভালোবাসি।প্রকৃতির মাঝে ভ্রমণ না করলে আমার চলেই না।প্রকৃতি আমাকে সবসময় আকর্ষণ করে।তাই আমি সুযোগ পেলেই প্রকৃতির মাঝে বেড়াতে বেরিয়ে পড়ি।এখনো আমি যেখানেই বেড়াতে যাই আপনাদের সাথে তা শেয়ার করি।বাংলাদেশের অনেক জায়গায় আছে যেসব জায়গায় এখনো যাওয়া হয় নাই।ইচ্ছা আছে না যাওয়া জায়গাগুলোতে ঘুরতে যাব।ইচ্ছে হয় এখনই না যাওয়া জায়গাগুলোতে ঘুরতে যাই।
ভ্রমণ করতে কার না ভালো লাগে।আমার মনে হয় ১০০ জনের মানুষের মধ্যে ৯০ জন মানুষই ভ্রমণ পছন্দ করে।ভ্রমণ পছন্দ করে না এমন মানুষ খুব কমই রয়েছে।কারণ ভ্রমণ করলে মানুষের মন ভাল থাকে, ভ্রমণ মানুষকে নতুন ভাবে বাঁচতে শেখায়।ঘরের বন্দী জীবন ছেড়ে বাইরে গেলে অবশ্যই জীবনকে উপভোগ করা যায়।
এই গত দুই বছর আগের কথা।আমি ও আমার বন্ধু মোটরসাইকেল নিয়ে টাঙ্গাইল শহর থেকে আরিচার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।আমাদের ইচ্ছা হল আরিচা হয়ে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটে যাব।টাঙ্গাইল শহর থেকে আমরা বিকাল পাঁচটায় রওনা দিয়েছিলাম।আমরা টাঙ্গাইল শহরের দক্ষিণের নাগরপুর উপজেলার ছোট রাস্তা দিয়ে রওনা দিয়েছিলাম।গ্রামের রাস্তা দিয়ে আমরা রওনা দিয়েছিলাম।পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটে যেতে রাত ৯ টা বেজে গিয়েছিল।এরপর রাত ৯ টার পরে আমরা যখন আবার আমাদের টাংগাইলের দিকে ফিরে আসবো, তখন প্রচুর ঝড় ও বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল।এত বৃষ্টি যে আমরা ভয় পেয়ে গেলাম এই এতটা রাস্তা কিভাবে যাব এই বৃষ্টিতে ভিজে।কিন্তু উপায় নেই সেটি আমাদের অপরিচিত এলাকা আমাদের টাংগাইল ফিরে আসতেই হবে।এরপর বৃষ্টিতে ভিজেই টাঙ্গাইলের উদ্দেশে রওনা করলাম।
অন্ধকার রাত গ্রামের ভিতর দিয়ে ছোট রাস্তা, তার ওপর আবার বৃষ্টি, আকাশে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে, আশেপাশে কোন দোকান নেই দাঁড়ানোর মত।বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে আমাদের শরীরে কাঁপুনি ধরে গিয়েছিল, আমাদের হাত-পা অবশ হয়ে গিয়েছিল।প্রায় একটানা তিন ঘন্টা বৃষ্টিতে ভিজে আমরা টাঙ্গাইলে এসে পৌঁছাই।সেদিন এত কষ্ট হওয়ার পরও আমাদের ভ্রমণের নেশা একটুও কমে নাই।উল্টো আমরা দুই বন্ধু বলেছিলাম সেদিন রাত হওয়াতে ও বৃষ্টি হওয়াতে আমরা কিছু দেখতে পাইনি।তাই একদিন দিনের বেলা আমরা আবার দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ঘাটে যাব।এরপর সত্যিই আরেকদিন দিনের বেলায় গিয়েছিলাম।
তো বন্ধুরা, ভ্রমণের কথা বলে আমি শেষ করতে পারবো না।এটি আমার জীবনের যেমন একটি শখ তেমনই একটি নেশার মতো হয়ে গেছে।যদি ভ্রমণের জন্য আমাকে একদিন না খেয়ে থাকতে বলা হয় আমি তাই করবো।
জানিনা মহান সৃষ্টিকর্তা ভাগ্যে কি রেখেছেন।তবে আগামী দিনগুলোতে আমি প্রকৃতি ও ভ্রমণ নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই।বাংলাদেশের সব দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরতে চাই।