বিকাল ছয়টা , আসলে সন্ধ্যাও বলা চলে ! এখন অবশ্য দিন বড়, তাই সন্ধ্যা ছয়টা বলা যায় নাকি বিকেল তাই বুঝে উঠতে পারছিনা ...
সূর্য ঢলে পরেছে , চারিদিকের উত্তপ্ত গরম পরিবেশটা নিমিষেই শান্ত হতে শুরু করলো। চারিদিকের বাতাশ শীতল হতে লাগলো,সেই সময় তার সাথে কথা বলতে বলতে হঠাৎ টাইটেনিক ছবি জ্যাক এবং রোজের কথা মনে পড়লো। আজকের এইবাতাসটাকে কাজে লাগিয়ে জ্যাক আর রোজের মত রোমান্টিক একটা পরিবেশ উপভোগ করা যেতেই পারে এমন ভাবনা মাথায় আসলো !
রাজশাহী শহর পদ্মার পাড় জুড়ে , আমার মেস থেকে পদ্মার পাড়ে যেতে মিনিট পাঁচেক সময় লাগে। কিছুটা ভয় লাগলেও তাকে বাইরে নিয়ে পদ্মার পাড়ে বসে শীতল আবহাওয়ার পরিবেশটা উপভোগ করার প্রস্তাব দেওয়ার পর সেও চটজলদি করে রাজি হয়ে গেলো, হয়তো আমার মত তারও টাইটেনিক ছবির দৃশ্য উপভোগ করার ইচ্ছা ছিলো!
তার জরুরি কিছু কাজের কারণে বের হতে কিছুটা বিলম্ব করলো ৷ যেহেতু আমাদের প্রেমটা সিনিয়র জুনিয়রের সেহেতু কিছুটা লুকিয়ে লোকচক্ষুর আড়ালেই থেকে নিজেদের ভালো লাগাকে উপভোগ করতে হয় সন্ধ্যা 7টার সময় তাকে নিয়ে পদ্মার পাড় ঘুরতে যাওয়া। সুন্দর মানুষের সাথে সুন্দর আবহাওয়া উপভোগ করার সুযোগ কে হাত ছাড়া করতে চায় বলেন!
বরাবরের মত প্রথমবার তার দিকে চোখ পরে তখন মনে হয় বৈদ্যুতিক খুটির মত সেখানে দাঁড়িয়ে তার হাটা চাওয়া চোখের চঞ্চলতা দেখি। অনিচ্ছা সত্ত্বেও চোখ সরিয়ে সামনে অগ্রসর হয়ে কিছুদূর গিয়ে রিকশা নিয়ে কিছু সময়ের মধ্য নদীর কাছে চলে গেলাম । নদীর কাছে যখন দাঁড়িয়ে তার চঞ্চল চোখের দিকে তাকিয়ে ছিলাম বারবার মনে হচ্ছিলো বিধাতা হয়তো একটু বেশি যত্ন নিয়ে তাকে বানিয়েছিলো নয়তো একটা মানুষ কিভাবে এমন মন টাকে ভালো লাগা দিয়ে দুমড়ে মুচড়ে দিতে পারে! যার হাসি দেখার পর চারিদিকে অন্ধকার কেউ আলোকিত মনে হয়।
বাক্যে আছে চাদের ও খুঁত আছে তবে আমার মনে হয় আমার এই মানুষটির কোথাও খুঁত নেই, কিছুটা বদমেজাজি তবে ভালো মানুসিকতার একটা মানুষ সে ।
তার চোখ জোড়া বিশ্ববিখ্যাত দামী নেশাদ্রব্যের থেকেও বেশি নেশাময়। হয়তো এই চোখ জোড়ার দিকে তাকিয়ে পুরো জনম পার করে দেওয়া যেতে পারে ।
পদ্মার বুকে ঝড়ো শীতল এর মাঝে দাঁড়িয়ে তার পাখির মত ঠোট দিয়ে অনাবরত কথাবলে যাচ্ছিলো আমি বারবার তার কথায় হয়তো অন্য দুনিয়ায় হারিয়ে যাচ্ছিলাম। তবে তার প্রেমে হাবু ডুবু খাওয়ার মধ্যই সে বেগুনীর চপ্ খাওয়ার আবদার করে বসলো তাকে নিয়ে ভাজা দোকানটিতে বসে ভাজা খাচ্ছিলাম এক সময় তার হাতে লেগে থাকা তেল আমার জামাতে মুছে সে হয়তো এক পৈচাশিক আনন্দ পেয়েছে সেই আনন্দ টাকেও আমি উপভোগ করেছি তারপর সময় অনেক অতিক্রান্ত হয়ে গেলে তাকে বাসায় যাবার পালা।
সে চলে যাচ্ছিলো আর আমি দাঁড়িয়ে রয়েছি জানিনা কেনো তাকে এত দেখার পরও মনে হচ্ছিলো সে থেকে যাক আরো কিছুক্ষন ....কিছুটা দূর চলে গেলে ভাবছিলাম একটু পিছে ফিরে তাকাক। তার সাথে দুই ঘণ্টা সময় কাটানোর পরও তাকে বিদায় দেওয়ার ইচ্ছাটুকু ছিলোনা। সব শেষে এইটা উপলব্ধি করতে করতে আসলাম সবাই টাকার প্রেমে পরেনা, কেউ মায়া,যত্নে নিস্বার্থের প্রেমে পড়ে আজীবন সুখী হতে চায়।
আস্তে আস্তে তার চোখ দুটো আমার চোখে ভেসে আসলো আর মনে হলো একটা মানুষ এতটা মায়াবী কিভাবে হতে পারে?! সে আমার কাছে আসার ধরনে মনে হয় আসমান জমীন এক করে হলেও তাকে আমার প্রয়োজন সে আমার জন্যই এসেছে আমার হাসিমুখের কারণ হয়ে। দিন দিন তার প্রতি আমার ভালোবাসাটা বেড়েই চলেছে নদীর বুকে জোয়ারের পানির মতন ।হয়তো তার হাসিটাই একদিন আমার হার্ট এট্যাক এর কারণ হবে!
আজকের মতন বিদায় নিচ্ছি , আশা করছি সবাই ভালো থাকবেন , লেখাটি পড়বার জন্য ধন্যবাদ ....