আসালামুআলাইকুম,
প্রতিটা মানুষ চাই বেঁচে থাকতে।হয়ত কোন কারণ বশত পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে যেতে হয়।মৃত্যু অবধারিত না হলেও জীবনকে মানুষ এত ভালবাসত না।রোগজরা, দুঃখ-দুর্দশা মেনে নিয়েও পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে চাই।প্রতিটা মৃত্যু বেদনাদায়ক তারপরেও মেনে নিতে হয়। তবে সে মৃত্যু হয় যদি আকস্মিক ও অস্বাভাবিক মৃত্যু বা অপমৃত্যু। যে মৃত্যুর জন্য মানুষে প্রস্তুত থাকে না।সে মৃত্যুকে মানুষে সহজে মেনে নিতে পারে না।
তানিয়ার মৃত্যু আমি এখনো মেনে নিতে পারছিনা।
তানিয়া, হা তানিয়া আমার খুব কাছের বন্ধু বলেন বোন বলেন সবই যেন তানিয়া। তানিয়ার সাথে স্কুল জীবন পার করেছি একসাথে কলেজ জীবনটাও একসাথে ছিলাম। হঠাৎ কি হল নিজেও বুঝতে পারলাম না।চোখের সামনে সব কিছু যেনো এলোমেলো হয়ে গেল। খুব শান্ত প্রকৃতির মেয়ে তানিয়া। খুব ভালো করে চিনি তানিয়াকে আমি।
।তানিয়ার বাবা-মা দুজনেই ডাক্তার।তানিয়া তার বাবা-মার একমাত্র সন্তান।টাকা পয়সার কোন অভাব ছিল না তানিয়াদের। ধনীর দুলালী বটে তানিয়া। তবে তার মধ্যে অহংকার এক ফোটা ছিল না তানিয়ার। বাবা-মার খুব আদরের সন্তান তানিয়া। বাবা-মার কাছে যখন যেটা চায়ত তখন সেটা পেয়ে যেত তানিয়া।
তানিয়ার খুব ইচ্ছে ছিল বাবা-মার মত ভালো একটা ডাক্তার হবে। ডাক্তার হয়ে গরীব-দুঃখীকে সেবা করবে। তানিয়াকে ছোট থেকে দেখছি অসহায় গরিবদের প্রতি তার একটা আলাদা মায়া রয়েছিল কিন্তুু তানিয়ার সেই ইচ্ছেটা ইচ্ছে রয়ে গেল ।
কারণ তানিয়া তার বেডরুমে ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে খুন করা হয়েছে। আমি শুনে অবাক, কারণ তানিয়া আর পাঁচটা মেয়ের মতো না সে একদম আলাদা অন্যরকম একটা মেয়ে।যেদিন তানিয়া খুন হবে সেদিন তার জন্মদিন ছিল। তার বাবা তাকে একটা ডিজিটাল ক্যামেরা গিফট করলো। তানিয়ার খুব শখ ছিল ডিজিটাল ক্যামেরার তার বাবাকে অনেক আগে বলেছিল।
সেই কথাটি তার বাবা মনে রেখেছে তাই তার জন্মদিনে গিফট করেছিল। আর এই গিফ্ট পেয়ে আমাদের অনেক ছবি তুলেছে তানিয়া এবং আমরাও তানিয়াকে নিয়ে অনেক ছবি তুলেছি এই ডিজিটাল ক্যামেরায় দিয়ে।সব বান্ধবীরা মিলে তার জন্মদিনে খুব আনন্দ করেছি। রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষ করে যে যার ঘরে চলে এসেছি। পরের দিন সকালে শুনি এই অবস্থা তানিয়া আর পৃথিবীতে নেই।তাকে বিভৎসভাবে হত্যা করা হয়েছে।
কে বা কারা তানিয়াকে খুন করেছে,এই প্রশ্নের উত্তর নেই কারো জানা। পুলিশ এসেছে তাদের রুমের সব আলামত সংগ্রহ করেছে।
পুলিশের প্রশ্ন,
তানিয়ার বাবা-মাকে কে জিজ্ঞেস করছে কখন এবং কি অবস্থায় তানিয়াকে আপনারা দেখেছেন।
তানিয়ার মা,
সবার মধ্যে থেকে তানিয়ার মা বলছে তানিয়া সব সময় সকালে ঘুম থেকে উঠে। আমি যখন ঘুম থেকে উঠি তখন প্রায় দশটা বাজে। তখন দেখি তানিয়ার রুমের দরজা বন্ধ।তখন আমি চিন্তা করি তানিয়া এতক্ষন ঘুমায় না।তানিয়াকে ডাকার জন্য তার দরজায় নক করলাম। কিন্তু ভেতর থেকে তার দরজার লক খোলা ছিল।তাই আমি রুমে গিয়ে ডাক দিলাম। দেখি তানিয়া শুয়ে আছে পাশে তার বিছানায় কলেজের ব্যাগ ছিল। কলেজের ব্যাগটি হাতে নিচ্ছি আর বকাঝকা করছিলাম।তারপর বলার ভাষা নেই আমার। দেখি তানিয়ার গলাকাটা অবস্থায় বিছানায় শুয়ে আছে।তার বালিশ রক্তে ভিজে ছিল।
পুলিশ আপনি আমার মেয়ের হত্যাকারীকে খুঁজে বের করে বিচার করবেন। এই বলে তানিয়ার মা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছিল। আর তানিয়ার বাবা তো তানিয়াকে হারিয়ে প্রায় পাগলের মতো হয়ে গিয়েছে। কারণ তানিয়ার বাবা তানিয়াকে খুব ভালোবাসতো। তানিয়ার বাবার জীবন ছিল তানিয়া।
কিন্তু সবাই বলছে আসলে তানিয়াকে কেউ মারে নেই।কারণ তাদের ঘরে তো কেউ যেতে পারবে না। তাদের ঘরে যাওয়ার জন্য দারোয়ানের পারমিশন লাগে। তাহলে এই হত্যাটা তাদের ঘরের মানুষ ছাড়া কেউই করেনি।
সবাই বলছে তার বাবা মা তাকে হত্যা করেছে সেটা আমি বিশ্বাস করিনা। তানিয়ার বাবা-মা তানিয়ার জন্য তাদের জীবনটা দিয়ে দিতে পারে সেই বাবা-মা কিভাবে তানিয়াকে খুন করবে?
তানিয়া তার বাবা-মার একমাত্র বেঁচে থাকার অবলম্বন।
পুলিশও অনেক মাস তদন্ত করে কোনো তথ্য পায়নি আসলে তানিয়াকে কে খুন করেছিল। তারপর পুলিশ তানিয়ার কিসের ফাইল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হল।
তানিয়ার খুন হওয়ার পর তার বাবা-মা দুজনেই পাগল প্রায়। এখনো আমি তানিয়াকে স্বপ্ন দেখি।
তানিয়া স্বপ্নে এসে বলে অনিতা আমার মৃত্যুর কি কোন বিচার হবে না?আমাকে কে খুন করেছে তাদের কি বিচার হবে না বল?আমি কি অপরাধ করেছি তোদের মত আমিও এই সুন্দর পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে চেয়েছিলাম কিন্তু কেন আমাকে অপমৃত্যু বরণ করতে হলো।
তানিয়ার জন্য খুব খারাপ লাগে সুখে দুঃখের বন্ধু ছিলাম আমরা দুইজন।
আমাদের পৃথিবীতে অনেক অপমৃত্যু ঘটনা হচ্ছে। যার কোন প্রমাণ আজও অব্দি মেলে নিই।কেন খুন করা হয়েছে কিভাবে খুন করা হয়েছে? তানিয়ার মতো সবার অপমৃত্যু একসময় পুলিশের ফাইল থেকে মুছে ফেলা হবে।
কিন্তু তানিয়ার এরকম মৃত্যু আমার কখনো কাম্য ছিলনা।
ধন্যবাদ, আমার লেখা টি এতক্ষন সময় ধরে পড়ার জন্য।