হাওয়াতে ছিলো বসন্তের গন্ধ। সবাই পহেলা ফাল্গুন উদযাপনের জিনিস সাজাতে ব্যস্ত ছিলো। বাংলা ফাল্গুন মাসের ১ তারিখ বাঙালির মনে দোলা দিয়ে যায় বসন্ত। কারণ ফাল্গুন আর বসন্ত নিয়ে মানুষের অনেক উৎকণ্ঠা রয়েছে।
এ বছরের পহেলা ফাল্গুন ছিলো ফেব্রুয়ারি মাসে । মানুষ এই দিনটিতে ফুল দিয়ে নানান কিছু আয়োজন করে থাকে।এবারো এর ব্যতিক্রম ছিলোনা। পহেলা ফাল্গুন আর ভালোবাসা দিবস বেশ কিছু বছরের মতন এবারো একদিনে ছিলো।
পহেলা ফাল্গুন উপলক্ষে আমরা দিয়েছিলাম পিঠা আর ফুলের স্টল ।নাম ছিলো বাসন্তী পিঠালয় । আমার জন্য স্টল দেওয়া ব্যাপারটা ছিলো একদমই নতুন ।নেহাতই মজা করতে আর কিছু ধারণা নিতে আমরা কয়েকজন মিলে একটা স্টল দিয়েছিলাম আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ফ্যাকাল্টিতে ।
যেহেতু ফাল্গুন আর ভালোবাসা দিবস ছিলো একদিনে সুতরাং সাভার গোলাপ গ্রাম থেকে আমরা কিছু গোলাপ নিয়ে রেখেছিলাম স্টলে বিক্রির জন্য ।
ছিলো হোমমেইড ডার্ক চকলেট ।যার প্যাকেজিং ছিলো ভিন্ন ।কিছু গানের লাইন নিয়ে তৈরী এই প্যাকেটগুলো নজর করেছিল অনেক মানুষের ।
প্রিয় মানুষকে উপহার দেওয়ার জন্য অনেকেই এই চকলেট উৎসাহ নিয়ে ক্রয় করেছিলো ।
আমরা চারজন মিলে এই স্টল দিয়েছিলাম , আমরা সবাই ছিলাম মেয়ে উদ্যোগতা ।
স্টলে থাকা খাবার যাতে টাটকা থাকে তার জন্য আগের রাতে তৈরী করে রাখিনি কোনোকিছুই ।ভোর বেলা উঠে চারজন আমরা চারপদ খাবার তৈরী করলাম ।স্টলটি ছিল দুইদিন এর জন্য , দুইদিনই আমরা ভোর থেকে উঠে রান্না করেছি , খাবার শেষ হয়ে গেলে আবার রান্না করে দিয়েছি রিফিল ! বলা যায় এক অন্যরকম অনুভূতি ।
ছিলো এগ ভেজিটেবলে চাওমিন ।
ছিলো বাঙালি ঘরের রান্না করা এগ পাস্তা ।
ছিলো ক্ষিরশা দিয়ে তৈরী পাটিসাপ্টা ।
আর সবার চোখের মনি এগ পুডিং ।
আর ছিল ডাল পুলি যার স্বাদ ছিলো অস্বাধারণ ।
এ তো ছিলো প্রথম দিনের মেন্যু ।
দ্বিতীয় দিন এসেছিলো সবজি পুলি , যার জন্য আমাদের ইনভেস্টমেন্ট ছিলো মাত্র গুটিকয়েক টাকা আর লাভ এনে দিয়েছিলো বিনিয়োগের কয়েকগুন !!
সকাল থেকে রাত অব্দি স্টলে এসেছে নানান বয়সী কাস্টমার।
শুরু হয়েছিলো একটা ছোট বাচ্চার ক্রয় দিয়ে যে কিনা আমাদের স্টলের সব খাবার খেয়ে সুনাম করেছিলো ।
স্টলে এসেছিল আমার ডিপার্টমেন্ট এর সবচেয়ে কনিষ্ঠ একঝাঁক ছোট ভাই বোন।বড় আপুদের উৎসাহ দিতে ওদের উপস্থিতি ছিলো অনেক বড় পাওয়া ....
সকাল থেকে সন্ধ্যা অবদি প্রায় না খেয়েই ছিলাম স্টলে , পেটে খুদা আর সামনে সুস্বাদু খাবার তাও নিজেদের তৈরী , মাঝে মাঝে নিজেদের স্টল থেকে খাবার আমরা নিজেরা কিনে কিনেই খাচ্ছিলাম ক্ষুদা নিবারণ করবো বলে !
পাশেই অন্য ডিপার্টমেন্ট এর জুনিয়ররাও দিয়েছিলো খাবার স্টল। যারা আমাদের তৈরী খাবার খেয়ে খুশি হয়ে দিয়েছিলো এক বাটি পায়েস , আহা ! অমৃত !
লাভ লস মূল ছিলনা , তবে দুইদিন শেষে হিসাব মিলিয়ে আমরা কেউ আফসোস করিনি ।
নতুন কিছু বরাবরই নতুন নতুন শিক্ষা দেয় , আমরাও অনেক কিছু শিখেছি , দেখেছি ক্রেতারা কিভাবে নানান মানুষের দর্শণ পায়। দুইদিন ব্যাপী স্টলে থেকে আমরা অর্থ ব্যতীত অর্জন করেছিলাম আরেকটা জিনিস , তা হলো মানুষের মুখের আনন্দ , যা তারা খাবার খেয়ে তৃপ্তিতে পাচ্ছিলো , এটাই তো পরিমাপবিহীন এক পাওয়া , তাই নয়া কি ?!!
এই তো আমার রঙিন ফাগুনকে বরণ করবার গল্প ।আজকের মতন বিদায় নিচ্ছি , আবার খুব জলদিই আসবো নতুন কোনো গল্পকথন নিয়ে ।