প্রায় চৌদ্দ দিন পর আজ লিখতে বসলাম , সেমিস্টার ফাইনাল চলছিলো , আজ শেষ।বিকেলে রুমে ঢুকে ঘুম দিলাম আর উঠলাম মাত্র , বারোটা পার হয়ে গেছে। আপাতত একটা নদীর পাড় দরকার,তার পাশে অসহায়ের মতো বসে থাকা দরকার,,,শান্তি দরকার !! পরীক্ষার চাপে নিজের পছন্দের গান শুনিনা আজ পনেরো দিন । আকাশ দেখিনা ম্যালা দিন , মনে হচ্ছে যুগ পার করে ফেলেছি !
রুমে কিছু গাছ আছে , ইনডোর প্লান্ট , তাদের যত্ন নেইনা আজ অর্ধমাস হয়ে গেছে ! গাছ ভালো থাকতেই পরিচর্যা করতে হয়। আগাছা জন্মানোর আগেই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হয়। গাছ মরে গেলে অথবা, আগাছায় গ্রাস করে ফেললে আর ভালো অবস্থায় ফেরানো সম্ভব নয়।
বাসা থেকে দূরে থাকা এমনিতেই মানসিক চাপ তৈরী করে , তার উপর দিয়ে পরীক্ষার সময় তা বেড়ে যায় কয়েকগুণ !
ক্যাম্পাস জীবন আর ভালো লাগেনা ইদানিং , নিজেকে পাইনা এইখানে ...
ক্যাম্পাস মানে আমার কাছে এখন বিষাদ এর জায়গা ! এইখানে সিনিয়র পাইলাম , ব্যাচমেট পাইলাম , জুনিয়র পাইলাম , ভালোবাসা পাইলাম , সম্মান পাইলাম , অগ্রাধিকার পাইলাম , অবজ্ঞা পাইলাম , সুনাম-দুর্নাম সবই পাইলাম ....পাইলাম না নিজেরে .....নিজের অস্তিত্বরে .....
যখন সময় থাকে,তখন বুঝি না!
যখন বুঝি,তখন আর সময় থাকে না!
মানুষের এই চিরন্তন প্রবণতা চিরকালের!
নিজের স্বপ্নকে তিলে তিলে মেরে ফেলছি হয়তো , এখন অযথা শুয়ে থাকতেই ভালো লাগে । পরীক্ষা গেলো , টানা পনেরো দিন ফোন ধরিনি , সারাদিন পড়েছি এমন না , আসলে শান্তি পাচ্ছিলাম না , অকারণে কান্না পেতো ...হয়তো আমার বাসায় যাওয়া দরকার , আপনজনের থেকে দূরে থাকলে হয়তো অকারণেই খারাপ লাগে !
বিল্ডিংয়ের দেয়ালে, কার্নিশে ঘুণে লাগার আগেই রং আলকাতরা বা পলেস্তারা খসে পড়ার আগেই মেরামত করতে হয়। যদি সে পচন মূল পর্যন্ত পৌঁছায়। ভিত পঁচার সম্ভাবনা থাকে । কিংবা ধরে নিলাম যদি পঁচে যায়, তাহলে প্রমথ চৌধুরীর একটা উক্তি ছাড়া আর কোনোটাতেই কাজ দিবে না।তাকে সমূলে উৎপাটন না করে তার ওপর যতবার ইমারত নির্মাণ করা যাবে । ততবারই ভেঙে পড়বে। তাই সমূলে উৎপাটন করে সেটাকে নিশ্চিহ্ন করার বিকল্প নাই।
সব বুঝি তাও এতো বিষাদ কেনো বুঝ পাইনা , লিখে আনন্দ পেতাম এখন শব্দ মেলাতে পারিনা ।অন্য শহরে এসে একাকিত্বের মাঝে নাকি নিজেকে খুঁজে পাওয়া যায় কিন্তু আমি নিজেকে হারিয়ে কেন ফেলছি বুঝতে পারছিনা ....
আজকের মতন বিদায় নিচ্ছি , লেখাটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ , নিরাপদ থাকবেন , আশা করছি ভালো থাকবেন৷