পড়া লেখার জন্য নিজ গ্রাম ছেড়ে সেই ছোটবেলায় পুরো পরিবার সমেত শহরে পাড়ি জমান হয়েছে।আমার বাবা-মা আমার ও ছোট ভাই এর ভবিষ্যৎ এর বিষয় মাথায় রেখেই বাহিরে রেখেছেন । সুতরাং ছোটবেলা থেকেই গ্রামীণ জীবনের মায়া কাটিয়ে সহুরে জীবনের সাথে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছি।
ছোটবেলা থেকে বাহিরে থাকলেও গ্রাম এর মায়া যে সম্পূর্ণ কাটিয়েছি তা নয়।গ্রাম এর প্রতি মায়া-মমতা সবসময় বিদ্যমান থাকবেই।গ্রাম এর প্রতি মায়া মমতা যে এখনও আসে তার প্রমাণ মেলে অনেকদিন পর বড় কোনো অনুষ্ঠান এ যখন বাসায় আসা হয় তখন কিযে ভালো লাগে তা বলে বোঝানো দায়।এই ভালো লাগা কাজ করে আবেগ থেকে,অন্তর থেকে।অন্য কোনো কিছুর বিনিময়ে এই ভালো লাগার অনুভূতি খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়।এটা যে শুধু আমার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য তা নয়।এটা ছোট-বড়,ধনী-গরীব,মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে সকল শ্রেনির লোকজন এর ক্ষেত্রে খাটে। সবারই নিজ গ্রাম বা শেকড় এর প্রতি মায়া-মমতা,ভালোবাসা,টান কাজ করে।বড় কোনো উৎসব এর সময় গুলোতে তার প্রমাণ হারে হারে টের পাওয়া যায়।বাস, লঞ্চ,ট্রেন এর ঘাট গুলো লোকজন দিয়ে কানায় কানায় পূর্ণ থাকে।বাড়ি ফেরার জন্য সকলের হুমড়ি খেয়ে ভিড় পড়ে।সকলের একটাই চাহিদা নিজ গ্রাম এ ফেরা।ভালোবাসা না থাকলে কেউ এতদূর থেকে ফিরে আসার জন্য এতটা উন্মাদ হয়ে থাকতো না।সকলের একটায় চাহিদা নিজ গ্রামকে এবং প্রিয়জনদেরকে একটুখানি দেখা।
নিজ গ্রাম এর প্রতি ভালোবাসা বা টান শুধু নিদৃষ্ট সময় এর জন্য না।এই ভালোবাসা আজন্ম এবং বেচে থাকার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত।বৃদ্ধ বয়সে সবাই তাদের শেষ নিঃশ্বাস নিজ গ্রাম এই ট্যাগ করতে চায়।মাতৃভূমির প্রতি এই ভালবাসা টিকে থাকুক জনম জনম ধরে।