বিষন্নতা কি জানেন ? যারা বিষণ্ণতায় ভোগেননি তাদের কাছে বিষণ্নতা ব্যাখ্যা করা কঠিন। এটি একটি এলিয়েনের কাছে পৃথিবীর জীবন ব্যাখ্যা করার মতো। বরং ক্ষেত্র বিশেষে তার থেকেও বেশি কঠিন !
বিষন্নতার ধারে কাছে যারা পৌছায়নি তারা জীবনে ভালো আছে বলা যায় তবে তাদের কাছে এই জিনিসটা ব্যাখ্যা করা অনেকটা কানাকে হাইকোর্ট দেখানোর মতন ! বিষন্নতা একবার ভর করলে শেষ , ব্যাপারটা সমুদ্রের তলদেশে সুড়ঙ্গের মধ্যে আটকে পরার মতো। আপনি এর বাইরে বের হতে পারবেন না, না পারবেন নিজেকে হত্যা করতে, কারণ এটি জীবন।
বিষন্নতা কাটানো যায় ভালোবাসার মাধ্যমে , নিজেকে ভালোবাসার মাধ্যমে।কিন্তু মানুষ তো একাকী বাঁচতে পারেনা তাই আমরা শুধু একটা 'আমাদের' খোঁজ পেতে চাই। যাদের মাঝে নিজেকে নিয়ে আমাদের কোন ভয় কাজ করবে না। বরং স্বস্তিবোধ হবে।
তবুও নিজেকে হারানো যাবেনা , জনতার চাদরে গা ঢেকেও যদি নিজের জন্য একটুখানি ভাবতে পারি— এটাই বা কম কী?বিবেক এবং বাস্তবতা এক করতে পারলে একাকিত্ব আর জেঁকে বসে না। তখন নিজেকে অসম্ভব ভালো লাগে। নিজের প্রতি মায়া আর ভালোবাসা জন্মায়। ঘুম থেকে উঠে আয়নার সামনে দাঁড়াতে ইচ্ছা করে। কারণ, 'নিজেকে ভালোবাসতে জানলে অন্য কারও ভালোবাসা প্রয়োজন পড়ে না।'
নিজেকে ভালোবাসাতে অন্যরকম ভালোলাগা কাজ করে , বিষন্নতা নেই সেখানে ।
সেদিন একটা লেখা পড়লাম , তা হলো -
"জন্ম-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণটাই জীবন। সেদিক বিচারে অতি ক্ষুদ্র এই সময়টা। কিন্তু নিয়ম-নীতির ট্যাবু এই ক্ষুদ্র সময়টার দৈর্ঘ্য বাড়িয়ে দেয়। বাড়িয়ে দেয় দীর্ঘশ্বাসও। একসময় লালচোখ দেখিয়ে নিজেকে কেড়ে নিতে চায় নিজের কাছ থেকে। দীর্ঘ জীবনে মৃত্যু ছুটে আসে বহুবার।"
আসলেই তো ! একবারে মরে না যাওয়া অব্দি বাঁচতে হবে বহুবার ।নিজেকে ভালোবাসতে জানলে জীবন সুন্দর। একাকিত্ব বারবার দরজায় কড়া নেড়ে বিরসমুখে ফিরে যায়। সেই একাকিত্বের বিরসমুখের দিকে তাকিয়ে ছোট্ট জীবন কাটিয়ে দেওয়া এমন আর কী! বিষন্নতাকে পাত্তা না দিলেই জীবন পেয়ে যায় বড় পাত্তা !
আজকের মতন বিদায় নিচ্ছি , লেখাটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ , নিরাপদ থাকবেন , আশা করছি ভালো থাকবেন৷