ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশ। প্রতি দুই মাস অন্তর অন্তর বাংলার ঋতু পরিবর্তন হয়। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃতি ধারণ করে তার নতুন রূপ। ঋতু পরিবর্তনে কখনো প্রকৃতি প্রখর হয়ে ওঠে ,কখনো হিমশীতল হয়, কখনো বা নিথর হয়ে যায়, আবার কখনো প্রকৃতির সৌন্দর্যে ভরে যায়। প্রকৃতির এসব রুপের পরিবর্তন ঘটে প্রধানত ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে।
ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সবাইকে পরিবর্তিত হতে হয়। অর্থাৎ ঋতু পরিবর্তনে সবাইকে অভিযোজিত হতে হয়। ঋতুর এই পরিবর্তন সবাইকে শিক্ষা দিয়ে যায়। ঋতুর পরিবর্তন আমাদের মনমানসিকতার পরিবর্তন সহায়তা করে। আবার প্রতিকূল পরিবেশে অভিযোজিত হতে সাহায্য করে। ঋতুর এই পরিবর্তন থেকে প্রত্যেককে শিক্ষা নেওয়া উচিত।
বাংলার প্রকৃতি ঋতু বৈচিত্রের প্রথমেই যে রূপ ধারণ করে তাহলে প্রখর উষ্ণতা। গ্রীষ্মের দাবদাহ রোদ্রে প্রকৃতি তার তেজী রূপ ধারণ করে। গ্রীষ্মের এই দাবদাহ থেকে প্রকৃতিকে বাঁচাতে আবার ফিরে আসে বৃষ্টিময় বর্ষাকাল। বর্ষা মৌসুমে মুষুলধারে , গুড়িগুড়ি আবার কখনো বা একটানা বৃষ্টি দেখা যায় সারা মৌসুম জুড়ে। এরপরই প্রকৃতিতে আসে শরৎকাল। শরৎ প্রকৃতিকে স্নিগ্ধতা দান করে। শরতের প্রধান আকর্ষণ হলো কাশফুল। প্রকৃতি এর পরেই দেখতে পায় হেমন্তকাল। হেমন্ত প্রকৃতিকে শীতের আভাস দিয়ে যায়। এ সময় প্রকৃতির নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা দেখা যায়। প্রকৃতিতে এরপরে আগমন ঘটে তীব্র শীতের। শীতের তীব্রতায় গাছের পাতা ঝরে যায়। সবার গায়ে শীতের কাপড় দেখা যায়। শীত মৌসুমে চারদিকে পিঠা বানানোর ঢল পড়ে যায়। এরপর প্রকৃতিতে যে ঋতুর আগমন ঘটে তাহলে ঋতুরাজ বসন্ত। বসন্ত চারদিকে ফুলের গন্ধে ভরে যায়। এই ঋতুতে শীত এবং গরমের প্রভাব বিদ্যমান।
বাংলার ষড়ঋতুর এই বৈচিত্র বিশ্বের কোন দেশে পাওয়া যায় না। যা বাঙালির একটি গর্বের বিষয়। প্রতিটি ঋতুর স্বকীয় বৈশিষ্ট্য প্রকৃতিকে অনন্য রূপ দান করে। ষড়ঋতুর এই বৈচিত্র আমাদের একঘেয়েমি থেকে বেরিয়ে আসার শিক্ষা দেয়, মনকে করে তোলে শিহরিত এবং হৃদস্পন্দন জাগ্রত করে।
![received_1228701734248489.jpeg](