বাংলাদেশ একটি কৃষি প্রধান দেশ। বর্তমানে দেশেশতকরা ৬০ভাগ লোক এ পেশার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। এ দেশের বেশির ভাগ লোক গ্রামে বাস করে। আর গ্রামে অধিকাংশ লোক কৃষি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকে। অর্থাৎ কৃষির মাধ্যমেই তারা জীবিকা নির্বাহ করে। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে কৃষিখাতকে এ দেশের লোকজন কত প্রাধান্য দেয়। সুতরাং দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য কৃষিখাত ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
কৃষিজাত পণ্যের মধ্যে রয়েছে ধান, গম ,ভুট্টা , সরিষা,আলু এবং বিভিন্ন ধরনের সবজি। উপরোক্ত কৃষিজাত পণ্য গুলোর মধ্যে বর্তমানে ধান ,আলু ও বিভিন্ন ধরনের সবজি বেশি চাষ হয়। এরমধ্যে আবার ধান প্রধান ফসল। গ্রামগঞ্জের বেশিরভাগ পরিবারই ধান চাষের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। সাধারণত কৃষকরা বছরে দুইবার ধান আবাদ করে। এই দুটি মৌসুম হল ইরি এবং আমন মৌসুম। ইরি মৌসুম সেচ ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল কিন্তু আমন মৌসুম প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল।এক মৌসুমে ধান উৎপন্ন হতে সময় লাগে প্রায় চার মাস। প্রতি মৌসুমে ধান ঘরে তোলার পর গ্রামের কৃষকরা নবান্ন উৎসব পালন করে। নবান্ন উৎসবের তাদের আত্মীয়-স্বজনদের দাওয়াত করে। ধানের দুই মৌসুম এর মধ্যবর্তী অতিরিক্ত সময়ে কৃষকরা আলু ,সরিষা কিংবা সবজি আবাদ করে। যেসব এলাকায় ধানের উৎপাদন ভালো হয় না কিংবা বন্যার ছবি থাকে ওই সব এলাকায় ঘুম কিংবা ভুট্টা চাষ হয়। অর্থাৎ অঞ্চল ভেদে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন প্রকার ফসল চাষ করা হয়।এসব ফসল চাষ করে কৃষকরা জীবিকা নির্বাহ করে অর্থাৎ তাদের সংসার চালায়।
কৃষি খাতে কষ্ট বেশি হাওয়াই বর্তমানে কৃষকরা এ খাত থেকে সরে যাচ্ছে । গ্রাম গঞ্জের লোকজনও বর্তমানে শহরমুখী হচ্ছে।ফলে লোকজন কৃষি খাত থেকে খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট না হয়ে চাকরি, ব্যবসা কিংবা শিল্প খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হচ্ছে। কৃষি খাত থেকে দূরে সরে যাওয়ার আরেকটি মূখ্য কারণ হচ্ছে কৃষকদের ন্যায্যমূল্য না দেওয়া। বিভিন্ন প্রকার সিন্ডিকেট এবং দালালরা বাজার দখল করছে। এসব সিন্ডিকেট এবং দালালরা কৃষকদের ন্যায্যমূল্য না দিয়ে তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করছে। সুতরাং কৃষিখাতকে টিকিয়ে রাখতে হলে এসব সিন্ডিকেট কিংবা দালালদের চক্কর থেকে কৃষকদের রক্ষা করতে হবে। কৃষকদের ন্যায্যমূল্য আদায় সরকারি বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ এবং আমলারাই নিশ্চিত করতে পারে।