Author of this content has low reputation.

শৈশবের কথা [পর্ব ১]

Words
343
Reading
2 min
5y


শৈশবের কথা

image.pngphoto source

সকাল ছয়টা থেকেই মা ডাকাডাকি শুরু করে দিত, ঘমু থেকে জাগানোর জন্য।কিন্তু আমি যে খুবই অলস ঘুম থেকে কি উঠতে মন চায়? মা যতই ডাকাডাকি করুক আমি সহজে ঘুম থেকে উঠতে চাইতাম না।আলসেমির ভার কাটিয়ে ঘুম থেকে উঠতে উঠতে প্রায় সাতটা বেজেই যেত।ঘুম থেকে ওঠার পরে দাত ব্রাশ করতাম।ভাবতাম দাত ব্রাশ করে আম কুড়াতে অথবা রাস্তায় গিয়ে মার্বেল খেলবো কিন্তু সেই আশা কি সহজেই পূরণ হয়? দাত ব্রাশ করার পরই মা আমাকে মাদ্রাসায়(মক্তব) যাওয়ার জন্য পীড়াপীড়ি করতো।আমি খুবই বিরক্তি বোধ করতাম।
সকালে উঠেই কি মাদ্রাসায়(মক্তব) যাতে মন চায়?মাকে প্রশ্ন করে বসতাম।তবুও মায়ের হালকা বকুনি এবং আদরের কারণে মাদ্রাসায়(মক্তব) যেতাম।আমার একটা চিন্তা মাথায় থাকতো যে মাদ্রাসায়(মক্তব) পড়া না জমা দিতে পারলে ছুটির আগে বেতের আঘাত খেতে হবে।এজন্য মাঝে মাঝে পেট ব্যাথা মাথা ব্যাথা এগুলোর অজুহাত দেখিয়ে মাদ্রাসা(মক্তব) থেকে আগেই চলে আসতাম।এভাবে অনেক দিন আমি বেতের আঘাত থেকে পালিয়েছি।
কিছু কিছু দিন মাদ্রাসায়(মক্তব) যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে ঠিকই বের হতাম কিন্তু মাদ্রাসা পর্যন্ত যেতাম না।মাদ্রাসায়(মক্তব) না গিয়ে আমি খেলার মাঠে গিয়ে অন্যদের মার্বেল খেলা দেখতাম।খুব কষ্টের মাঝে আমি মাদ্রাসায়(মক্তব) যেতাম।কেননা আমি জানি পড়ালেখার ব্যাপারে মায়ের কাছে কোন অজুহাত চলবে না।
মাদ্রাসা(মক্তব)থেকে এসেই কায়দার বইটা টেবিলের উপরে রেখেই আমি মায়ের কাছে মুড়ি অথবা মজা খাওয়ার বায়না করতাম।মা আমাকে সেগুলো একটি মগ অথবা টুরিতে বোঝাই করে খেতে দিত।তারপর আমি মুড়ি অথবা মজা খেতে খেতে রাস্তায় যেতাম।রাস্তায় গিয়ে মাচাইলে (ব্রেঞ্চ) গিয়ে বসতাম। মাচাইলে বসে বসে মুড়ি খাওয়া শেষ করে বাড়িতে এসেই আমি সকালের খাবার খাওয়ার জন্য বায়না করতাম। কিন্তু প্রায়ভেট পড়তে যাওয়ার আগে কোন খানা হবে না একথা বলতো আমার মা।কেননা খাওয়া শেষ হলেই আমি দৌড়ে এলাকা ছাড়া হয়ে যেতাম।এজন্যই অধিকাংশ দিনই প্রায়ভেট পরে আসার পরই সকালের নাস্তা করতে হতো।
সকালের নাস্তা করে আমি একটু গুড্ডি অথবা ঘুড়ি উড়াতে যেতাম কিছুক্ষণ ঘুড়ি উড়িয়ে আবার স্কুলে যাওয়ার জন্য তৈরি হতাম।যদিও স্কুল কামাই দেওয়া আমার খুব একটা অভ্যাস ছিলো না।স্কুলে গিয়ে দুপুর পর্যন্ত কাটিয়ে ফেলতাম।তারপর বাড়িতে এসে দুপুরের খাবার খেতাম।

কত সুন্দর ছিলো শৈশব😥কোন প্যারা ছিলো না জীবনে।ছোট ছোট শাসন আর স্নেহ ভালোবাসায় কেটে যেত সময়।

শৈশব এর স্মৃতি নিয়ে আরো কয়েকটি পর্ব আপনাদের মাঝে উপস্থাপন করবো ইনশাল্লাহ।আশা করছি আপনারা আমার সাথেই থাকবেন।


শুভেচ্ছা রইলো 🥰


শৈশবের কথা [পর্ব ১] | Ecency