গৃহপালিত স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে মহিষ অন্যতম। সাধারণত যেসব গ্রামীণ এলাকায় নদী আছে ওই সব এলাকায় মহিষের পালন বেশি হয়। সাধারণত গ্রামের নিম্নবিত্ত পরিবারের লোকজন মহিষ পালন করে থাকে। এসব নিম্নবিত্ত পরিবারের লোকজন তাদের পরিবার চালায় মহিষের দুধ বিক্রি করে। মহিষের দুধ খুব পুষ্টিকর এবং মিষ্টি স্বাদ যুক্ত। এজন্য গ্রামীণ এলাকায় মহিষের দুধের চাহিদা ব্যাপক। একটি মহিষ থেকে প্রতিদিন গড়ে ২.৫ থেকে ৩ লিটার দুধ পাওয়া যায়। ফলে দুই-তিনটা মহিষ পালন করলে এর দুধ বিক্রি করে নিম্নবিত্ত পরিবারের দৈনিক ভরণপোষণ এর সকল খরচ হয়ে যায়।
সাধারণত দেশের দক্ষিণ অঞ্চল অর্থাৎ খুলনা বাগেরহাট অঞ্চলে মহিষের পালন বেশি হয়। বাতান হল এমন স্থান যেখানে একটি নির্দিষ্ট এলাকার সকল মহিষকে একত্রে রেখে মহিষ পালন করা হয়। নদীর চরে গড়ে ওঠে মহিষের বাতান। সাধারণত নদীতে পানি থাকা অবস্থায় বাতান গড়ে ওঠে না, সাধারণত যখন নদীর নির্দিষ্ট স্থানের পানি শুকিয়ে চর পড়ে যায় তখন ওই চর মহিষের বাতান হিসেবে গড়ে ওঠে। বাতানে মহিষকে দিনের বেলায় রাখা হয়। সাধারণত নদীর চরে পর্যাপ্ত পরিমাণ মহিষের খাবার থাকে বিধায় চর এলাকা গুলো মহিষের বাতান হিসেবে গড়ে ওঠে। খুব সকালে একটি নির্দিষ্ট এলাকার সকল মহিষ চাষীরা তাদের মহিষ বাতান নিয়ে যায় এবং সন্ধ্যার ঠিক আগে আবার বাতান থেকে মহিষ ঘরে নিয়ে যায়।
মহিষ চাষ অনেক লাভজনক হওয়ায় বর্তমানে মরিচ চাষ আর শুধু নিম্নবিত্তদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। বর্তমানে অনেক মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্ত পরিারের লোকজন খামার করে বাণিজ্যিকভাবে মহিষের চাষ করছে। এজন্য নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য মহিষ চাষের উদ্যোগ কার্যকর হতে পারে। কারণ বাণিজ্যিকভাবে মহিষ চাষ ব্যাপক লাভজনক একটি প্রক্রিয়া।