https://m.daily-bangladesh.com/lifestyle/162399
আসসালামু আলাইকুম,
আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে আশা করি সবাই ভাল আছেন। আমিও ভালো আছি আপনাদের দোয়ায়। প্রতিবারের মতো আজকেও আমি আপনাদের সামনে প্রকৃতির একটি অনন্য গুনাগুন সম্পূর্ণ পাতার উপকারিতা নিয়ে উপস্থিত হয়েছি। আশা করি এ পাতা প্রয়োগ এর নিয়মাবলী জেনে আপনারা ও উপকৃত হবেন।
আসুন জেনে নেয়া যাক বিভিন্ন অঞ্চলে এ পাতা কে কি নামে
ডাকা হয় :
স্বাভাবিকভাবে একে বলা হয় থানকুনি বা থুলকুঁড়ি। আবার বিভিন্ন অঞ্চল ভেদে একে বিভিন্ন নামে ডাকা হয় যেমন : পয়সা পাতা, টিয়া পাতা ,তেমনি পাতা ,আদাগুনগুনি, টেমানি পাতা, আদামনি পাতা । আর সংস্কৃত ভাষায় বলা হয় মুন্ডুকপর্ণী।
গাছের বিবরণ :
এ গাছ খুব ছোট ছোট আকৃতির হয়ে থাকে। যেসব জায়গায় সবসময় পানি থাকে থানকুনি পাতা ওই জায়গায় ভালো জন্মায়। এর ছোট আকৃতির পাতা দেখতে অনেকটা পদ্ম পাতার মত দেখায়। এর ডাটা সরু এবং থাকে। এই গাছ সাধারণত তার শিকড় এর মাধ্যমে বংশবিস্তার করে। শিকড় থেকে অংকুর বেরিয়ে সব জায়গায় ছোট ছোট গাছের জন্ম হয়।
বিভিন্ন রোগে এর প্রয়োগ বিধি :
কারো শরীরে রক্ত দূষণ দেখা দিলে এই থানকুনি পাতা তখন তার জন্যও বেশ উপকারী আসে। কিছু থানকুনি পাতা পানিসহ সিদ্ধ করে তার কাথ বের করতে হবে। তারপর পাঁচ তোলা পরিমাণ থানকুনি পাতার কাথ মধু বা চিনি মিশিয়ে সেবন করলে খুবই সুফল পাওয়া যায়। এভাবে কিছুদিন খেলে রক্ত দূষণ ধীরে ধীরে ভালো হয়ে যাবে।
যে কোনো কারণে ঠান্ডা লেগে কাশি হলে তখন থানকুনি পাতা ওষুধ হিসেবে ভালো কাজ করে। দু'চামচ থানকুনি পাতার রস এবং এক চামচ মধু মিশিয়ে খেয়ে নিলে কাশি কমে আসে।
যাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম,যেকোনো কারনেই অল্প সময়ের ব্যবধানে অসুস্থ হয়ে পড়ে তাদের জন্য এই থানকুনি পাতা। তারা প্রতিদিন থানকুনি পাতা তার রস খেতে পারেন এতে করে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যাবে অনেক। ফলে বার বার রোগাক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আর থাকবে না।
আমাশয় বা পাতলা পায়খানা জনিত সমস্যার কারণেও থানকুনি পাতা খেতে পারেন। প্রতিদিন 3 চামচ পরিমাণ থানকুনির পাতার রস খেলে আমাশয় বা পাতলা পায়খানা ভালো হবে ইনশাল্লাহ। তবে এক্ষেত্রে আবার থানকুনি পাতার ভর্তা করেও খেতে পারেন তাহলেও এ কিভাবে কাজ করবে।
সিজনাল জ্বরে কেউ আক্রান্ত হলে তার জন্য এই থানকুনি পাতা বিশেষ ভাবে কাজ করে। এই সিজনাল জ্বর সারানোর জন্য এক তুলা থানকুনি পাতা ও শিউলি পাতার রস একত্রে মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে খেলে কয়েক দিনের মধ্যেই রোগী ভালো হয়ে উঠবে।এভাবে কম করে হলেও পাঁচ দিন খেতে হবে তাহলেই সম্পূর্ণভাবে সুস্থ হবে।
রূপচর্চায় ও থানকুনি পাতা উপকারী। প্রতিদিন এক গ্লাস পরিমাণ থানকুনি পাতার রস খেতে পারলে মুখে বলিরেখা, বয়সের ছাপ এগুলো সহজে পড়বে না। থানকুনি পাতার রস, অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে মুখে মাখলে মুখের দাগের উপর ভালো কাজ করে।
মেধা শক্তি বাড়াতে ও থানকুনি পাতার জুড়ি নেই। সপ্তাহে দু-তিনবার যেকোনোভাবে থানকুনি পাতা খেতে পারলে মেধাশক্তি ধীরে ধীরে বাড়তে থাকবে।
চুল পড়া ও থানকুনি পাতা ভালো কাজ করে। থানকুনি পাতা ও মেহেদি পাতাএকসাথে পিষে, তারমধ্যে অ্যালোভেরা, টকদই 1 চামচ ও ডিমের সাদা অংশ এগুলো একসাথে মিশিয়ে মাথায় মাখলে চুল পড়া কমে আসে।খেয়াল রাখতে হবে সপ্তাহে অন্তত দু' বার এই প্যাক টি ব্যবহার করতে হবে। তাহলেই ধীরে ধীরে চুল পড়া কমে আসবে।
খাবারের রুচি নষ্ট হয়ে গেলে তখনো থানকুনি পাতার রুচি ফেরাতে ভালো কাজ করে। মুখের রুচি ফেরানোর জন্য থানকুনি পাতা শেকর সহ ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। এরপর এগুলোর টুকরো করে পিষে নিতে হবে এর সাথে দু'তিনটে কাঁচামরিচ দুটো রসুনের কোয়া পরিমান মত লবন দিয়ে ভর্তা বানিয়ে খেতে হবে। দু ' দিন একবার করে খেলেই রুচি ফিরে আসবে মুখের।
স্তন্যদানকারী মারা যদি থানকুনি পাতা দিয়ে মাছের ঝোল করে খেতে পারেন, তাহলে তাদের বুকের দুধের পরিমাণ বেড়ে যায় । এতে করে সদ্যজাত সন্তানের শরীর ও ভালো থাকে। আর মায়ের কাটাছেঁড়া ঘা ও তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায়।
হাত পা কেটে গেলে তখন হাতে কিছু থানকুনি পাতা নিয়ে আংগুল দিয়ে পিষে থানকুনি পাতার রস বের করে তা সেই কাটা স্থানে চেপে ধরলে রক্তপড়া বন্ধ হয়ে আসে এবং তাড়াতাড়ি ঘা শুকিয়ে যায়।
পোস্টটি এতক্ষণ সময় নিয়ে পড়ার জন্য আপনাকে আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ। পোস্টটি নিয়ে কোন মন্তব্য থাকলে আমাকে তা খোলাখুলি ভাবে বলতে পারেন। ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। আপনার জীবনের প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ করে আপনিও পেতে পারেন এই পাতার সুফল।
আল্লাহা হাফেজ