একটি সত্যি ঘটনা।।

Words
694
Reading
4 min
Listen
Play
5y

20210611_005858.jpg
https://picsart.com/i/321728736357201
জিন,ভূত আছে কি না আমি জানিনা।তবে পবিত্র কোরআনের সূরা জিনে উল্লেখ আছে,আল্লাহ বলেছেন,কিয়ামতের দিন দুই জাতির বিচার হবে।এক মানব,দুই জিন জাতির। তাহলে জিন জাতির বলে অস্তিত্ব আছে।

প্রতিটা মানুষের জীবনে কিছু স্মরণীয় ঘটনা থাকে।আমার জীবনে সবচেয়ে খারাপ একটা স্মরণীয় ঘটনা শেয়ার করবো আপনাদের সাথে।

ঐ রাতে যে ঘটনা হয়েছে।এখনো মনে হলে গা শিহরিত হয়ে ওঠে ভয়ে।
আজ থেকে পাঁচ,ছয় বছর আগের কথা।আমি আমার বাবার বাড়িতে গিয়েছিলাম, কয়েক দিনে জন্য বেড়াতে।আমার বাবা বেঁচে থাকা অবস্থায়,আমি আমার বাবার বাড়িতে বেশি থাকতাম।আমার বাবার বাড়ি বলতে গেলে একবারে গ্রাম সাইটে।
যাদের গ্রামে বাড়ি তারা বলতে পাবেন।
গ্রামে বাড়িতে রাত দশটা বাজলে যেনো অনেক রাত মনে হয়।রাত দশটার পর থেকে মানুষের, চলাফেরা কমে যাই,যে যার ঘরে চলে যাই।
রাত এগারোটা পর মানুষের সারা,শব্দ বন্ধ হয়ে যাই।ঝিঝি পোকার শব্দ ছাড়া আর কিছু কানে আসবে না।চারিদিকে শুধু অন্ধকার আর অন্ধকার।
আমাদের বাড়ি গেইট সব সময় আমার বাবা রাত দশটার পর নিজে বন্ধ করতো। কিন্তুু সেই দিন রাতে আমার বাবা তারাতারি ঘুমিয়ে পরেছিলো, তাই গেইট বন্ধ করার জন্য আমার সেজো বোন কে বলি তুই গিয়ে গেই বন্ধ করে আসনা।
কারণ আমার মা রাগ হয়ে কিছুক্ষণ পর পর কানের সামনে এসে ঘেনঘেন করছে গেইট বন্ধ করার জন্য।

জানেন আমার শশুর বাড়িতে রাতে বাইরে যেতে ভয় লাগে না। কিন্তুু আমার বাবার বাড়িতে রাতে ঘর থেকে বের হতে খুব ভয় লাগে।আর গেইট বন্ধ করা আমার পক্ষে সম্ভব না।আমি খুব ভয় পাই রাতে আমার বাবার বাড়িতে,তাই বোনকে বলেছি।আমার বোন তেমন ভয় পাইনা,আমার বোন গেইট বন্ধ করতে যাচ্ছে। আমি আমার বোনকে বলি আমি ঘরের দরজা সামনে দাড়ায় তুই যা গেট বন্ধ করতে আমার বোন বলে তোমার দাড়াতে হবে না।আমার বোন আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করছে তোমার মত এতো ভীতু নাকি আমি।আমার বোন গেইটের কাছে যাওয়ার পর আমার মেয়ে হটাৎ গুম থেকে কান্না করে উঠে।আমার মেয়েকে কোলে নিয়ে দরজার সামনে এসে দাড়ালাম।আমার সেজো বোনকে গেইটের সামনে দেখছি না প্রথমে খুব ভয় পেয়ে যাই।ভালো করে দেখি গেইটের দরজা খোলা কিন্তুু আমার বোন নাই।হটাৎ আমার বোনের পায়ে যে জুতা ছিলো পিচঢালা রাস্তায় ওর জুতার আওয়াজ আমার কানে লাগছে মনে হচ্ছে আমার বোন দৌড়াচছে।মানুষ দৌড়ালে যে রকম আওয়াজ হয় সেই রকম তিন,চারটা আওয়াজ শুনে তারপর আর আওয়াজ বন্ধ।আমি দরজায় দাড়িয়ে আমার বোনে নাম দরে খুব জুড়ে জুড়ে ডাক ছিলাম।একটা ডাকে আমার বোনের গোঙ্গানোর আওয়াজের মত লাগছিলো, তখন আমি জুড়ে ডাকছিলাম।আমার ডাকে আমার বাবা গুম থেকে উঠে যাই।আমাকে বলে কি হয়েছে আমার বাবাকে সব বললাম।আমার বাবা শুনে টর্চলাইট হাতে নিয়ে দেখে টর্চলাই সমস্যা করছে।আমি আমার মোবাইলের লাইট জালিয়ে আমাদের গেটের সামনে রাস্তায় আমি আমার আববু ওর নাম ধরে ডাকছি কিন্তুু ওর কোনো আওয়াজ শুনছিনা দুই মিনিটের মধ্যে আমার বোন মনে হয় উধাও হয়ে গেছে।আমাদের ডাক শুনে পাশের বাড়ির মানুষ জন ঘুম থেকে উঠে যাই।ওরা আমাদের সাথে খুজতে শুরু করে।আমাদের এলাকার যেই রাস্তা ছিলো প্রতি রাস্তায় মানুষ পাঠিয়েছে দেখতে।আমার বোনের কোনো খুজ পাচ্ছি না আমরা সবাই কান্না শুরু করে দিয়েছি,তখন রাত বারোটা বাজে।কেউ বলে পুলিশের কাছে যাও আবার কেউ বলে আমাদের গ্রামের একজন ভালো হুজুর ওনার কাছে যেতে।কি করবো বুঝতে পারছিনা।হটাৎ অনেক দূর থেকে কুকুর ডাকেছে আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিলাম আমরা।আমাদের বাড়ি থেকে দূরে, ধান ক্ষেতের জমি টর্চলাইট দিয়ে দেখে আমার চাচা,মানুষের মত ছোট ছোট ধান গাছ রোপণ করেছে।ঐ ক্ষেতের অলপ পানিতে কাদার মধ্যে কিসে যেনো মানুষটার মাথা কাদার মধ্যে চাপ দিয়ে ধরে আবার তুলেছে এইটা দেখে আমার চাচা চিৎকার করে বলে বড় ভাই আমাদের শিখাকে মেরে ফেলছে,আমার বোনের নাম শিখা।এই কথা শুনে বাড়ির ছেলেরা আমার চাচা এবং আমার বাবা টর্চলাইট নিয়ে দৌড়ে যাই,গিয়ে দেখে আমার বোন।সবাই ধরে আমার বোনকে ঘরে আনে।আমার বোন মৃত প্রায় পুরো শরীরে ফ্যাকাশে সাদা হয়ে গিয়েছে,চিকন নখের আচড়ের মত দাগ পুরো শরীরে ।সবাই যখন আমার বোনকে ঘরে নিয়ে আসে আমি আমার বোনের কপালে হাত দিয়ে দেখি ঠাণ্ডা হয়ে আছে কপা এবং পুরো শরীর ।আমার বোন খুব সুন্দরী ছিলো,ওর মুখে শরীরে চিকন চিকন আচড়ের দাগ লাল হয়ে রক্ত ঝরছিলো।আচড়ের দাগ গুলো কোনো মানুষের নখের আচড়ের মত লাগছিলো না।
আমার বোনের দশ মিনিট পর জ্ঞান ফিরে আসলে,ও আমাদের সবাই কে বলে আমি যখন গেইট বন্ধ করতে গিয়েছিলাম। রাস্তায় অন্ধকারে মানুষ মত দেখতে পেয়ে ভয়ে দৌড়ে ঘরে আসতে চাই কিন্তুু এরপর কি হয়েছে ও আর কিছু বলতে পারে না।
আসলে ঐ রাতে কি হয়েছিলো,আমি এখনো বুঝে উঠতে পারিনা।আমার চোখের সামনে থেকে আমার বোনকে ধান ক্ষেতে নিয়ে গেছে কে এবং কিভাবে?
তবে আমার বাবা,চাচা,এবং গ্রামের বুড়োদের মুখ থেকে শুনেছি এই রকম ঘটনা আরো একবার হয়েছিলো অনেক বছর আগে আমাদের গ্রামে।

ধন্যবাদ, সবাই ভালো থাকবেন।।।