সাধারণত ছেলেরা গুছিয়ে খুব একটা পড়াশুনা করতে পারেনা । আর আমি মেয়ে হয়েও খুব একটা গুছানো না ।বিগত কয়েকদিনে পড়াশুনার চাপ এতো ছিলো যে গুছিয়ে না হলেও পড়তে বাধ্য হয়েছি !
ক্লাস সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত থাকে। রুমে এসে ক্লান্ত শরীরে খুব একটা পড়তে ইচ্ছে করেনা ।মাঝে লাঞ্চ ব্রেকের পরও এক ঘন্টা বিরতি ছিলো ।ভাবলাম লাইব্রেরীতে যাই , একটু পড়াশুনা হবে ।
আমি কেবলই পড়ার দিকে মন দিচ্ছিলাম আর চোখ পরলো পাশের টেবিলে এক সুদর্শন ছেলের দিকে !খেয়াল করে দেখলাম তার নোট খাতায় বিভিন্ন রঙের কালি দিয়ে কারুকাজ করা! লেখার ধরনটা মনোমুগ্ধকর! অবাক হলাম এই ভেবে যে একজন ছেলের খাতাও এমন সুন্দর গুছানো আর মনোমুগ্ধকর হতে পারে!!
নোট খাতায় লেখা,৩০৩ নং কোর্স;এটা দেখেই বুঝলাম তৃতীয় বর্ষে পড়ে। হয়তো খুব বড় লোক ঘরের পড়ুয়া ছেলে হবে। হয়তো ছেলেদের কোনো এক হলে বর্তমান গণরুমবাসী! কিংবা সদ্য রুম পেয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় জিনিসটাই তো এমন ! ভাবলাম হয়তো গণরুমে কিংবা রুমে পড়ায় মনোনিবেশ করতে না পেরে রিডিং রুমে মনোযোগ নিয়ে এসেছে পড়তে।
আমি পড়তে গিয়েছিলাম তা বেমালুম ভুলে গিয়েছিলাম ! তার দিকে আরেকটু মনোনিবেশ করতে ইচ্ছা করলো ! খেয়াল করলাম সে যেখানে বসে পড়ছে তার ডান সাইডে বড় ঝড়ফ্যান দেওয়া। তার সামনের চুল একটু বড় আর সেই চুলগুলোঅবাধ্য যৌবন ঢেউয়ের মত নৃত্য করছে! আমি যে পড়বো বলে লাইব্রেরী গিয়েছিলাম তা বেমালুম ভুলেই গেলাম !
আমি একটু কাঁশি দিলাম যেন পাশের সিটে বসে পড়তে থাকা ছেলেটির দৃষ্টি আকর্ষণ হয়,ইকটু যেন তাকায়! কথা বলার নিষেধাজ্ঞা থাকায় চিরকুটের মাধ্যমে জিগ্গেস করার ইচ্ছা হলো যে , "আপনার নাম কী?কোন বিভাগ? কোন হল ও কোন সেশন,বাসা ইত্যাদি ?
সে এতোই মনোযোগী ছিলো পড়াশুনা নিয়ে যে , সে তার পাশের সিটে বসা মেয়েটির মুখবয়বও একটাবারের জন্য দেখেইনি! তাকাইওনি।
যাওয়ার আগে একটা চিরকুট দিয়ে গেলো , তাতে লেখা " আপনি সুন্দরী "
আচ্ছা সে না তাকালে,কেমনে বুঝলো,সে সুন্দরী?
চিরকুট উল্টাতে দেখা গেলো তাতে আরেকটা লেখা , আর তা হলো ," মানুষের বাহ্যিক কিছু দেখে সৌন্দর্য পরিমাপ করা উচিত নয়,যার ভেতর সুন্দর সেই সুন্দর। তার ভেতরের সৌন্দর্য বিভিন্ন কাজে ও কর্মে বহিঃপ্রকাশ ঘটে, যেমন সুন্দর হাতের লেখায়,কথা বলাতে,ব্যবহারে, সুন্দর রান্নায় অথবা সুন্দর গান, কবিতাসহ বিভিন্ন কাজে।"
লাইব্রেরীর নীরবতাও কত স্নিগ্ধ স্মৃতি জড়িয়ে দিয়ে যায় তা লাইব্রেরীতে পড়ার চাপের জন্য না গেলে বোঝাই হতো না !
আজকের মতন বিদায় নিচ্ছি , লেখাটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ , নিরাপদ থাকবেন , আশা করছি ভালো থাকবেন৷