আল্লাহ মেঘ দে
পানি দে
ছায়া দেরে তুই।
ছোটবেলায় এভাবেই বলতাম যখন এক টানা সাত দিন বৃষ্টি না হতো।
বাংলা চৈত্র মাস।আমি মাত্র ক্লাস থ্রিতে পড়ি।একটানা সাত দিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে না, রোদের তাপে আমরা নাজেহাল।তখন আমরা সমবয়সি সকল বন্ধুরা মিলে পানি নিয়ে বাড়ি বাড়ি গেলাম।এবং উঠানে পানি ঢেলে গড়াগড়ি করা শুরু করলাম, আর বলতে লাগলাম 'আল্লাহ মেঘ দে, পানি দে, ছায়া দেরে তুই।'ইস ছোটবেলার সেই দিনটি যদি ফিরে পেতাম।হ্যাঁ বন্ধুরা ছোটবেলায় আমরা ওভাবেই বৃষ্টির জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতাম।বৃষ্টির জন্য আমরা আরও একটি কবিতা বলতাম,
আয় বৃষ্টি ঝেপে, ধান দেবো মেপে।
লেবুর পাতা করমচা, যা বৃষ্টি ঝরে যা।
অতীতে গ্রামাঞ্চলের এই রীতি গুলো সত্যিই অসাধারণ ছিল।এখন সেগুলো শুধুই অতীত।বর্তমান সময়ে এগুলো আর দেখা যায় না।
অতীতের গ্রামাঞ্চলের কিছু রীতি রূপকথার গল্পকেও হার মানায়।ছোটবেলায় যখন বৃষ্টিতে ভিজতাম তখন মায়ের কত বকা খেতাম।এখন আর আগের মতো করে বৃষ্টিতে ভেজাও হয়না মায়ের বকাও খাওয়া হয়না।আর এখন বৃষ্টিতে ভিজলেও মা বকা দিবে না।বৃষ্টি সেই আগের মতোই রয়ে গেছে পরিবর্তন হয়ে গেছি আমরা।এখন বৃষ্টির দিনে একটি জিনিস দিয়ে মনকে সান্তনা দেই।আর জিনিসটি হল ডালের খিচুড়ি।হ্যাঁ বন্ধুরা এখন বৃষ্টি এলেই মাকে বলা হয় ডালের খিচুড়ি রান্না করতে।বন্ধুরা আজ রবিবার ৫ জুন।আজ সকালের কথাই বলি।আজ সকালে ঘুম থেকে উঠেই দেখলাম বাইরে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে।সকালের বৃষ্টিতে ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা অনুভূতি লাগছিল।তাই এই সকালে মাকে বললাম সকালের নাস্তাটা তাহলে খিচুড়ি দিয়েই করি।মাকে ডালের খিচুড়ি রান্না করতে বললাম।বৃষ্টির দিনে ডালের খিচুড়ি এ এক অন্যরকম অনুভূতি অন্য রকম স্বাদ।তাও যদি হয় আবার লেবু দিয়ে।