আজকে নিউজফিড ঘাঁটতে ঘাঁটতে ৮ জন ভাইয়ের স্ট্যাটাস দেখলাম, তারা চলে যাচ্ছে ক্যাম্পাস থেকে। বিদায় জানাচ্ছে ক্যাম্পাসকে। আগেও চলে গেছে পরিচিত কিছু ভাই ও আপু। তবে এভাবে একদিনে ৮ জন যায়নি।
এইতো কিছুদিন আগে শীতের ছুটিতে বাসায় এসেছি আর আসার আগের দিন এক ভাইকে স্টেশন রেখে আসলাম। তখন কিছু মনে হয়নি ভাইয়ের সাথে হাসিখুশি মজা সবই করলাম। তবে ট্রেনে উঠার আগে ভাই ভেজা-ভেজা চোখে বলল ভালো থাকিস তোরা শীতের মধ্যে এভাবে রাতে ঘুরে বেড়াস না,রাজশাহীর শীত , সাবধানে !
সে বলে গেলো তার জন্য যাতে দুয়া করি , আর সে মাঝেমধ্যেই আসবে আমাদের কাছে দেখা করতে । জানি ভাইয়ের মাঝেমধ্যে আসা হবে না,শান্ত্বনা স্বরুপ বলে গেলেন !
বন্ধের তিনদিন আগে ফ্যাকাল্টির সামনের দোকানে বসে আছি। সাথে পিচ্চি ভাগ্নেরা আছে, ওরা আমায় দেখলে দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরে । এর মাঝে ডিপার্টমেন্টের এক ভাইয়ের সাথে দেখা। ভাগ্নেদের দেখে দোকান থেকে মুঠোভরতি চকলেট আর চিপস নিয়ে দিলো। চা খেতে খেতে ভাই বললো চলে যাবো রে দুইদিন পরে। প্রিলির শেষ প্রিপারেশন টুকু ঢাকা থেকে নিবো। ক্যাম্পাস থেকে চলে যাবো ভেবে সকাল থেকে টেবিলে বসতে পারি নি, কিছু ভালো লাগছে না। আমি বললাম ভাই ঢাকা মুখী হয়ে যান, তাহলে দ্রুত হয়তো একটা গতি হবে।
পনেরো দিনের ছুটিতে বাসায় এসেছি , কাল ফেরত যাবো রাজশাহীতে । একদিন আমারও ছাড়তে হবে শান্ত শহর রাজশাহী । প্রিয় ক্যাম্পাস ।কাছের মানুষদের সাথে দেখা হবেনা বহুদিন ! যদিও এখনও প্রায় দুই বছর বাকি তাও বুকের মধ্যে একটা নিস্তব্ধতা খেয়াল করলাম !
এইতো কিছুদিন আগে ক্যাম্পাস বন্ধের আগে কিছু ভাই আর আপুর সাথে পুরো ক্যাম্পাস টহল দিয়ে আসলাম। ইবলিশ মাঠ, পশ্চিম পাড়া, আনন্দ চত্বর, প্যারিস রোড হয়ে জোহা চত্বরে এসে নিজ নিজ রুমের দিকে ফিরলাম। মোট ৮ জন ছিলাম তারমধ্যে আমরা ৩ জন ছিলাম জুনিয়র আর বাকি ৫ জন হয়তো খুব শীঘ্রই বিদায় নিবে। আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি !
মুখে বলি কবে যে শেষ হবে এই পড়া , রোজ রোজ এই রান্না ভালো লাগেনা আবার খালার রান্নাও খাওয়া যায়না ! কিন্তু আদৌ কি আমি বা আমার মন যেতে চায় ! এই চেনা মানুষদের রেখে , চেনা জায়গা রেখে যাওয়া কি এতো সহজ ?! যেতে তো হবে , আমাদের বড়রা চায়নি , তবুও হাজারো স্মৃতি রেখে, চলে গেছে তারা।আমরাও যাবো , আমাদের ছোটরাও যাবে । যে বন্ধুদের সাথে দেখা না হলে দিন পার হয়না তাদের সাথে বছরে একবারও হয়তো দেখাই হবেনা !কিছু নিয়ম ভাঙা যায়না , তা চলমানই থাকে !