সকাল থেকে সারা দুপুর এদিক ওদিক টই টই করে তারপর আবার আজকের কাঠফাটা রোদ ঠেলে বাসায় ফিরতেছিলাম।সময়টা পরন্তু বিকেল বলা যায়।রোযার মধ্যে রোদে,গরমে একেবারে অসহ্য অবস্থা।বাসে খুবই বিরক্তি নিয়ে অসহায় ভঙ্গিতে বসে আছি। তীব্র গরমে বেহাল অবস্থা ।
ফার্মগেট থেকে একটা আপু উঠলো,কোলে একটা মাশাল্লাহ্ চেহারার কিউট বাচ্চা।উনার হাতের ব্যাগটা উনি আমাকে রাখতে বললেন বলেই এতোকিছু নজরে আসলো।আমি আবার যাত্রাপথে এদিক ওদিক খুব কম খেয়াল করি অথবা বলা যায় খেয়ালই করিনা । যাইহোক ব্যাগ নেবার পর থেকে আমার খেয়াল সেই আপু আর বাচ্চার দিকেই ছিলো বাকিটা সময়।
আপুর প্যারেন্টিং বেশ ভালো বোঝাই যাচ্ছিলো যা আজকাল খুব একটা দেখা যায়না।বাচ্চা পানি খেতে চাচ্ছে অথচ সে পানি আনতে ভুলে গেছে।তাই নিজেই বারবার সরি বললো বাচ্চাকে।তারপর ভাড়া দেওয়ার সময় বাচ্চার হাতে টাকা দিয়ে বললো আঙ্কেলকে ভাড়াটা দাও।এই দৃশ্য দেখে কর্কশ কন্ডাক্টর ও বাচ্চাকে থ্যাঙ্কিউ দিচ্ছে,বাচ্চাকে আপু আবার ওয়েলকাম বলতে বলতেছে।আমার কাছে অসাধারণ লাগলো ব্যাপার টা ।
কিছুক্ষণ পর আমি এই বাচ্চার সাথে কিছু কথাবার্তা চালানোর চেষ্টা করলাম।আমার জীবনের একটা অন্যতম আফসোস হচ্ছে আমি বাচ্চাকাচ্চা পছন্দ করলেও অধিকাংশ সময়ই তারা আমাকে ইগ্নোর করতে পছন্দ করে।আমার মাঝে মাঝে আমিই বাচ্চা কাচ্চা খুব বেশী সময়ের জন্য পছন্দ করিনা ! তাও আজকে ভাগ্য কিছুটা সুপ্রসন্ন ছিলো বলা যায়।আমার 'হাই' এর প্রত্যুত্তরে সেও হাত নেড়ে 'হাই' দিলো এবং এমন এক স্বর্গীয় হাসি দিলো যা বলে বুঝানো সম্ভব না।বাচ্চাদের মধ্যে ফেরেস্তা থাকে ব্যাপারটা আসলেই সত্য বলে মনে হতে লাগলো !
এরপর সে টুকটাক কথাবার্তাও কন্টিনিউ করলো।যাই হোক,আমি নামলাম মিরপুর দশে ,সেই আপুও নামলো।বাস থেকে নেমে আমি আল্লাহ্ হাফেজ বলতেই সে আবার ও হাত নেড়ে বিদায় জানালো,আর সাথে সেই স্বর্গীয় হাসি।বাকি দিনটা আমার অকারণেই ভালো গেলো ।মাঝে মাঝে অকারণেই হাসলাম ।
বাচ্চারা সৃষ্টিকর্তার কত্ত অসাধারণ এক সৃষ্টি!আমি মুগ্ধ,কিছুক্ষণের জন্য আমার মনে হলো এইরকম হাসি দেখার জন্য আমি আরো একশো দিন রোদ ঠেলে বাসে আসতে রাজি আছি,,,! বাচ্চার হাসিতে রোদকে আমার তুচ্ছ লেগেছিলো , ক্লান্তিকে ছিলো সীমাহীন ভালোবাসা ।
জীবনে ভালো লাগাগুলো খুব তুচ্ছ ভাবেই আসে , কাঠফাটা গরমে কিংবা স্নিগ্ধ শীতে ।এমন ভালোলাগাগুলো সবার জীবনে আসবে এমন আসা নিয়েই আজকের মতন বিদায় নিচ্ছি ,আশা করছি সবাই ভালো থাকবেন ।