মেয়াদ বাড়ছে

mahfuz01(42)
Published in
#news
Words
528
Reading
3 min
Listen
Play
9y

Screenshot_2.pngজাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের মেয়াদ বাড়ছে। এ লক্ষ্যে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এবার মেয়াদ ২০ বছর বাড়ানোর প্রস্তাব রেখে আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘সংবিধান (সপ্তদশ সংশোধন) আইন-২০১৮’-এর খসড়া অনুমোদনের জন্য তোলা হতে পারে। ইতিমধ্যে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব চূড়ান্ত করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর আগে সংসদে নারী আসনের মেয়াদ দু’বার বাড়ানো হয়।
সংবিধানের ৬৫(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বর্তমানের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যের মেয়াদ চলতি সংসদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শেষ হয়ে যাবে। পরবর্তী সংসদে সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য রাখতে হলে নতুন করে আইন করতে হবে। এ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- ‘সংবিধান (চতুর্দশ সংশোধন) আইন-২০০৪ প্রবর্তনকালে বিদ্যমান সংসদের অব্যবহিত পরবর্তী সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ হইতে শুরু করিয়া দশ বৎসর কাল অতিবাহিত হইবার অব্যবহিত পরবর্তীকালে সংসদ ভাংগিয়া না যাওয়া পর্যন্ত [পঞ্চাশটি আসন] কেবল মহিলা-সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত থাকিবে এবং তাঁহারা আইনানুযায়ী পূর্বোক্ত সদস্যদের দ্বারা সংসদে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির ভিত্তিতে একক হস্তান্তরযোগ্য ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হইবেন: তবে শর্ত থাকে যে, এই দফার কোন কিছুই এই অনুচ্ছেদের (২) দফার অধীন কোন আসনে কোন মহিলার নির্বাচন নিবৃত্ত করিবে না।’
এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক স্পষ্ট কোনো জবাব দেননি। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘বিলটি মন্ত্রিসভায় ওঠার পর আমি এ নিয়ে কথা বলব।’
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উচ্চপর্যায়ের আরেকটি সূত্র যুগান্তরকে জানিয়েছে, ‘এবার আসন বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়নি। অর্থাৎ সংরক্ষিত নারী আসন ৫০টিই থাকছে। তবে ১০ বছরের স্থলে এবার মেয়াদ ২০ বছর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রস্তাব চূড়ান্ত করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে।’
১৯৭২ সালের সংবিধানে সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১০ বছরের জন্য ১৫টি আসন সংরক্ষণের বিধান করা হয়। ১৯৭৮ সালে সংরক্ষিত আসন সংখ্যা ৩০-এ উন্নীত এবং এর মেয়াদ ১৫ বছর করা হয়। ২০০৪ সালে সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংরক্ষিত আসন সংখ্যা ৪৫ ও এর সময়সীমা ১০ বছর নির্ধারণ করা হয়। ২০১১ সালের ৩ জুলাই সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী এনে সংরক্ষিত মহিলা আসন সংখ্যা ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০টি করা হয়। এরপর থেকে জাতীয় সংসদ ৩৫০ সদস্যবিশিষ্ট; যার ৩০০ জন সরাসরি ভোটে নির্বাচিত। অবশ্য সংরক্ষিত আসনের পাশাপাশি নারীরা সরাসরি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারছেন।
এ নিয়ে কথা হয় মানবাধিকার ও নারী আন্দোলনের কর্মী এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সুলতানা কামালের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘প্রথম যখন সংরক্ষিত নারী আসনের দাবি ছিল তখনও এ রকম একটা কথা ছিল যে, একটা পর্যায়ে গিয়ে নারীরা সরাসরি নির্বাচনে অংশ নেবেন। কেননা একজন অনির্বাচিত এমপি খুব বেশি ভূমিকা পালন করতে পারেন না। সে কারণে আমি বলব, সরাসরি নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো উচিত। আর সংরক্ষিত নারী আসনও থাকতে পারে, তবে সেখানেও যারা আসবেন তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আসার ব্যবস্থা থাকা উচিত।’
তবে সংরক্ষিত নারী আসনের মেয়াদ আর বাড়ানোর পক্ষে নন আরেক নারী অধিকার কর্মী ও জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সাবেক নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সালমা আলী। তিনি বলেন, ‘সংরক্ষিত আসনের সদস্য হয়ে জনগণের সঙ্গে সরাসরি কাজ করার সুযোগ খুব কম। এই এমপিরা অনেকটা অলংকারের মতো। তাদের কোনো নির্বাচনী আসন দেয়া হয় না, যে কারণে জনগণের সঙ্গে সরাসরি মিথস্ক্রিয়ার সুযোগ খুব কম থাকে। কেননা নির্বাচিত হয়ে আসা এমপিরা একটি আসনের জনগণের প্রতিনিধি হয়ে আসেন, স্বভাবতই সেই এলাকার মানুষের প্রতি তার দায়বদ্ধতা থাকে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়। এলাকায় সরাসরি কাজ করেন তারা। তাই জনগণের কাছে নির্বাচিত এমপিদের মূল্যই বেশি। তাই সংরক্ষিত নারী আসনের মেয়াদ না বাড়িয়ে সরাসরি নির্বাচনের জন্য নারীদের উৎসাহিত করা উচিত। নারীদের বেশি বেশি মনোনয়ন দেয়া উচিত।’