বাচ্চার স্কুলের প্রথম দিন বেশিরভাগ অভিভাবকই চিন্তিত থাকেন। প্রথম দিনটা কেমন কাটবে, কোনও সমস্যা হবে কি না, সন্তান মানিয়ে নিতে পারবে কি না এ সব কিছু নিয়েই চিন্তা করতে থাকেন। আসল বিষয়টা হল প্রথমবার বাবা-মাকে ছেড়ে অতক্ষণ একা থাকার একটা বিষয়টি নিয়েই অভিভাবকরা চিন্তিত থাকেন।
প্রথম অভিভাবকদের ছেড়ে থাকতে বাচ্চার একটু কষ্ট হয়। এটা অনেক বাচ্চাই মেনে নিতে পারে না। আর সেই কারণে স্কুলে যাওয়ার নাম শুনলেই তারা কান্নাকাটি শুরু করে দেয়। আবার অনেক বাচ্চা খুব কম দিনের মধ্যেই মেনে নেয়। ফলে তাদের কোনও সমস্যাই দেখা যায় না। এর আসল কারণ ভালো বন্ধু পাওয়া।
আসলে বন্ধুদের উপর অনেক কিছুই নির্ভর করে থাকে। বয়ঃসন্ধির সময় বাচ্চাদের যে সব বন্ধুরা থাকে তাদের সঙ্গে অনেক বড় বয়স পর্যন্তই বন্ধু থাকে। আর এই বন্ধুত্বর প্রভাব অনেক বেশি হয়। ফলে এই সময় সঙ্গে পড়ে অনেক বাচ্চাই খারাপ হয়ে যেতে পারে। আবার সঙ্গে পড়ে অনেক বাচ্চাই ভালো হয়ে যায়। তাই ভালো বন্ধ পাওয়া খুবই প্রয়োজন।
অনেক সময় বাচ্চারা প্রথম প্রথম স্কুলে যেতে চায় না। কিন্তু, যখন তাদের বয়সি কারোর সঙ্গে তাদের বন্ডিং ভালো হয়ে যায় তখনই তাদের স্কুলে যাওয়ার একটা আলাদা আগ্রহ তৈরি হয়। তবে এই বন্ধুত্ব ছেলেবেলায় কোনও কিছুর উপর নির্ভর করে না হলেও, বড় হওয়ার পর বন্ধুত্ব কোনও কিছুর পরিপ্রেক্ষিতে হয়ে থাকে। সেখান থেকেই ভেদাভেদ তৈরি হয়। কখনও সেটা পয়সার দিক থেকে হতে পারে। আবার কখনও সেটা দেখার দিক থেকে, কখনও পড়াশোনার দিক থেকেও হতে পারে।
তবে বাচ্চাদের মধ্যে এই ভেদাভেদ থাকা একেবারেই ঠিক না। আসলে একটা বন্ধুই আর একটা বন্ধুকে ভালো পথে নিয়ে যেতে পারে। বন্ধুর কোনও সমস্যা হলে আর একটা বন্ধুই প্রথমে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাই বাচ্চাদের মধ্যে ছোটো থেকে যাতে এই ভেদাভেদ তৈরি না হয় তার জন্য অভিভাবকদেরই এটা ঠিক করা উচিত। বাচ্চাদের এ বিষয় বোঝানো দরকার।
The photo's site name