প্রত্যেকেই প্রবাসীদের ঠকাতে পছন্দ করে /Everyone likes to cheat expatriates
https://unsplash.com/collections
পুরুষ মানুষ একটু শক্ত মনের হয়ে থাকে,তারা সহজে কান্না করতে পারে না। হাজারো মনে দুঃখ কষ্ট থাকলেও তারা সেই ব্যথা কাউকে বুঝতে দেয় না।নিরবে সব কিছু মনের মধ্যে রেখে শয়ে যায়।আর পুরুষ মানুষ ভেঙ্গে পড়লে কি হয়?প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদেরকে শক্ত হয়ে চলতে হবে, শক্ত মন মানসিকতা না থাকলে কি পুরুষ মানুষ বলা যায়? তাইতো নিজের দেশ ছেড়ে মা-বাবা ভাই-বোন প্রিয়তমা স্ত্রী, আদরের সন্তানকে ফেলে ভিনদেশে চলে যায় মনকে শক্ত করে। বিনিময় একজন প্রবাসী তার জীবনে কি পেয়েছে?
আমার খুব পরিচিত মানুষ আলী আজগর ভাই, উনাকে আমি খুব ভালো করে চিনি, তিনি আমার বয়সে অনেক বড়।আমি ওনাকে পছন্দ করি একটা ভালো মানুষ হিসেবে।
সহজ-সরল এবং পরিশ্রমী একজন মানুষ।তিনি তার ভাইবোনদের মধ্যে সবার বড়, বাবা অল্প বয়সে মারা যাওয়ার কারণে তাকে অল্প বয়সে সংসারের হাল ধরার জন্য বিদেশে চলে যেতে হয়েছে। তিনি ছিলন সংসারের একমাত্র উপার্জন করার মানুষ।
তিনি প্রথমে প্রবাসে গিয়ে অনেক কষ্ট করেছে,কষ্ট করার পর ও নিজে না খেয়ে তার ছোট ভাই বোন এবং মায়ের জন্য টাকা-পয়সা পাঠিয়েছে। বোনদের মানুষ করেছে উনার উপার্জিত টাকায় এবং সংসারের উন্নতি ঘটিয়েছে তার উপার্জনের টাকায়। ছোট বোনদের বিয়ে দিয়েছে,ভাইকে ভালো একটি চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছে আলী আজগরের টাকার মাধ্যমে।
এবার আলি আজগর ভাইয়ের পালা। আলি আজগর ভাইয়ের মা প্রতিনিয়ত আলী আজগর ভাইকে বলে
তুই তো তোর ভাই বোনদের মানুষের মত মানুষ করেছিস? এবার তো তোকে সংসার করতে হবে তোকে বিয়ে করতে হবে। মায়ের কথা শুনে আলী আজগর ভাই প্রথমে রাজি হয়নি, কারণ আলী আজগর ভাই মনে করত তিনি বিয়ে করলে তার বউ তার ভাই বোন মায়ের কাছ থেকে আলাদা করে ফেলবে তাকে। সেই ভয়ের কথা তার মাকে খুলে বলে।তার কথা শুনে হেসেছিল তার মা।তার মা বলে বাবা যদি সবাই এমন চিন্তা করত তাহলে মানুষ বিয়ে করত না। মেয়েরা তো সব এক হয় না তাই না?
মায়ের কথা শুনে আলী আজগর ভাই বিয়ে করতে রাজি হয়। দেশে আসলে তাকে তার ভাইবোন মা এবং সমাজের মানুষ ধুমধাম করে বিয়ে করায়। ভাই অনেক সুন্দর মেয়েকে বিয়ে করে, অনেক খুশি ছিলেন আলী আজগর ভাই।তার বউ তার মায়ের সাথে এবং ভাই-বোনদের সাথে অনেক ভালো ছিলেন। এলাকার সবাই আলি আজগর ভাইয়ের বউয়ের সুনাম করত।
আলি আজগর ভাইয়ের মা ছেলের বউয়ের জন্য তার জীবনটা দিয়ে দিতে পারে। এত ভালবাসত আলি আজগর ভাইয়ের বউকে নিজের মেয়ে মনে করতেন ছেলে বউ মনে করতেন না।ভালোই দিন যাচ্ছিল আলি আজগর ভাইয়ের। ছুটি শেষ হয়ে যায় আলী আজগর ভাই টেরই পেলেন না। কখন যে মাস চলে গেল।প্রবাসে যাওয়ার সময় বউকে তার মায়ের কাছে রেখে যান।
আলী আজগর ভাই তার মায়ের জন্য টাকা পাঠায় এবং তার বউয়ের ব্যাংকে টাকা পাঠায়। এভাবে চলতে থাকে অনেকদিন হঠাৎ একদিন আলি আজগর ভাইয়ের বউ বলে,তোমার মায়ের কাছে সংসারের খরচের টাকা দাও বাকি টাকা আমার কাছে পাঠাও, আমি তোমার জন্য জমিয়ে রাখব। তোমার মায়ের কাছে দিলে তোমার মা তোমার ভাই বোনদের দিয়ে শেষ করে ফেলবে তোমার টাকা।
লেখার বাকি অংশ টি পড়ার জন্য অনুরোধ রইল।
ধন্যবাদ